১০:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম নির্ধারণে সরকারকে ক্ষমতা দেবে হাইকোর্ট

জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতা সীমিত করে ১৯৯৪ সালে জারি করা সার্কুলারকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জীবন রক্ষাকারী সব ওষুধের দাম নির্ধারণের সম্পূর্ণ ক্ষমতা সরকারকেই দিতে হবে, কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির হাতে নয়। এই নির্দেশনা জনগণের স্বাস্থ্যের সুরক্ষার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আদালত উল্লেখ করেছেন।

গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান এবং বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। এর আগে, ২৫ আগস্ট ওই রায়টি প্রকাশিত হয়।

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ আদালতকে জানিয়েছেন, জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, কারণ এটি নাগরিকের জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তিনি বলেন, মূল্য বৃদ্ধি বা অস্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণহীনতা যদি ঘটে, তবে এর প্রভাব অনেক গুরুতর হতে পারে। তাই, সরকারের ক্ষমতা সীমিত করে দিয়া থাকা সার্কুলার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন।

প্রাথমিকভাবে এই বিষয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) ২০১৮ সালে একটি রিট পিটিশন দাখিল করে। রুল জারির পর, দীর্ঘ শুনানি ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান এবং বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আদালত উল্লেখ করেছেন, ১৯৮২ সালের ওষুধ (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশের অধীনে, বর্তমানে ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এ, ওষুধের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের পুরো ক্ষমতা সরকারের হাতে। ১৯৯৪ সালের সার্কুলারটি, যেখানে ১১৭টি ওষুধ ছাড়া অন্যান্য ওষুধের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের উপর দেওয়া হয়, সেটি আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ আরও বলেছেন, জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মূল্য যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে তা মানুষের জীবনধারা ও স্বাস্থ্য অধিকারকে সরাসরি ক্ষুণ্ণ করে। তাই, এই সার্কুলারটি বাতিল করে, সরকারের পুরোপুরি কর্তৃত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম নির্ধারণে সরকারকে ক্ষমতা দেবে হাইকোর্ট

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতা সীমিত করে ১৯৯৪ সালে জারি করা সার্কুলারকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জীবন রক্ষাকারী সব ওষুধের দাম নির্ধারণের সম্পূর্ণ ক্ষমতা সরকারকেই দিতে হবে, কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির হাতে নয়। এই নির্দেশনা জনগণের স্বাস্থ্যের সুরক্ষার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আদালত উল্লেখ করেছেন।

গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান এবং বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। এর আগে, ২৫ আগস্ট ওই রায়টি প্রকাশিত হয়।

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ আদালতকে জানিয়েছেন, জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, কারণ এটি নাগরিকের জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তিনি বলেন, মূল্য বৃদ্ধি বা অস্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণহীনতা যদি ঘটে, তবে এর প্রভাব অনেক গুরুতর হতে পারে। তাই, সরকারের ক্ষমতা সীমিত করে দিয়া থাকা সার্কুলার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন।

প্রাথমিকভাবে এই বিষয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) ২০১৮ সালে একটি রিট পিটিশন দাখিল করে। রুল জারির পর, দীর্ঘ শুনানি ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান এবং বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আদালত উল্লেখ করেছেন, ১৯৮২ সালের ওষুধ (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশের অধীনে, বর্তমানে ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এ, ওষুধের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের পুরো ক্ষমতা সরকারের হাতে। ১৯৯৪ সালের সার্কুলারটি, যেখানে ১১৭টি ওষুধ ছাড়া অন্যান্য ওষুধের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের উপর দেওয়া হয়, সেটি আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ আরও বলেছেন, জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মূল্য যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে তা মানুষের জীবনধারা ও স্বাস্থ্য অধিকারকে সরাসরি ক্ষুণ্ণ করে। তাই, এই সার্কুলারটি বাতিল করে, সরকারের পুরোপুরি কর্তৃত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি।