১২:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
চলতি ও আগামী মাসে দেশে আসছে আরও ১৬ কার্গো এলএনজি ৭ নভেম্বর পুনরায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঘোষণা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়ান ওয়াওয়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ টাইমের ‘বিশ্বের সেরা ১০০’ তালিকায় জায়গা পেয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন এপ্রিলেই ভারত থেকে আরও ১৭ হাজার টন ডিজেল আসছে অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বদলি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি এজেক প্লাস সম্মেলনে বক্তব্য রাখলেন কক্সবাজার থেকে শিগগিরই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু হবে: বিমানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা: ১ জুলাই থেকে পাঁচ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু প্রধানমন্ত্রী জানালেন: সরকারি ৫ লাখ কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত

টিআইবি প্রতিবেদনে: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী ৭৯.৪৬% প্রার্থী কোটিপতি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের বড় অংশই বড় সম্পদের মালিক। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ২৩৬ জন জয়ী সংসদ সদস্য বা প্রায় ৭৯.৪৬% প্রার্থী কোটিপতি—আর মাঝে ১৩ জনের সম্পদের পরিমাণ এমন স্তরে যে তারা ‘শতকোটিপতি’ হিসেবে চিহ্নিত হয় (অর্থাৎ সম্পদ শতকোটি টাকারও বেশি)। এই তথ্যগুলো দেশীয় রাজনৈতিক অর্থনীতির একটি নতুন চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।

প্রতিবেদনের আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা ছিল সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে, যেখানে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামা ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক রিপোর্টটি উন্মোচন করা হয়। টিআইবির গবেষণায় উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একাধিক অনিয়ম লক্ষ্য করা গেলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমের কারণে অনেক জাল ভোটের চেষ্টা রোধ করা গিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৪০ শতাংশ কেন্দ্রে একাধিক ধরনের অনিয়ম দেখা গেছে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ৭৫ শতাংশ জালভোটের চেষ্টাই প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, ‘এবারের সংসদ নির্বাচন মোটামুটি গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে’—তবে তা সমস্যাহীন ছিল না। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে যে প্রার্থীরা নির্ধারিত গড় ব্যয়সীমার চেয়ে গড়ে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা বেশি ব্যয় করেছেন এবং ৯৯ শতাংশ প্রার্থী কোনো না কোনোভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন।

রিপোর্টে বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে শুধুমাত্র আর্থিক দিক নয়, ভোট প্রশাসন ও স্থানীয় শক্তির ব্যবহার সম্পর্কেও প্রশ্ন রয়েছে। তাতে দুর্নীতির আভাস, প্রচারণার অনিয়ম এবং হলফনামায় তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব তুলে ধরা হয়েছে। এক নজিরি পর্যবেক্ষণে টিআইবি কোম্প্লেক্স ধরনের আচরণ ও আর্থিক প্রবাহের প্রভাব নিয়ে সতর্কবার্তাও দেয়।

রিপোর্টে একটি নজরকাড়া দিক হিসেবে টিআইবি জানিয়েছে যে, কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের কর্মী ও সমর্থকরা একদমই নির্বাচন বয়কট করেনি; বরং অনেকে বিভিন্নভাবে নির্বাচনী কার্যক্রমে সক্রিয় ছিল—কখনও নিজ দলের হয়ে, কখনও বিপক্ষের পক্ষে।

টিআইবি এই পরিসংখ্যা ও বিশ্লেষণটিকে নির্বাচন পরবর্তী সংস্কার প্রক্রিয়া, প্রার্থীদের হলফনামার স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং নির্বাচনব্যবস্থার সততা পুনর্বিবেচনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে দেখছে। রিপোর্টের সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে হলফনামা যাচাই-প্রক্রিয়া শক্ত করা, নির্বাচনী ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ এবং স্থানীয় পর্যায়ে অনিয়ম তদন্তের জন্য স্বতন্ত্র ব্যবস্থার প্রস্তাব।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

৭ নভেম্বর পুনরায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঘোষণা

টিআইবি প্রতিবেদনে: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী ৭৯.৪৬% প্রার্থী কোটিপতি

প্রকাশিতঃ ১১:৩৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের বড় অংশই বড় সম্পদের মালিক। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ২৩৬ জন জয়ী সংসদ সদস্য বা প্রায় ৭৯.৪৬% প্রার্থী কোটিপতি—আর মাঝে ১৩ জনের সম্পদের পরিমাণ এমন স্তরে যে তারা ‘শতকোটিপতি’ হিসেবে চিহ্নিত হয় (অর্থাৎ সম্পদ শতকোটি টাকারও বেশি)। এই তথ্যগুলো দেশীয় রাজনৈতিক অর্থনীতির একটি নতুন চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।

প্রতিবেদনের আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা ছিল সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে, যেখানে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামা ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক রিপোর্টটি উন্মোচন করা হয়। টিআইবির গবেষণায় উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একাধিক অনিয়ম লক্ষ্য করা গেলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমের কারণে অনেক জাল ভোটের চেষ্টা রোধ করা গিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৪০ শতাংশ কেন্দ্রে একাধিক ধরনের অনিয়ম দেখা গেছে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ৭৫ শতাংশ জালভোটের চেষ্টাই প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, ‘এবারের সংসদ নির্বাচন মোটামুটি গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে’—তবে তা সমস্যাহীন ছিল না। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে যে প্রার্থীরা নির্ধারিত গড় ব্যয়সীমার চেয়ে গড়ে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা বেশি ব্যয় করেছেন এবং ৯৯ শতাংশ প্রার্থী কোনো না কোনোভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন।

রিপোর্টে বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে শুধুমাত্র আর্থিক দিক নয়, ভোট প্রশাসন ও স্থানীয় শক্তির ব্যবহার সম্পর্কেও প্রশ্ন রয়েছে। তাতে দুর্নীতির আভাস, প্রচারণার অনিয়ম এবং হলফনামায় তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব তুলে ধরা হয়েছে। এক নজিরি পর্যবেক্ষণে টিআইবি কোম্প্লেক্স ধরনের আচরণ ও আর্থিক প্রবাহের প্রভাব নিয়ে সতর্কবার্তাও দেয়।

রিপোর্টে একটি নজরকাড়া দিক হিসেবে টিআইবি জানিয়েছে যে, কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের কর্মী ও সমর্থকরা একদমই নির্বাচন বয়কট করেনি; বরং অনেকে বিভিন্নভাবে নির্বাচনী কার্যক্রমে সক্রিয় ছিল—কখনও নিজ দলের হয়ে, কখনও বিপক্ষের পক্ষে।

টিআইবি এই পরিসংখ্যা ও বিশ্লেষণটিকে নির্বাচন পরবর্তী সংস্কার প্রক্রিয়া, প্রার্থীদের হলফনামার স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং নির্বাচনব্যবস্থার সততা পুনর্বিবেচনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে দেখছে। রিপোর্টের সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে হলফনামা যাচাই-প্রক্রিয়া শক্ত করা, নির্বাচনী ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ এবং স্থানীয় পর্যায়ে অনিয়ম তদন্তের জন্য স্বতন্ত্র ব্যবস্থার প্রস্তাব।