বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে বৈশ্বিকভাবে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ ও প্রযুক্তি আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বিজিএমইএ ও ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (ওকাইব) মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে উভয় পক্ষই শিল্পের সংস্কার এবং নতুন যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করে।
বিজিএমইএ-র সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান সভার সভাপতিত্ব করেন। সংগঠনের সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, ভিদিয়া অমৃত খান ও মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ওকাইবের পক্ষ থেকে সভাপতি ফেলিক্স চ্যাং (ওয়াই সি) নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
সভায় মূলত বাংলাদেশের পোশাক খাতে চীনা বিনিয়োগের সম্ভাব্য নতুন ক্ষেত্রগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় বন্ধ বা রুগ্ণ হয়ে পড়া কারখানা পুনরায় চালু করা, যৌথ মালিকানায় নতুন প্রকল্প গড়ে তোলা এবং ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা ও যোগ্যতা বাড়ানোর ওপর। উভয় পক্ষই মনে করে অভিজ্ঞ দেশীয় উদ্যোক্তা ও বিদেশি মূলধন মিলিয়ে শিল্পে নতুন গতি আনা সম্ভব।
বৈঠকে ব্যবসায়িক পরিবেশে কাস্টমস ও বন্ড সংক্রান্ত দীর্ঘসূত্রতা একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ওকাইবের প্রতিনিধিরা জানান, যন্ত্রপাতি আমদানি ও পণ্য খালাসের জটিলতা বিনিয়োগকারীদের অনুপ্রাণিত করছে। এই সমস্যা সমাধানে একক-দরজা (ওয়ান-স্টপ) সার্ভিস চালু করা এবং শুল্কায়ন ও খালাস প্রক্রিয়া সরল করার দাবি জানান তারা।
অপরদিকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পায়নের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সার্কুলার ফ্যাশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার এবং কার্বন নির্গমন হ্রাসে চীনের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর মতামত আসে। কিছু চীনা বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে কার্বন ট্রেডিং ও related হাই-টেক সমাধানে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
উৎপাদনশীলতা বাড়াতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়। বিশেষত সোয়েটার শিল্পে পুরনো জ্যাকার্ড মেশিন বদলে আধুনিক প্রযুক্তির মেশিন নিয়ে আসার জন্য ওকাইব একটি ‘বিনিময় নীতি’ প্রস্তাব করে যাতে পুরনো মেশিনের বিনিময়ে নতুন মেশিন সরবরাহ করা যায়। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রশাসনিক ও কাস্টমস সংক্রান্ত বাধা নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জবাবে বিজিএমইএ নেতারা আশ্বস্ত করে জানান, তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেবেন। তারা মনে করেন, যারা উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরির দিকে ধাবিত হচ্ছেন, তাদের জন্য চীনের কারিগরি সহায়তা ও বিনিয়োগ অত্যন্ত মূল্যবান হবে।
ওকাইবের সভাপতি ফেলিক্স চ্যাং বাংলাদেশের শিল্প খাতের ধারাবাহিক অগ্রগতি প্রশংসা করে ভবিষ্যতে দুই পক্ষের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, এ সংলাপ থেকে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান এই খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে এবং শিল্পে টেকসই উন্নয়নের পথ তৈরী হবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























