১০:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে মানবিক ও দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ুন মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আটকে পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিপিডি: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদায়ী চুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থি হতে পারে ঈদযাত্রায় ভাড়া বাড়ালে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা: নৌপরিবহন মন্ত্রী ছুটির দিনেও অফিসে সময় কাটাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো নিজ কার্যালয়ের কর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়

কোন খাতে খরচ হচ্ছে রিজার্ভের টাকা, জানালেন প্রধানমন্ত্রী

রিজার্ভের টাকা জনগণের কল্যাণে খরচ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (১২ নভেম্বর) ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’র উদ্বোধনের সময় তিনি এই কথা বলেন।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে বিএনপি নেতাদের অপপ্রচারের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার কখনো রিজার্ভ থেকে এক পয়সাও নষ্ট করে না, বরং দেশ ও জনগণের স্বার্থে এই টাকা ব্যবহার করে।’

তিনি বলেন,‘আওয়ামী লীগ সরকার এ দেশের এক পয়সাও অপচয় করে না। প্রতিটি অর্থ ব্যয় করে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থেও কল্যাণে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‌‘বিএনপি নেতারা সব সময় রিজার্ভের টাকা খরচ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।’

তিনি বলেন, ‘রিজার্ভের টাকা থেকে কোনো অর্থ অপব্যবহার হয়নি। বিএনপি নেতারা সব সময় বিষয়টি নিয়ে কথা বলে, কারণ তাদের নেতা তারেক রহমানকে মানি লন্ডারিং মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং তিনি এখন পলাতক আসামি। তাদেরকে আমি বলতে চাই বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন রিজার্ভ ছিল মাত্র ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত সময়ে এটি বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার হয়। সেই জায়গা থেকে আমরা এই রিজার্ভ প্রায় ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে সক্ষম হই।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে যোগাযোগ, যাতায়াত, আমদানী থেকে শুরু করে সবকিছুই প্রায় বন্ধ ছিল। আর যখনই যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্মুক্ত হয়, তখন আমাদের আমদানী করা, পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দার জন্য ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থের বাড়তি জোগান ও রিজার্ভ থেকেই দিতে হচ্ছে।তারপরও বাংলাদেশের মতো বিনাপয়সায় ভ্যাকসিন প্রদান এবং করোনা টেষ্টের ব্যবস্থা যেটা পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশও করতে পারেনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারাবিশ্বে খাদ্য পণ্যের দাম, পরিবহন খরচ, জ্বালানি তেল, ভোজ্য তেল, গম, ভুট্টাসহ যে সমস্ত পণ্য আমদানি করতে হয়, তার দাম বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ চাল উৎপাদন করলেও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিছু কিছু আমদানি করতে হচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যেটুকু খরচ করেছি তা জনগণের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে। জনগণের খাদ্য কেনা, ওষুধ কেনা জনগণের মঙ্গলের জন্যই করতে হয়েছে। সার, জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ আমাদের ক্রয় করতে হচ্ছে, নগদ টাকা দিয়ে আমরা কিনছি। এছাড়া আমাদের রিজার্ভের টাকা দিয়ে আমরা বিমান ক্রয় করেছি। নদী ড্রেজিং যেমন নিজেদের অর্থে করছি তেমনি কিছু কিছু বিনিয়োগও আমরা করছি।’

তিনি বলেন, ‘এই টাকা যদি সরকার অন্যদেশের ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে নিতো তাহলে সুদসহ টাকা পরিশোধ করতে হতো। আর আমাদের ব্যাংক থেকে দিলে যেটা সোনালী ব্যাংক থেকে আমরা দিচ্ছি তাহলে ঐ সুদ সমেত টাকা দেশের টাকা দেশেই থেকে যাচ্ছে এবং সেদিকে লক্ষ্য রেখেই প্রায় ৮ বিলিয়নের মতো আমরা খরচ করছি। এখান থেকে কিছু ডলার শ্রীলংকার অর্থনৈতিক দুরাবস্থায় ধার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।’

শেখ হাসিনা এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘কাজেই এখানকার টাকা কেউ তুলে নিয়ে চলে যায়নি, যেটা তাদের মনে সবসময় ভয় থাকে তারা ঐরকম বলে।’
কাজেই মানিলন্ডারিং যাদের অভ্যাস তারা খালি এটাই জানে যে, টাকা বোধহয় সব নিয়েই যেতে হয়,’ উল্লেখ করেন তিনি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন

