১০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আইজিপি বাহারুল আলম পদত্যাগ করেছেন মন্ত্রিসভা ছোট হচ্ছে, কারা ডাক পেতে পারেন? আইজিপি বাহারুল আলমের পদত্যাগ নিয়ে প্রশাসনে তীব্র গুঞ্জন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের শপথে ১৩ দেশের প্রধানকে আমন্ত্রণ গণতান্ত্রিক উন্নয়ন ও নির্বাচনী সফলতার জন্য তিন শীর্ষ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী অভিনন্দন সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান, নতুন সরকারের শপথ আজ মঙ্গলবার আসিফ নজরুলের স্পষ্টবার্তা: বিএনপির মন্ত্রিসভায় আমার থাকাটা সম্ভব নয় সেনাবাহিনী ফিরে যাবে ব্যারাকে: সেনাপ্রধান নবনির্বাচিত সরকার শপথ নিলে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরবে: সেনাপ্রধান

তারেক রহমানের ভাষণে গণতন্ত্রের বিজয় ও শান্তির আহ্বান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ বিজয় শুধুই বাংলাদেশের, এটি গণতন্ত্রের বিজয়। এই বিজয় গণতন্ত্রকামী মানুষদের সম্মিলিত স্বপক্ষে অর্জিত। আজ থেকে আমাদের সবাইের দায়িত্ব হবে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো বিষয়ে অযথা উত্তেজনা সৃষ্টি বা সহিংসতার ঘটনা ঘটালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল শনিবার বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি, যা ছিল তারেক রহমানের প্রথম প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলন। আলোচনা অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ছাড়াও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সমাপনী বক্তব্য তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান দেন।

তারেক রহমান নেতাকর্মীদের শান্ত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলাকালে কোথাও কোথাও ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা হতে পারে, তবে তা যেনো কোনোভাবেই প্রতিশোধ বা হিংসার রূপ না নেয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কোনো অন্যায় বা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা যাবে না। তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ বা মতবৈষম্য কিছুই মানা হবে না—আর কোনোভাবেই দুর্বল জনগণের উপরে দুর্বৃত্তের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না।

তারেক রহমান বলেন, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন ছাড়া গণতন্ত্র টেকসই হবে না। যারা ক্ষমতায় থাকুক না কেন, সকলের জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনের পর দেশে অস্থিতিশীলতা এড়াতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ যেন সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে, সেজন্য আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশে অকার্যকর অর্থনীতি, দুর্বল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি যেন না হয়, সেই প্রার্থনায় আমরা দীর্ঘ দিন পর দেশের জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নতুন সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছি। এ জন্য সকল দল ও অঙ্গনের ঐক্য অপরিহার্য। তিনি জামায়াতে ইসলামি, এনসিপি, ইসলামি আন্দোলনসহ অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দলের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দেশের জন্য চিন্তাধারা আলাদা হলেও সবাই একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি, বিভেদই আমাদের দুর্বলতা।

তারেক রহমান আরও বলেন, গণতন্ত্র ও রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলোই মূল ভবন, সরকার ও বিরোধী দল দায়িত্বশীল ভূমিকা পাল করলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান যথাযথ রূপ নেবে। সব সন্দেহ দূর করে শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ জানান তিনি।

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সমস্যা এবং পররাষ্ট্রনীতির দিকেও তিনি লক্ষ্য করেন। চীন-ভারত সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষা করে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে যাবে, যেখানে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক নির্মাণ হবে। বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের ব্যাপারে তারেক রহমান বলেন, এটি আমাদের দেশের জন্য লাভজনক হলে, আমরা অবশ্যই অংশগ্রহণ করব। সার্ক পুনরুজ্জীবনের জন্য তিনি বললেন, বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা এবং উদ্যোগী। আমাদের প্রত্যাশা, সবরকম সহযোগিতায় সার্ক আবার সক্রিয় হবে।

শেখ হাসিনার ভারতের কাছ থেকে প্রত্যর্পণের বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেন, সেটি আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী হবে। সংবাদ সম্মেলনে, তিনি বলেন, জনগণের প্রতিনিধিত্বে নতুন সরকার দেশের উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করবে। আশা ব্যক্ত করেন যে, সকল ধারার দল, বিশেষ করে বিরোধী দল, দায়িত্বশীল আচরণ ও আইনি শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র সুসংহত করবে। এ সময় তিনি ডাক দেন, সকলকে শান্তিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে নির্বাচনের সুষ্ঠু সমাপ্তির জন্য। তিনি আরও বলেন, জনগণের জন্য ভিন্নমত সবসময় মান্য, সকলের সহযোগিতায় গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেও ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত গোপনীয় ও দায়িত্বশীল। জনগণকে প্রতিপক্ষের বিভ্রান্তিতে পড়তে দেওয়া হবে না। সর্বশেষ, তিনি চীন-ভারত সম্পর্কসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রসঙ্গেও শোষ্য করেছেন। বাংলাদেশে স্বার্থবাহী পররাষ্ট্রনীতির জন্য তিনি বললেন, দেশের স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে আমাদের কাজ করতে হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

মন্ত্রিসভা ছোট হচ্ছে, কারা ডাক পেতে পারেন?

