০৯:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

আমির খান: ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর র‌্যাঞ্চো সোনাম ওয়াংচুকের জীবনী নয়

২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জনপ্রিয় বলিউড চলচ্চিত্র ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র র‌্যাঞ্চো বা ফুংসুখ ওয়াংড়ুকে লাদাখের প্রকৌশলী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনাম ওয়াংচুকের জীবনী থেকে নেওয়া—এই দীর্ঘদিনের ধারণা সরাসরি খারিজ করেছেন অভিনেতা আমির খান। বর্তমানে ভারতে বিভিন্ন দাবিতে সোনাম ওয়াংচুক আমরণ অনশন পালন করায়, লন্ডনের একটি চলচ্চিত্র উৎসবে এই বিবৃতি দেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের ১৭তম লন্ডন-ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সমাপনী অনুষ্ঠানে দর্শকদের এক প্রশ্নের জবাবে আমির Khan বলেন, ‘র‌্যাঞ্চো সোনামের জীবনী নয়।’ তিনি স্পষ্ট করে জানান যে ছবিটি নির্মাণের সময় neither তিনি, nor চিত্রনাট্যকারদের টিমের কারও কাছে সোনাম ওয়াংচুক সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল। আমির আরও বলেন, অনেকে মুক্তির পর ছবির চরিত্র ও বাস্তব জীবনের অনুরূপতা খুঁজে পেয়েছেন, কিন্তু নির্মাণকালে তারা সোনামকে কাজে লাগাননি।

এই বিতর্ক শুরু হয়েছিল যখন ‘চতুর’ চরিত্রে অভিনয় করা ওমি বৈদ্য সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেন যে র‌্যাঞ্চোর চরিত্রটি সোনাম ওয়াংচুকের জীবনী থেকে অনুপ্রাণিত। ওমি বৈদ্যের সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আমির সরাসরি বলেছেন, ‘চতুরের দাবি ভুল।’

অন্যদিকে, সোনাম ওয়াংচুক নিজেও আগে জানিয়েছিলেন যে র‌্যাঞ্চোর আইডিয়া ও তাঁর আচরণে কিছু মিল থাকলেও নির্মাতারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বা অনুমতি নেননি। ২০০৮ সালে এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবার আমিরের সঙ্গে দেখা করেন এবং সেখানে শিক্ষাব্যবস্থা ও সীমান্তসংক্রান্ত একটি প্রাসঙ্গিক ছবির প্রস্তাব তেঁও তুলে ধরেন। সোনামের কথায়, তিনি আমিরকে সিয়াচেন—ভারত‑পাকিস্তান সীমান্তবর্তী বরফঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রতিদিন যে বিরাট অর্থ খরচ হচ্ছে, সেই অর্থকে কীভাবে শিক্ষা খাতে ব্যয় করা যায় তা নিয়ে সিনেমা করার অনুরোধ করেছিলেন।

সোনাম জানান, আমির তখন মনোযোগ দিয়ে তাঁর কথা শুনেছিলেন। ‘থ্রি ইডিয়টস’ মুক্তির পর অনেকে কাহিনীর সঙ্গে তাঁর জীবনযাত্রার মিল টেনে ধরেন, কিন্তু সোনাম তখন তৎক্ষণাৎ আপত্তি তোলেননি—তিনি চাননি কেউ তাকে আর্থিক লোভে আসক্ত মনে করুক। তিনি আইনি মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন, পরে নির্মাতাদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে আমিরের সঙ্গে তাদের আলোচনার কথাটি স্মরণ করিয়ে দিলেও নির্মাতাদের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাননি।

ঘটনাগুলি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য মিলিয়ে প্রশ্ন উথ্থিত হয় যে কোন পর্যায়ে কল্পনা, অনুপ্রেরণা ও বাস্তব জীবনের সীমানা ছিন্ন হয়। আমিরের এই প্রত্যাখ্যান ও সোনামের আগে করা মন্তব্য—দুই দিকই নিয়ে আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

