১০:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইপিএলে প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে দুবারের ‘মাস সেরা’ ইগর থিয়াগো

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে (ইপিএল) প্রথম ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় হিসেবে দুটি পৃথক মাসে ‘মাস সেরা’ নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়লেন ব্রেন্টফোর্ডের ২৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ইগর থিয়াগো। গতকাল শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে জানুয়ারি ২০২৬ মাসের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়; এর আগে তিনি গত বছরের নভেম্বরেও একই সম্মান লাভ করেছিলেন।

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয় — এটিই প্রিমিয়ার লিগে ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের অবস্থাকে নতুনভাবে নির্ধারণ করার ইঙ্গিত বহন করে। রবার্তো ফিরমিনো, ফার্নান্দিনহো বা ফিলিপে কৌতিনহোদের মতো নামরা দীর্ঘ সময় লিগ মাতিয়ে রেখেও দুইবার এই পুরস্কার জেতেননি। ডেভিড লুইজ, জুনিনহো পাউলিস্টা, রদ্রিগো মুনিজ, এডু ও লুকাস মউরা ইত্যাদি খেলোয়াড়রা একবার করে এই সম্মান পেয়েছেন; কিন্তু দ্বিতীয়বারে পৌঁছানো এখন পর্যন্ত কাউকে টক্কর দিতে পারেনি — যতক্ষণ পর্যন্ত ইগর থিয়াগো সেটি করে দেখাননি।

ক্লাব পর্যায়ে ইগর থিয়াগোর অবদানও স্পষ্ট। দ্রুতগতির আক্রমণ, নির্ভুল ফিনিশিং ও মাঠে সার্বক্ষণিক চাপই তাঁকে জানুয়ারিতে বিশেষ করে আলোকিত করেছে। তাঁর গোলগুলো ও খেলার ধাঁচ ব্রেন্টফোর্ডকে লিগ সারণীতে উঁচুতে ধরে রাখতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে, ফলে ক্লাব ও সমর্থকদের মধ্যেও তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

ব্যক্তিগত অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গত মাসেই থিয়াগো ব্রেন্টফোর্ডের সঙ্গে সাড়ে পাঁচ বছরের (৫.৫ বছর) নতুন চুক্তি নবায়ন করেছেন — এটা ক্লাবের ওপর তার দায়বদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দুটোই স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে। ক্লাব ও খেলোয়াড় উভয়ই দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বে স্বচ্ছন্দ মনে করছে।

ফুটবল বিশ্লেষকদের চোখে এই পর্যায় ইগরের জন্য ব্রাজিল জাতীয় দলের দরজাও খুলতে পারে। প্রিমিয়ার লিগের মতো কড়া প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে সাফল্য দেখানো মানে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার যোগ্যতা অর্জন। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, তিনি যদি এই গতির ধারাবাহিকতা রাখতে পারেন তবে বিশ্ব ফুটবলের বড় তারকাদের সারিতে দ্রুত জায়গা করে নিতে সক্ষম হবেন।

এখন পর্যন্ত এই রেকর্ড-জয়, নতুন চুক্তি এবং ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্কের দৃঢ়তা — সব মিলিয়ে ইগর থিয়াগোর ক্যারিয়ারে একটি স্মরণীয় ও উজ্জ্বল অধ্যায় তৈরি করেছে। ব্রেন্টফোর্ড ক্লাবের ইতিহাসেও এটি একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে লেখা হবে বলে অনেকে মনে করছেন।

ফুটবল বিশ্ব এখনই হয়তো নতুন এক ব্রাজিলিয়ান স্টারের উত্থান দেখছে; প্রশ্ন শুধু কতদূর তিনি যেতে পারবেন। থিয়াগোর জন্য এই মুহূর্তটি নিঃসন্দেহে সোনালি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নবীন—প্রবীণের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করবে বিএনপি

ইপিএলে প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে দুবারের ‘মাস সেরা’ ইগর থিয়াগো

প্রকাশিতঃ ০৮:২২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে (ইপিএল) প্রথম ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় হিসেবে দুটি পৃথক মাসে ‘মাস সেরা’ নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়লেন ব্রেন্টফোর্ডের ২৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ইগর থিয়াগো। গতকাল শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে জানুয়ারি ২০২৬ মাসের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়; এর আগে তিনি গত বছরের নভেম্বরেও একই সম্মান লাভ করেছিলেন।

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয় — এটিই প্রিমিয়ার লিগে ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের অবস্থাকে নতুনভাবে নির্ধারণ করার ইঙ্গিত বহন করে। রবার্তো ফিরমিনো, ফার্নান্দিনহো বা ফিলিপে কৌতিনহোদের মতো নামরা দীর্ঘ সময় লিগ মাতিয়ে রেখেও দুইবার এই পুরস্কার জেতেননি। ডেভিড লুইজ, জুনিনহো পাউলিস্টা, রদ্রিগো মুনিজ, এডু ও লুকাস মউরা ইত্যাদি খেলোয়াড়রা একবার করে এই সম্মান পেয়েছেন; কিন্তু দ্বিতীয়বারে পৌঁছানো এখন পর্যন্ত কাউকে টক্কর দিতে পারেনি — যতক্ষণ পর্যন্ত ইগর থিয়াগো সেটি করে দেখাননি।

ক্লাব পর্যায়ে ইগর থিয়াগোর অবদানও স্পষ্ট। দ্রুতগতির আক্রমণ, নির্ভুল ফিনিশিং ও মাঠে সার্বক্ষণিক চাপই তাঁকে জানুয়ারিতে বিশেষ করে আলোকিত করেছে। তাঁর গোলগুলো ও খেলার ধাঁচ ব্রেন্টফোর্ডকে লিগ সারণীতে উঁচুতে ধরে রাখতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে, ফলে ক্লাব ও সমর্থকদের মধ্যেও তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

ব্যক্তিগত অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গত মাসেই থিয়াগো ব্রেন্টফোর্ডের সঙ্গে সাড়ে পাঁচ বছরের (৫.৫ বছর) নতুন চুক্তি নবায়ন করেছেন — এটা ক্লাবের ওপর তার দায়বদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দুটোই স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে। ক্লাব ও খেলোয়াড় উভয়ই দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বে স্বচ্ছন্দ মনে করছে।

ফুটবল বিশ্লেষকদের চোখে এই পর্যায় ইগরের জন্য ব্রাজিল জাতীয় দলের দরজাও খুলতে পারে। প্রিমিয়ার লিগের মতো কড়া প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে সাফল্য দেখানো মানে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার যোগ্যতা অর্জন। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, তিনি যদি এই গতির ধারাবাহিকতা রাখতে পারেন তবে বিশ্ব ফুটবলের বড় তারকাদের সারিতে দ্রুত জায়গা করে নিতে সক্ষম হবেন।

এখন পর্যন্ত এই রেকর্ড-জয়, নতুন চুক্তি এবং ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্কের দৃঢ়তা — সব মিলিয়ে ইগর থিয়াগোর ক্যারিয়ারে একটি স্মরণীয় ও উজ্জ্বল অধ্যায় তৈরি করেছে। ব্রেন্টফোর্ড ক্লাবের ইতিহাসেও এটি একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে লেখা হবে বলে অনেকে মনে করছেন।

ফুটবল বিশ্ব এখনই হয়তো নতুন এক ব্রাজিলিয়ান স্টারের উত্থান দেখছে; প্রশ্ন শুধু কতদূর তিনি যেতে পারবেন। থিয়াগোর জন্য এই মুহূর্তটি নিঃসন্দেহে সোনালি।