১১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আন্তর্জাতিকভাবে দাবি জানানোয় বন্দিদের মুক্তি ঘোষণা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর দোয়ার আবেদন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমারও: তারেক রহমান মৌসুমি সবজি বাজারে ভরপুর, দাম কমে গেছে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া ও মোনাজাত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য ভর্তুকির দাবি আরব আমিরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ২৪ ব্যক্তির মুক্তি আসছে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা মনের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে দ্বন্দ্ব: তারেক রহমানের মন্তব্য বাজারে মৌসুমি সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম কমে যাচ্ছে

বাংলাদেশে শিশুদের রক্তে উদ্বেগজনক সীসা, মস্তিষ্কের বিকাশে হুমকি

বাংলাদেশে শিশুরা নিরাপদ থেকে অনেক দূরে, রক্তে তাদের সীসার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ১০ শিশুর মধ্যে ৪ জনের রক্তে এই বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি দেখা গেছে। বিশেষ করে, ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে এই হার ৩৮ শতাংশ, যা খুবই উদ্বেগজনক। পাশাপাশি, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের প্রায় আট শতাংশের দেহে সীসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ঢাকায় এটি সর্বোচ্চ, যেখানে ৬৫ শতাংশের বেশি এলাকায় এই বিপদজনক মাত্রা ধরা পড়েছে। এটি এক ধরনের বিপদের আলামত, কারণ সীসা শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করছে, যেসব শিশুরা এই বিষাক্ত উপাদানে আক্রান্ত, তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের পথ অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই দূষণের প্রভাব সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্তরেও পড়ছে। আক্রান্ত শিশুরা ধনী পরিবারের হলেও মৌলিক দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে পড়ছে, যেখানে প্রাথমিক শিক্ষায় উপস্থিতি ৮৪ শতাংশ হলেও নিম্ন মাধ্যমিকে এটি কমে ৬০ শতাংশ এবং উচ্চ মাধ্যমিকে মাত্র ৫০ শতাংশ। এ ছাড়া, পানির নিরাপত্তা উন্নত হলেও পানিতে কোলাই জীবাণু এবং পানিদূষণের হার মারাত্মক রকম বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নত পানির উৎস ব্যবহৃত হলেও ৮০ শতাংশের বেশি পরিবার পানিতে জীবাণু পায়, যা সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। শিশু সুরক্ষায়ও রয়েছে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। ঘরে শিশুদের ওপর সহিংসতা এখনও ব্যাপক, এবং ২০-২৪ বছর বয়সি নারীদের প্রায় অর্ধেকই ১৮ বছরের আগে বিবাহিত হয়েছেন, যা শিশু বিবাহের হারকে বৃদ্ধি করছে। এর পাশাপাশি, শিশুরা ঘরোয়া সহিংসতার শিকারও হচ্ছে। পরিবেশগতভাবে, ভারী ধাতুর উপস্থিতি প্রথমবারের মতো নিশ্চিত হয়েছে। ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি রক্তে সীসার মাত্রা উচ্চ, যা শিল্পকারখানা ও অনিয়ন্ত্রিত রিসাইক্লিংয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির কারণে ঘটছে। সকল এই তথ্য ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তুলে ধরতে গত রোববার একটি বিশদ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় গবেষক, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সংস্থা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এই সভায় শিশুদের নিরাপত্তা, পুষ্টি, পানির নিরাপত্তা ও ভারী ধাতুর ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকারের আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, শিশু সুরক্ষায় প্রতি ১ ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুদূরপ্রসারী লাভ অর্জন সম্ভব। তবে, সীসা দূষণ, অপুষ্টি ও পানির নিরাপত্তাহীনতা জাতীয় উন্নয়নের জন্য ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবে দেখা উচিত এবং সমস্যাগুলোর জন্য ত্বরিত ও সমন্বিত নীতি গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া জরুরি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশে শিশুদের রক্তে উদ্বেগজনক সীসা, মস্তিষ্কের বিকাশে হুমকি

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশে শিশুরা নিরাপদ থেকে অনেক দূরে, রক্তে তাদের সীসার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ১০ শিশুর মধ্যে ৪ জনের রক্তে এই বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি দেখা গেছে। বিশেষ করে, ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে এই হার ৩৮ শতাংশ, যা খুবই উদ্বেগজনক। পাশাপাশি, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের প্রায় আট শতাংশের দেহে সীসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ঢাকায় এটি সর্বোচ্চ, যেখানে ৬৫ শতাংশের বেশি এলাকায় এই বিপদজনক মাত্রা ধরা পড়েছে। এটি এক ধরনের বিপদের আলামত, কারণ সীসা শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করছে, যেসব শিশুরা এই বিষাক্ত উপাদানে আক্রান্ত, তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের পথ অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই দূষণের প্রভাব সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্তরেও পড়ছে। আক্রান্ত শিশুরা ধনী পরিবারের হলেও মৌলিক দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে পড়ছে, যেখানে প্রাথমিক শিক্ষায় উপস্থিতি ৮৪ শতাংশ হলেও নিম্ন মাধ্যমিকে এটি কমে ৬০ শতাংশ এবং উচ্চ মাধ্যমিকে মাত্র ৫০ শতাংশ। এ ছাড়া, পানির নিরাপত্তা উন্নত হলেও পানিতে কোলাই জীবাণু এবং পানিদূষণের হার মারাত্মক রকম বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নত পানির উৎস ব্যবহৃত হলেও ৮০ শতাংশের বেশি পরিবার পানিতে জীবাণু পায়, যা সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। শিশু সুরক্ষায়ও রয়েছে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। ঘরে শিশুদের ওপর সহিংসতা এখনও ব্যাপক, এবং ২০-২৪ বছর বয়সি নারীদের প্রায় অর্ধেকই ১৮ বছরের আগে বিবাহিত হয়েছেন, যা শিশু বিবাহের হারকে বৃদ্ধি করছে। এর পাশাপাশি, শিশুরা ঘরোয়া সহিংসতার শিকারও হচ্ছে। পরিবেশগতভাবে, ভারী ধাতুর উপস্থিতি প্রথমবারের মতো নিশ্চিত হয়েছে। ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি রক্তে সীসার মাত্রা উচ্চ, যা শিল্পকারখানা ও অনিয়ন্ত্রিত রিসাইক্লিংয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির কারণে ঘটছে। সকল এই তথ্য ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তুলে ধরতে গত রোববার একটি বিশদ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় গবেষক, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সংস্থা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এই সভায় শিশুদের নিরাপত্তা, পুষ্টি, পানির নিরাপত্তা ও ভারী ধাতুর ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকারের আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, শিশু সুরক্ষায় প্রতি ১ ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুদূরপ্রসারী লাভ অর্জন সম্ভব। তবে, সীসা দূষণ, অপুষ্টি ও পানির নিরাপত্তাহীনতা জাতীয় উন্নয়নের জন্য ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবে দেখা উচিত এবং সমস্যাগুলোর জন্য ত্বরিত ও সমন্বিত নীতি গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া জরুরি।