শনিবার সেন্টার কোর্টে এক দমবন্ধ করা ফাইনালে স্বদেশি ক্যারোলিনা মুচোভাকে হারিয়ে উইম্বলডনের শিরোপা জিতে নিয়েছেন চেক প্রজাতন্ত্রের লিন্ডা নসকোভা। দু’ঘণ্টা ২৮ মিনিটের থ্রিলারে তিনি ৬-২, ৫-৭, ৬-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লামের স্বাদ পেয়েছেন।
এই ধরনের অর্জনের মাধ্যমে নসকোভা গত চার বছরের মধ্যে তৃতীয় চেক নারী হিসেবে উইম্বলডনের ভেনাস রোজওয়াটার ডিশ নিজের করে নিলেন; আগে ২০২৩ সালে মার্কেতা ভনদ্রুসোভা এবং ২০২৪ সালে বারবোরা ক্রেচিকোভা এই ট্রফি জিতেছিলেন।
ফাইনালটা ছিল নাটক ও আবেগে ভরা। প্রথম সেটটি সহজে ৬-২ ব্যবধানে জয় করলেও দ্বিতীয় সেটে নসকোভা শিখরে পৌঁছে গেলেও জিততে পারেননি। মুচোভা যখন সার্ভিং করছিলেন, তখন একের পর এক চারটি ম্যাচ পয়েন্ট নসকোভা হাতছাড়া করেন। পরের দিকে নিজের সার্ভেই এসে পঞ্চম ম্যাচ পয়েন্টটিও ডাবল ফল্ট ও কয়েকটি ভুলের কারণে নষ্ট হওয়ায় তিনি আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন; তোয়ালে দিয়ে মুখ ঢেকে কাঁদতে দেখা যায় তাঁকে। দ্বিতীয় সেট মুচোভা ৭-৫ গেমে জিতে সমতা ফেরালে নসকোভা কোর্ট ছেড়ে ড্রেসিংরুমে যান।
কিন্তু ফিরে এসে দ্বিতীয় দিনের মতো তৃতীয় সেট শুরুতেই প্রতিপক্ষের সার্ভ ব্রেক করে নসকোভা খেলায় ফিরে আসেন এবং ধারাবাহিক, নিখুঁত টেনিস চালিয়ে শেষ পর্যন্ত শিরোপা নিশ্চিত করেন।
এই জয়ে ২১ বছর বয়সী নসকোভা গত ১৫ বছরে উইম্বলডন জিতেছেন এমন সর্বকনিষ্ঠ নারী খেলোয়াড় হিসেবে একটি নজির গড়েছেন। কাকতাল্যে ২০১১ সালে পেত্রা কভিতোভা ঠিক একই বয়স—২১ বছর—থাকতেই নিজের প্রথম উইম্বলডন জিতেছিলেন; এদিন কভিতোভাও রয়্যাল বক্সে বসে এই জয়ের সাক্ষী ছিলেন।
এছাড়া টুর্নামেন্ট চলাকালে নসকোভা তৃতীয় রাউন্ডে সোরানা কিসরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে পরবর্তীতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল কীর্তি গড়েন—উইম্বলডনের ইতিহাসে ভেনাস উইলিয়ামস (২০০৫) ও সেরেনা উইলিয়ামস (২০০৯) পর মাত্র তৃতীয় নারী হিসেবে তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন।
নসকোভার এই সাফল্যের পেছনে আছে এক আবেগঘন গল্পও। ২০২৪ সালের উইম্বলডনে তিনি অংশ নিয়েছিলেন মায়ের ক্যানসারের পরে মৃত্যু—একটি জীবনের অন্যতম কঠিন ও বেদনাদায়ক সময়ের ঠিক পরপরই। সেই কঠিন অধ্যায় পার করে ঠিক দুই বছর পর ঐ একই ঘাসের কোর্টে তিনি নিজের জীবনের অন্যতম মধুর ও শ্রেষ্ঠ অর্জনটা হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছেন।
ফাইনালের সেই মুহূর্তগুলো, আবেগের উত্থান-পতন এবং অবশেষে জয়—সব মিলিয়ে নসকোভার এই ট্রফি শুধু একটি খেলার সাফল্য নয়, তা একজন তরুণ খেলোয়াড়ের সংগ্রাম, ধৈর্য ও প্রত্যাবর্তনের প্রতীকও হয়ে থাকবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