আমির খান: ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর র‌্যাঞ্চো সোনাম ওয়াংচুকের জীবনী নয়

প্রকাশিতঃ ০৭:২১:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জনপ্রিয় বলিউড চলচ্চিত্র ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র র‌্যাঞ্চো বা ফুংসুখ ওয়াংড়ুকে লাদাখের প্রকৌশলী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনাম ওয়াংচুকের জীবনী থেকে নেওয়া—এই দীর্ঘদিনের ধারণা সরাসরি খারিজ করেছেন অভিনেতা আমির খান। বর্তমানে ভারতে বিভিন্ন দাবিতে সোনাম ওয়াংচুক আমরণ অনশন পালন করায়, লন্ডনের একটি চলচ্চিত্র উৎসবে এই বিবৃতি দেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের ১৭তম লন্ডন-ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সমাপনী অনুষ্ঠানে দর্শকদের এক প্রশ্নের জবাবে আমির Khan বলেন, ‘র‌্যাঞ্চো সোনামের জীবনী নয়।’ তিনি স্পষ্ট করে জানান যে ছবিটি নির্মাণের সময় neither তিনি, nor চিত্রনাট্যকারদের টিমের কারও কাছে সোনাম ওয়াংচুক সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল। আমির আরও বলেন, অনেকে মুক্তির পর ছবির চরিত্র ও বাস্তব জীবনের অনুরূপতা খুঁজে পেয়েছেন, কিন্তু নির্মাণকালে তারা সোনামকে কাজে লাগাননি।

এই বিতর্ক শুরু হয়েছিল যখন ‘চতুর’ চরিত্রে অভিনয় করা ওমি বৈদ্য সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেন যে র‌্যাঞ্চোর চরিত্রটি সোনাম ওয়াংচুকের জীবনী থেকে অনুপ্রাণিত। ওমি বৈদ্যের সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আমির সরাসরি বলেছেন, ‘চতুরের দাবি ভুল।’

অন্যদিকে, সোনাম ওয়াংচুক নিজেও আগে জানিয়েছিলেন যে র‌্যাঞ্চোর আইডিয়া ও তাঁর আচরণে কিছু মিল থাকলেও নির্মাতারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বা অনুমতি নেননি। ২০০৮ সালে এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবার আমিরের সঙ্গে দেখা করেন এবং সেখানে শিক্ষাব্যবস্থা ও সীমান্তসংক্রান্ত একটি প্রাসঙ্গিক ছবির প্রস্তাব তেঁও তুলে ধরেন। সোনামের কথায়, তিনি আমিরকে সিয়াচেন—ভারত‑পাকিস্তান সীমান্তবর্তী বরফঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রতিদিন যে বিরাট অর্থ খরচ হচ্ছে, সেই অর্থকে কীভাবে শিক্ষা খাতে ব্যয় করা যায় তা নিয়ে সিনেমা করার অনুরোধ করেছিলেন।

সোনাম জানান, আমির তখন মনোযোগ দিয়ে তাঁর কথা শুনেছিলেন। ‘থ্রি ইডিয়টস’ মুক্তির পর অনেকে কাহিনীর সঙ্গে তাঁর জীবনযাত্রার মিল টেনে ধরেন, কিন্তু সোনাম তখন তৎক্ষণাৎ আপত্তি তোলেননি—তিনি চাননি কেউ তাকে আর্থিক লোভে আসক্ত মনে করুক। তিনি আইনি মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন, পরে নির্মাতাদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে আমিরের সঙ্গে তাদের আলোচনার কথাটি স্মরণ করিয়ে দিলেও নির্মাতাদের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাননি।

ঘটনাগুলি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য মিলিয়ে প্রশ্ন উথ্থিত হয় যে কোন পর্যায়ে কল্পনা, অনুপ্রেরণা ও বাস্তব জীবনের সীমানা ছিন্ন হয়। আমিরের এই প্রত্যাখ্যান ও সোনামের আগে করা মন্তব্য—দুই দিকই নিয়ে আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।