তারেক রহমানের ভাষণে গণতন্ত্রের বিজয় ও শান্তির আহ্বান

প্রকাশিতঃ ১১:৪৮:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ বিজয় শুধুই বাংলাদেশের, এটি গণতন্ত্রের বিজয়। এই বিজয় গণতন্ত্রকামী মানুষদের সম্মিলিত স্বপক্ষে অর্জিত। আজ থেকে আমাদের সবাইের দায়িত্ব হবে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো বিষয়ে অযথা উত্তেজনা সৃষ্টি বা সহিংসতার ঘটনা ঘটালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল শনিবার বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি, যা ছিল তারেক রহমানের প্রথম প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলন। আলোচনা অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ছাড়াও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সমাপনী বক্তব্য তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান দেন।

তারেক রহমান নেতাকর্মীদের শান্ত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলাকালে কোথাও কোথাও ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা হতে পারে, তবে তা যেনো কোনোভাবেই প্রতিশোধ বা হিংসার রূপ না নেয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কোনো অন্যায় বা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা যাবে না। তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ বা মতবৈষম্য কিছুই মানা হবে না—আর কোনোভাবেই দুর্বল জনগণের উপরে দুর্বৃত্তের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না।

তারেক রহমান বলেন, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন ছাড়া গণতন্ত্র টেকসই হবে না। যারা ক্ষমতায় থাকুক না কেন, সকলের জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনের পর দেশে অস্থিতিশীলতা এড়াতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ যেন সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে, সেজন্য আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশে অকার্যকর অর্থনীতি, দুর্বল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি যেন না হয়, সেই প্রার্থনায় আমরা দীর্ঘ দিন পর দেশের জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নতুন সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছি। এ জন্য সকল দল ও অঙ্গনের ঐক্য অপরিহার্য। তিনি জামায়াতে ইসলামি, এনসিপি, ইসলামি আন্দোলনসহ অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দলের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দেশের জন্য চিন্তাধারা আলাদা হলেও সবাই একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি, বিভেদই আমাদের দুর্বলতা।

তারেক রহমান আরও বলেন, গণতন্ত্র ও রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলোই মূল ভবন, সরকার ও বিরোধী দল দায়িত্বশীল ভূমিকা পাল করলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান যথাযথ রূপ নেবে। সব সন্দেহ দূর করে শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ জানান তিনি।

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সমস্যা এবং পররাষ্ট্রনীতির দিকেও তিনি লক্ষ্য করেন। চীন-ভারত সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষা করে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে যাবে, যেখানে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক নির্মাণ হবে। বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের ব্যাপারে তারেক রহমান বলেন, এটি আমাদের দেশের জন্য লাভজনক হলে, আমরা অবশ্যই অংশগ্রহণ করব। সার্ক পুনরুজ্জীবনের জন্য তিনি বললেন, বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা এবং উদ্যোগী। আমাদের প্রত্যাশা, সবরকম সহযোগিতায় সার্ক আবার সক্রিয় হবে।

শেখ হাসিনার ভারতের কাছ থেকে প্রত্যর্পণের বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেন, সেটি আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী হবে। সংবাদ সম্মেলনে, তিনি বলেন, জনগণের প্রতিনিধিত্বে নতুন সরকার দেশের উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করবে। আশা ব্যক্ত করেন যে, সকল ধারার দল, বিশেষ করে বিরোধী দল, দায়িত্বশীল আচরণ ও আইনি শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র সুসংহত করবে। এ সময় তিনি ডাক দেন, সকলকে শান্তিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে নির্বাচনের সুষ্ঠু সমাপ্তির জন্য। তিনি আরও বলেন, জনগণের জন্য ভিন্নমত সবসময় মান্য, সকলের সহযোগিতায় গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেও ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত গোপনীয় ও দায়িত্বশীল। জনগণকে প্রতিপক্ষের বিভ্রান্তিতে পড়তে দেওয়া হবে না। সর্বশেষ, তিনি চীন-ভারত সম্পর্কসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রসঙ্গেও শোষ্য করেছেন। বাংলাদেশে স্বার্থবাহী পররাষ্ট্রনীতির জন্য তিনি বললেন, দেশের স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে আমাদের কাজ করতে হবে।