০৭:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বর্জ্য থেকেই বিদ্যুৎ ও ইকো পণ্য: ঢাকায় দুই বড় প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী: জলাবদ্ধতায় জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয় চীফ হুইপ নূরুল ইসলামের গভীর শোক প্রকাশ — ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে সরকার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতায় বন্যার্তদের পাশে সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন আর নেই ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী গভীর শোক প্রকাশ সরকারি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের চাকরিজীবীদের জন্য রেশন সুবিধা চালু হতে যাচ্ছে ঢামেকের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ঢামেকের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

রোমের খোলা আকাশে ‘দেলুপি’ প্রদর্শনী

গত বছর দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের প্রথম ছবি ‘দেলুপি’ দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সমাদৃত হওয়ার পরে এবার ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত ‘কারাওয়ান ফেস্টিভ্যাল’-এ ছবিটি অংশ নেয়। উৎসবের উদ্বোধনী ছবি হিসেবে ‘দেলুপি’ প্রদর্শিত হওয়ার পাশাপাশি ফেস্টিভ্যালের মূল পোস্টারেও ছবিটির একটি দৃশ্য স্থান করে নেয়—বাংলা সিনেমার জন্য এটি অনন্য সম্মান হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

রোমের পিগনাতারা প্রাঙ্গণের খোলা মাঠে ছবিটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তাজা বাতাস ও উন্মুক্ত আকাশের নিচে দর্শকরাও উৎসবে অন্যরকম উচ্ছ্বাস দেখান। এই দৃশ্য নির্মাতা তাওকীরকে খুলনায় করা বিশেষ প্রদর্শনীর কথা মনে করিয়ে দেয়—কারণ ‘দেলুপি’র শুটিং হয়েছিল খুলনার দেলুটি গ্রামে এবং ছবিতে স্থানীয় মানুষরাই অভিনয় করেছিলেন। সেই সময়ে কালীনগর দারুণ মল্লিক স্কুলের মাঠে আকাশের নিচে আয়োজিত উন্মুক্ত প্রদর্শনীতে অসংখ্য মানুষ উপস্থিত ছিলেন, যা নির্মাতার জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা ছিল।

রোমেও একইরকম উচ্ছ্বাস দেখা গেল; বহু বিদেশি দর্শক আগ্রহ নিয়ে সিনেমাটি উপভোগ করেন। উৎসবে নির্মাতা তাওকীর ইসলাম সশরীরে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রদর্শনীর পরে উপস্থিত দর্শকের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, রোমের এই আয়োজন খুলনার প্রিমিয়ারের স্মৃতি জাগিয়ে তুলেছে।

‘দেলুপি’র আন্তর্জাতিক সাফল্যের সরসরতি আরও শক্ত হয়েছে—সম্প্রতি এই ছবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলিউডের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার অনুরাগ কাশ্যপ। অনুরাগ কাশ্যপ এখন থেকে ছবিটির আন্তর্জাতিক নিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, যা ছবিটির বৈশ্বিক প্রদর্শন ও পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেবে।

অল্প বাজেটের একটি স্থানীয় গল্প হিসেবে শুরু হলেও ‘দেলুপি’ আন্তর্জাতিক মঞ্চে যে স্বীকৃতি পাচ্ছে, তা বাংলাভাষী সিনেমার জন্য বড় ধরনের অর্জন। নির্মাতারা ও শিল্পী-সম্প্রীতির এই যাত্রা ভবিষ্যতে আরও বহুলমান প্রদর্শনী ও স্বীকৃতিতে পরিণত হবে—এটাই দর্শকদের প্রত্যাশা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রী: জলাবদ্ধতায় জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়

রোমের খোলা আকাশে ‘দেলুপি’ প্রদর্শনী

প্রকাশিতঃ ০২:২১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

গত বছর দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের প্রথম ছবি ‘দেলুপি’ দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সমাদৃত হওয়ার পরে এবার ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত ‘কারাওয়ান ফেস্টিভ্যাল’-এ ছবিটি অংশ নেয়। উৎসবের উদ্বোধনী ছবি হিসেবে ‘দেলুপি’ প্রদর্শিত হওয়ার পাশাপাশি ফেস্টিভ্যালের মূল পোস্টারেও ছবিটির একটি দৃশ্য স্থান করে নেয়—বাংলা সিনেমার জন্য এটি অনন্য সম্মান হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

রোমের পিগনাতারা প্রাঙ্গণের খোলা মাঠে ছবিটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তাজা বাতাস ও উন্মুক্ত আকাশের নিচে দর্শকরাও উৎসবে অন্যরকম উচ্ছ্বাস দেখান। এই দৃশ্য নির্মাতা তাওকীরকে খুলনায় করা বিশেষ প্রদর্শনীর কথা মনে করিয়ে দেয়—কারণ ‘দেলুপি’র শুটিং হয়েছিল খুলনার দেলুটি গ্রামে এবং ছবিতে স্থানীয় মানুষরাই অভিনয় করেছিলেন। সেই সময়ে কালীনগর দারুণ মল্লিক স্কুলের মাঠে আকাশের নিচে আয়োজিত উন্মুক্ত প্রদর্শনীতে অসংখ্য মানুষ উপস্থিত ছিলেন, যা নির্মাতার জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা ছিল।

রোমেও একইরকম উচ্ছ্বাস দেখা গেল; বহু বিদেশি দর্শক আগ্রহ নিয়ে সিনেমাটি উপভোগ করেন। উৎসবে নির্মাতা তাওকীর ইসলাম সশরীরে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রদর্শনীর পরে উপস্থিত দর্শকের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, রোমের এই আয়োজন খুলনার প্রিমিয়ারের স্মৃতি জাগিয়ে তুলেছে।

‘দেলুপি’র আন্তর্জাতিক সাফল্যের সরসরতি আরও শক্ত হয়েছে—সম্প্রতি এই ছবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলিউডের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার অনুরাগ কাশ্যপ। অনুরাগ কাশ্যপ এখন থেকে ছবিটির আন্তর্জাতিক নিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, যা ছবিটির বৈশ্বিক প্রদর্শন ও পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেবে।

অল্প বাজেটের একটি স্থানীয় গল্প হিসেবে শুরু হলেও ‘দেলুপি’ আন্তর্জাতিক মঞ্চে যে স্বীকৃতি পাচ্ছে, তা বাংলাভাষী সিনেমার জন্য বড় ধরনের অর্জন। নির্মাতারা ও শিল্পী-সম্প্রীতির এই যাত্রা ভবিষ্যতে আরও বহুলমান প্রদর্শনী ও স্বীকৃতিতে পরিণত হবে—এটাই দর্শকদের প্রত্যাশা।