০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি, আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত

বাংলাদেশ সরকার ব্যাংকিং খাতে আমানতকারীদের সুরক্ষা ও আস্থা বাড়ানোর জন্য নতুন ‘আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে। এর মাধ্যমে যদি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়িত বা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আমানতকারীরা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকাস délai পাবেন। এই নির্দেশনা গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স বিভাগ (ডিআইডি) থেকে জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সাধারণ আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা ও আস্থা বাড়াতে এই নতুন আইনটি কার্যকর করা হয়েছে। দেশের বর্তমান সংসদ ভেঙে যাওয়ার পরিস্থিতিতে দেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর ফলে পুরানো ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০ বাতিল হয়ে নতুন আধুনিক আইন কার্যকর হলো।

নতুন আইনের মূল লক্ষ্য হলো দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা সাধারণ আমানতগুলো নিরাপদে ফেরত দেওয়া। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে আলাদা একটি ‘অমানত সুরক্ষা বিভাগ’ গঠিত হবে। এই বিভাগ প্রিমিয়াম সংগ্রহ, তহবিল পরিচালনা, সদস্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, আমানত পরিশোধ ও জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

এখন থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো জন্য দুটি পৃথক আমানত সুরক্ষা তহবিল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তহবিল গঠন হতে প্রাপ্ত অর্থ যেমন প্রিমিয়াম, জরিমান, বিনিয়োগ আয় এবং অন্যান্য উৎস থেকে আসবে। বাংলাদেশের ব্যাংকের বোর্ড এটি পরিচালনা করবে, যেখানে ট্রাস্টি বোর্ড হিসেবে কাজ করবে।

নতুন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রারম্ভিক প্রিমিয়াম জমা দিতে হবে, আর বর্তমানে কার্যরত ব্যাংকগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সদস্যপদে অন্তর্ভুক্ত হবে। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০২৮ সালের ১ জুলাই থেকে সদস্যপদে যোগ দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, ঝুঁকি-ভিত্তিক প্রিমিয়াম আদায়ের জন্য ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বিশেষ কিছু আমানত, যেমন সরকারি, বিদেশি বা আন্তর্জাতিক সংস্থার আমানত, সুরক্ষার বাইরে থাকতে পারে। তবে সাধারণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আমানতগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যে সুরক্ষিত থাকবে। যদি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়িত হয় বা রেজোলিউশনের মধ্যে পড়ে, তখন আমানতকারীরা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা খুব দ্রুত ফেরত পাবেন। প্রয়োজনে ব্রিজ ব্যাংক বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এই অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

অতএব, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, বিদেশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা, তথ্য বিনিময় ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। এই পদক্ষেপে মোটামুটি ব্যাংকের নিরাপত্তা ও আমানতকারীদের বিশ্বাস বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি, আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত

প্রকাশিতঃ ০১:১৫:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ সরকার ব্যাংকিং খাতে আমানতকারীদের সুরক্ষা ও আস্থা বাড়ানোর জন্য নতুন ‘আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে। এর মাধ্যমে যদি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়িত বা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আমানতকারীরা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকাস délai পাবেন। এই নির্দেশনা গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স বিভাগ (ডিআইডি) থেকে জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সাধারণ আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা ও আস্থা বাড়াতে এই নতুন আইনটি কার্যকর করা হয়েছে। দেশের বর্তমান সংসদ ভেঙে যাওয়ার পরিস্থিতিতে দেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর ফলে পুরানো ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০ বাতিল হয়ে নতুন আধুনিক আইন কার্যকর হলো।

নতুন আইনের মূল লক্ষ্য হলো দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা সাধারণ আমানতগুলো নিরাপদে ফেরত দেওয়া। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে আলাদা একটি ‘অমানত সুরক্ষা বিভাগ’ গঠিত হবে। এই বিভাগ প্রিমিয়াম সংগ্রহ, তহবিল পরিচালনা, সদস্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, আমানত পরিশোধ ও জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

এখন থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো জন্য দুটি পৃথক আমানত সুরক্ষা তহবিল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তহবিল গঠন হতে প্রাপ্ত অর্থ যেমন প্রিমিয়াম, জরিমান, বিনিয়োগ আয় এবং অন্যান্য উৎস থেকে আসবে। বাংলাদেশের ব্যাংকের বোর্ড এটি পরিচালনা করবে, যেখানে ট্রাস্টি বোর্ড হিসেবে কাজ করবে।

নতুন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রারম্ভিক প্রিমিয়াম জমা দিতে হবে, আর বর্তমানে কার্যরত ব্যাংকগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সদস্যপদে অন্তর্ভুক্ত হবে। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০২৮ সালের ১ জুলাই থেকে সদস্যপদে যোগ দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, ঝুঁকি-ভিত্তিক প্রিমিয়াম আদায়ের জন্য ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বিশেষ কিছু আমানত, যেমন সরকারি, বিদেশি বা আন্তর্জাতিক সংস্থার আমানত, সুরক্ষার বাইরে থাকতে পারে। তবে সাধারণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আমানতগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যে সুরক্ষিত থাকবে। যদি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়িত হয় বা রেজোলিউশনের মধ্যে পড়ে, তখন আমানতকারীরা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা খুব দ্রুত ফেরত পাবেন। প্রয়োজনে ব্রিজ ব্যাংক বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এই অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

অতএব, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, বিদেশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা, তথ্য বিনিময় ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। এই পদক্ষেপে মোটামুটি ব্যাংকের নিরাপত্তা ও আমানতকারীদের বিশ্বাস বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।