০৮:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
নূরুল ইসলাম মনি ত্রয়োদশ সংসদের চীফ হুইপ নিযুক্ত ডুবোচর ও বর্জ্যে ইলিশহীন পায়রা, সংকটে ১৪,৬৮৯ জেলে নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: এজাহারভুক্ত আরও এক আসামি গ্রেফতার চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে মানবিক ও দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ুন মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আটকে পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অর্থনৈতিক খাতে ব্যাংক ঋণের Dependence বাড়ছে: অর্থ উপদেস্টার

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা। বেসরকারি ও সরকারি খাত উভয়ই ব্যাপকভাবে ঋণ গ্রহণ করছে, কিন্তু প্রায়ই সেই ঋণসমূহ সময়মতো পরিশোধ হয় না, যা দেশের জন্য একটি বড় ট্র্যাজেডি। বুধবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের বন্ড ও সুকুক বাজারের উন্নয়ন’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শক্তিশালী পুঁজিবাজার এবং বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঝুঁকি ভাগাভাগি আরও কার্যকরভাবে সম্ভব। বিনিয়োগের সঙ্গে ঝুঁকি জড়িত, তাই মানুষকে এর গুরুত্ব বুঝতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, পুঁজিবাজার কোনো নিশ্চয়তা বা স্থায়ী আয়ের উৎস নয়। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে যে বিনিয়োগ করলেই নিশ্চয় মুনাফা হবে, যা ভুল। এ জন্য ডিএসই ও বিএসইসিকে বিনিয়োগকারীদের শিক্ষা দানের জন্য আরো উদ্যোগ নিতে হবে।

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, সুকুক একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্ট্রুমেন্ট, যা ব্যাংক ঋণের চাপ কমাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রাখে। বর্তমানে আমাদের দেশে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের সুকুক রয়েছে, যার বেশিরভাগই সরকারি প্রকল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে বেসরকারি খাত এটি ব্যবহার করে অবকাঠামো এবং ব্যবসার সম্প্রসারণে অর্থায়ন করতে পারে। তিনি stressing করেন, একটি শক্তিশালী আর্থিক খাতের জন্য ব্যাংকের পাশাপাশি পুঁজিবাজার, বিমা খাত ও অন্যান্য ট্যাটু-ম্যানিরমেন্ট ইনস্ট্রুমেন্টকেও সমন্বিতভাবে উন্নয়ন করতে হবে। এর মাধ্যমে জনগণ ও সরকারের মধ্যে আস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষের কর দানের প্রতি শ্রদ্ধা তৈরি হবে, যা সুস্থ শাসনব্যবস্থার পরীক্ষাও।

সেমিনারে তিনি বলেন, আমাদের দেশে মূল সমস্যা হলো অর্থায়নের অভাব। সরকারি দৃষ্টি ও সিদ্ধান্তের কারণে প্রয়োজনের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম অর্থ সরবরাহ হচ্ছে। তিনি জানান, সরকার ও বেসরকারি খাতের জন্য ব্যাংকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে সুকুক ও বন্ডের সম্প্রসারণ জরুরি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, বন্ড মার্কেটের উন্নতির জন্য আরও অনেক কিছু করতে হবে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও বাংলাদেশ ব্যাংক মিলিতভাবে কাজ করছে এ লক্ষ্যে। তিনি জানান, শিগগিরই একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে যেখানে সরকারি ও করপোরেট বন্ডের চাহিদা ও সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা তুলে ধরা হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বন্ড মার্কেট সব থেকে ছোট হলেও দ্রুত বড় করে তোলা হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও পুঁজিবাজার উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী ও অর্থ বিভাগ সচিব নাজমা মোবারেক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নিউ অর্লিন্সের অধ্যাপক এম. কবীর হাসান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খোন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নূরুল ইসলাম মনি ত্রয়োদশ সংসদের চীফ হুইপ নিযুক্ত

অর্থনৈতিক খাতে ব্যাংক ঋণের Dependence বাড়ছে: অর্থ উপদেস্টার

প্রকাশিতঃ ০৪:০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা। বেসরকারি ও সরকারি খাত উভয়ই ব্যাপকভাবে ঋণ গ্রহণ করছে, কিন্তু প্রায়ই সেই ঋণসমূহ সময়মতো পরিশোধ হয় না, যা দেশের জন্য একটি বড় ট্র্যাজেডি। বুধবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের বন্ড ও সুকুক বাজারের উন্নয়ন’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শক্তিশালী পুঁজিবাজার এবং বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঝুঁকি ভাগাভাগি আরও কার্যকরভাবে সম্ভব। বিনিয়োগের সঙ্গে ঝুঁকি জড়িত, তাই মানুষকে এর গুরুত্ব বুঝতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, পুঁজিবাজার কোনো নিশ্চয়তা বা স্থায়ী আয়ের উৎস নয়। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে যে বিনিয়োগ করলেই নিশ্চয় মুনাফা হবে, যা ভুল। এ জন্য ডিএসই ও বিএসইসিকে বিনিয়োগকারীদের শিক্ষা দানের জন্য আরো উদ্যোগ নিতে হবে।

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, সুকুক একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্ট্রুমেন্ট, যা ব্যাংক ঋণের চাপ কমাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রাখে। বর্তমানে আমাদের দেশে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের সুকুক রয়েছে, যার বেশিরভাগই সরকারি প্রকল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে বেসরকারি খাত এটি ব্যবহার করে অবকাঠামো এবং ব্যবসার সম্প্রসারণে অর্থায়ন করতে পারে। তিনি stressing করেন, একটি শক্তিশালী আর্থিক খাতের জন্য ব্যাংকের পাশাপাশি পুঁজিবাজার, বিমা খাত ও অন্যান্য ট্যাটু-ম্যানিরমেন্ট ইনস্ট্রুমেন্টকেও সমন্বিতভাবে উন্নয়ন করতে হবে। এর মাধ্যমে জনগণ ও সরকারের মধ্যে আস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষের কর দানের প্রতি শ্রদ্ধা তৈরি হবে, যা সুস্থ শাসনব্যবস্থার পরীক্ষাও।

সেমিনারে তিনি বলেন, আমাদের দেশে মূল সমস্যা হলো অর্থায়নের অভাব। সরকারি দৃষ্টি ও সিদ্ধান্তের কারণে প্রয়োজনের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম অর্থ সরবরাহ হচ্ছে। তিনি জানান, সরকার ও বেসরকারি খাতের জন্য ব্যাংকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে সুকুক ও বন্ডের সম্প্রসারণ জরুরি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, বন্ড মার্কেটের উন্নতির জন্য আরও অনেক কিছু করতে হবে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও বাংলাদেশ ব্যাংক মিলিতভাবে কাজ করছে এ লক্ষ্যে। তিনি জানান, শিগগিরই একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে যেখানে সরকারি ও করপোরেট বন্ডের চাহিদা ও সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা তুলে ধরা হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বন্ড মার্কেট সব থেকে ছোট হলেও দ্রুত বড় করে তোলা হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও পুঁজিবাজার উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী ও অর্থ বিভাগ সচিব নাজমা মোবারেক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নিউ অর্লিন্সের অধ্যাপক এম. কবীর হাসান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খোন্দকার রাশেদ মাকসুদ।