০৭:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ডে-কেয়ার সেন্টার দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অপরিহার্য: ডা. জুবাইদা রহমান জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের প্রতিনিধিদল ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রী নিজের বেতনের ১০% সরকারি কোষাগারে দিচ্ছেন বাংলা একাডেমিতে সর্বস্তরের শ্রদ্ধায় আবুল কাশেম ফজলুল হককে শেষ বিদায় ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ জানালেন নিরাপত্তা কৌশল যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে: প্রধানমন্ত্রী ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপন্ন ঢাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করলেন জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ স্মারক ডাকটিকিট সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জুলাইয়ের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়: প্রধানমন্ত্রী

দমন-পীড়ন ও বৈষম্য আরও তীব্র হয়েছে: জিএম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, বর্তমান সরকার গতকালের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পথে হাঁটছে এবং দেশে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, দমন-পীড়ন ও বৈষম্য আরও তীব্র হয়েছে। তিনি বলেছেন, যদি সরকার দ্রুত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও সংবিধিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি-২০২৬’ পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একটি আন্তর্জাতিক থিঙ্ক ট্যাংকের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, জনমতের ওপর ভিত্তি করে গঠিত সরকারও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার গ্যারান্টি নয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্রিত করতে না পারলে এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে গুরুত্ব না দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ দিকে যেতে পারে।

তিনি বলেন, গত জুলাই মাসে যে বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের চেতনা দেখা দিয়েছিল, এখন সেটার প্রতিফলন রাষ্ট্র পরিচালনায় নেই; বরং সেই নামে নতুনভাবে বৈষম্য ও দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত পোষণকারীদের রাস্তাঘাটে হেনস্থা, হাট-বাজারে বাধা দেওয়া এবং আইন প্রয়োগ করে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা—এসবকেই তিনি ф্যাসিবাদী মনোভাব বলে অভিহিত করেন।

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ইস্যুতে জিএম কাদের বলেছেন, শুধু কোনো একটি দলকে বাদ দিলেই দেশে স্থিতিশীলতা আসে না। বরং রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাটাই সময়ের দাবী। জনগণ ও রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সুযোগ-অধিকার নিশ্চিত না করলে সংকট বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, দেশের জনজীবন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তি দেখে চলেছেন এবং এর দায় সরকার এড়াতে পারে না। তরুণ সমাজ ব্যাপকভাবেই হতাশাগ্রস্ত; তাদের কাছে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নেই, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তাদের মাদকাসক্তি ও অপরাধের দিকে ধাবিত করছে।

জিএম কাদের বিচার বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে অকার্যকর করে ফেলার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান ছাড়া গণতন্ত্রের প্রাক্তন ও আইনি রক্ষার পথও দুর্বল হয়ে পড়ে।

সমাপ্তিতে তিনি দ্রুত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি, সংবিধান রক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান। না হলে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে শান্তিপূর্ণ সমাধান পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের প্রতিনিধিদল ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

দমন-পীড়ন ও বৈষম্য আরও তীব্র হয়েছে: জিএম কাদের

প্রকাশিতঃ ০২:২৬:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, বর্তমান সরকার গতকালের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পথে হাঁটছে এবং দেশে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, দমন-পীড়ন ও বৈষম্য আরও তীব্র হয়েছে। তিনি বলেছেন, যদি সরকার দ্রুত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও সংবিধিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি-২০২৬’ পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একটি আন্তর্জাতিক থিঙ্ক ট্যাংকের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, জনমতের ওপর ভিত্তি করে গঠিত সরকারও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার গ্যারান্টি নয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্রিত করতে না পারলে এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে গুরুত্ব না দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ দিকে যেতে পারে।

তিনি বলেন, গত জুলাই মাসে যে বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের চেতনা দেখা দিয়েছিল, এখন সেটার প্রতিফলন রাষ্ট্র পরিচালনায় নেই; বরং সেই নামে নতুনভাবে বৈষম্য ও দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত পোষণকারীদের রাস্তাঘাটে হেনস্থা, হাট-বাজারে বাধা দেওয়া এবং আইন প্রয়োগ করে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা—এসবকেই তিনি ф্যাসিবাদী মনোভাব বলে অভিহিত করেন।

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ইস্যুতে জিএম কাদের বলেছেন, শুধু কোনো একটি দলকে বাদ দিলেই দেশে স্থিতিশীলতা আসে না। বরং রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাটাই সময়ের দাবী। জনগণ ও রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সুযোগ-অধিকার নিশ্চিত না করলে সংকট বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, দেশের জনজীবন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তি দেখে চলেছেন এবং এর দায় সরকার এড়াতে পারে না। তরুণ সমাজ ব্যাপকভাবেই হতাশাগ্রস্ত; তাদের কাছে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নেই, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তাদের মাদকাসক্তি ও অপরাধের দিকে ধাবিত করছে।

জিএম কাদের বিচার বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে অকার্যকর করে ফেলার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান ছাড়া গণতন্ত্রের প্রাক্তন ও আইনি রক্ষার পথও দুর্বল হয়ে পড়ে।

সমাপ্তিতে তিনি দ্রুত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি, সংবিধান রক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান। না হলে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে শান্তিপূর্ণ সমাধান পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।