১০:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

রোমের খোলা আকাশে ‘দেলুপি’ প্রদর্শনী

গত বছর দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের প্রথম ছবি ‘দেলুপি’ দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সমাদৃত হওয়ার পরে এবার ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত ‘কারাওয়ান ফেস্টিভ্যাল’-এ ছবিটি অংশ নেয়। উৎসবের উদ্বোধনী ছবি হিসেবে ‘দেলুপি’ প্রদর্শিত হওয়ার পাশাপাশি ফেস্টিভ্যালের মূল পোস্টারেও ছবিটির একটি দৃশ্য স্থান করে নেয়—বাংলা সিনেমার জন্য এটি অনন্য সম্মান হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

রোমের পিগনাতারা প্রাঙ্গণের খোলা মাঠে ছবিটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তাজা বাতাস ও উন্মুক্ত আকাশের নিচে দর্শকরাও উৎসবে অন্যরকম উচ্ছ্বাস দেখান। এই দৃশ্য নির্মাতা তাওকীরকে খুলনায় করা বিশেষ প্রদর্শনীর কথা মনে করিয়ে দেয়—কারণ ‘দেলুপি’র শুটিং হয়েছিল খুলনার দেলুটি গ্রামে এবং ছবিতে স্থানীয় মানুষরাই অভিনয় করেছিলেন। সেই সময়ে কালীনগর দারুণ মল্লিক স্কুলের মাঠে আকাশের নিচে আয়োজিত উন্মুক্ত প্রদর্শনীতে অসংখ্য মানুষ উপস্থিত ছিলেন, যা নির্মাতার জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা ছিল।

রোমেও একইরকম উচ্ছ্বাস দেখা গেল; বহু বিদেশি দর্শক আগ্রহ নিয়ে সিনেমাটি উপভোগ করেন। উৎসবে নির্মাতা তাওকীর ইসলাম সশরীরে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রদর্শনীর পরে উপস্থিত দর্শকের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, রোমের এই আয়োজন খুলনার প্রিমিয়ারের স্মৃতি জাগিয়ে তুলেছে।

‘দেলুপি’র আন্তর্জাতিক সাফল্যের সরসরতি আরও শক্ত হয়েছে—সম্প্রতি এই ছবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলিউডের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার অনুরাগ কাশ্যপ। অনুরাগ কাশ্যপ এখন থেকে ছবিটির আন্তর্জাতিক নিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, যা ছবিটির বৈশ্বিক প্রদর্শন ও পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেবে।

অল্প বাজেটের একটি স্থানীয় গল্প হিসেবে শুরু হলেও ‘দেলুপি’ আন্তর্জাতিক মঞ্চে যে স্বীকৃতি পাচ্ছে, তা বাংলাভাষী সিনেমার জন্য বড় ধরনের অর্জন। নির্মাতারা ও শিল্পী-সম্প্রীতির এই যাত্রা ভবিষ্যতে আরও বহুলমান প্রদর্শনী ও স্বীকৃতিতে পরিণত হবে—এটাই দর্শকদের প্রত্যাশা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

রোমের খোলা আকাশে ‘দেলুপি’ প্রদর্শনী

প্রকাশিতঃ ০২:২১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

গত বছর দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের প্রথম ছবি ‘দেলুপি’ দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সমাদৃত হওয়ার পরে এবার ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত ‘কারাওয়ান ফেস্টিভ্যাল’-এ ছবিটি অংশ নেয়। উৎসবের উদ্বোধনী ছবি হিসেবে ‘দেলুপি’ প্রদর্শিত হওয়ার পাশাপাশি ফেস্টিভ্যালের মূল পোস্টারেও ছবিটির একটি দৃশ্য স্থান করে নেয়—বাংলা সিনেমার জন্য এটি অনন্য সম্মান হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

রোমের পিগনাতারা প্রাঙ্গণের খোলা মাঠে ছবিটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তাজা বাতাস ও উন্মুক্ত আকাশের নিচে দর্শকরাও উৎসবে অন্যরকম উচ্ছ্বাস দেখান। এই দৃশ্য নির্মাতা তাওকীরকে খুলনায় করা বিশেষ প্রদর্শনীর কথা মনে করিয়ে দেয়—কারণ ‘দেলুপি’র শুটিং হয়েছিল খুলনার দেলুটি গ্রামে এবং ছবিতে স্থানীয় মানুষরাই অভিনয় করেছিলেন। সেই সময়ে কালীনগর দারুণ মল্লিক স্কুলের মাঠে আকাশের নিচে আয়োজিত উন্মুক্ত প্রদর্শনীতে অসংখ্য মানুষ উপস্থিত ছিলেন, যা নির্মাতার জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা ছিল।

রোমেও একইরকম উচ্ছ্বাস দেখা গেল; বহু বিদেশি দর্শক আগ্রহ নিয়ে সিনেমাটি উপভোগ করেন। উৎসবে নির্মাতা তাওকীর ইসলাম সশরীরে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রদর্শনীর পরে উপস্থিত দর্শকের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, রোমের এই আয়োজন খুলনার প্রিমিয়ারের স্মৃতি জাগিয়ে তুলেছে।

‘দেলুপি’র আন্তর্জাতিক সাফল্যের সরসরতি আরও শক্ত হয়েছে—সম্প্রতি এই ছবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলিউডের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার অনুরাগ কাশ্যপ। অনুরাগ কাশ্যপ এখন থেকে ছবিটির আন্তর্জাতিক নিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, যা ছবিটির বৈশ্বিক প্রদর্শন ও পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেবে।

অল্প বাজেটের একটি স্থানীয় গল্প হিসেবে শুরু হলেও ‘দেলুপি’ আন্তর্জাতিক মঞ্চে যে স্বীকৃতি পাচ্ছে, তা বাংলাভাষী সিনেমার জন্য বড় ধরনের অর্জন। নির্মাতারা ও শিল্পী-সম্প্রীতির এই যাত্রা ভবিষ্যতে আরও বহুলমান প্রদর্শনী ও স্বীকৃতিতে পরিণত হবে—এটাই দর্শকদের প্রত্যাশা।