কোন খাতে খরচ হচ্ছে রিজার্ভের টাকা, জানালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ১১:২২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ নভেম্বর ২০২২

রিজার্ভের টাকা জনগণের কল্যাণে খরচ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (১২ নভেম্বর) ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’র উদ্বোধনের সময় তিনি এই কথা বলেন।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে বিএনপি নেতাদের অপপ্রচারের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার কখনো রিজার্ভ থেকে এক পয়সাও নষ্ট করে না, বরং দেশ ও জনগণের স্বার্থে এই টাকা ব্যবহার করে।’

তিনি বলেন,‘আওয়ামী লীগ সরকার এ দেশের এক পয়সাও অপচয় করে না। প্রতিটি অর্থ ব্যয় করে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থেও কল্যাণে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‌‘বিএনপি নেতারা সব সময় রিজার্ভের টাকা খরচ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।’

তিনি বলেন, ‘রিজার্ভের টাকা থেকে কোনো অর্থ অপব্যবহার হয়নি। বিএনপি নেতারা সব সময় বিষয়টি নিয়ে কথা বলে, কারণ তাদের নেতা তারেক রহমানকে মানি লন্ডারিং মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং তিনি এখন পলাতক আসামি। তাদেরকে আমি বলতে চাই বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন রিজার্ভ ছিল মাত্র ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত সময়ে এটি বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার হয়। সেই জায়গা থেকে আমরা এই রিজার্ভ প্রায় ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে সক্ষম হই।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে যোগাযোগ, যাতায়াত, আমদানী থেকে শুরু করে সবকিছুই প্রায় বন্ধ ছিল। আর যখনই যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্মুক্ত হয়, তখন আমাদের আমদানী করা, পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দার জন্য ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থের বাড়তি জোগান ও রিজার্ভ থেকেই দিতে হচ্ছে।তারপরও বাংলাদেশের মতো বিনাপয়সায় ভ্যাকসিন প্রদান এবং করোনা টেষ্টের ব্যবস্থা যেটা পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশও করতে পারেনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারাবিশ্বে খাদ্য পণ্যের দাম, পরিবহন খরচ, জ্বালানি তেল, ভোজ্য তেল, গম, ভুট্টাসহ যে সমস্ত পণ্য আমদানি করতে হয়, তার দাম বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ চাল উৎপাদন করলেও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিছু কিছু আমদানি করতে হচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যেটুকু খরচ করেছি তা জনগণের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে। জনগণের খাদ্য কেনা, ওষুধ কেনা জনগণের মঙ্গলের জন্যই করতে হয়েছে। সার, জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ আমাদের ক্রয় করতে হচ্ছে, নগদ টাকা দিয়ে আমরা কিনছি। এছাড়া আমাদের রিজার্ভের টাকা দিয়ে আমরা বিমান ক্রয় করেছি। নদী ড্রেজিং যেমন নিজেদের অর্থে করছি তেমনি কিছু কিছু বিনিয়োগও আমরা করছি।’

তিনি বলেন, ‘এই টাকা যদি সরকার অন্যদেশের ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে নিতো তাহলে সুদসহ টাকা পরিশোধ করতে হতো। আর আমাদের ব্যাংক থেকে দিলে যেটা সোনালী ব্যাংক থেকে আমরা দিচ্ছি তাহলে ঐ সুদ সমেত টাকা দেশের টাকা দেশেই থেকে যাচ্ছে এবং সেদিকে লক্ষ্য রেখেই প্রায় ৮ বিলিয়নের মতো আমরা খরচ করছি। এখান থেকে কিছু ডলার শ্রীলংকার অর্থনৈতিক দুরাবস্থায় ধার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।’

শেখ হাসিনা এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘কাজেই এখানকার টাকা কেউ তুলে নিয়ে চলে যায়নি, যেটা তাদের মনে সবসময় ভয় থাকে তারা ঐরকম বলে।’
কাজেই মানিলন্ডারিং যাদের অভ্যাস তারা খালি এটাই জানে যে, টাকা বোধহয় সব নিয়েই যেতে হয়,’ উল্লেখ করেন তিনি।