০২:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

মধ্যপ্রাচ্যে ‘বাইবেলসম্মত অধিকার’ ইসরায়েলের আছে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি

ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেছেন, পুরো মধ্যপ্রাচ্য বা অন্তত এর একটি বড় অংশের উপর ইসরায়েলের ‘বাইবেলসম্মত অধিকার’ রয়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে শুক্রবার এই মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রম্প প্রশাসনের সময়ে নিযুক্ত ও আরকানসাসের সাবেক গভর্নর হাকাবি সেই সাক্ষাৎকারে বলেন, ইসরায়েল যদি পুরো ঐ ভূখণ্ডই নিয়েই নেয়, তাতেও তিনি আপত্তি করবেন না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টিয়ান জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং ওল্ড টেস্টামেন্ট বা পৈত্রিক বাইবেলের ব্যাখ্যা নিয়েও কথা বলেন।

আলোচনায় কার্লসন বাইবেলের এমন একটি আয়াতের কথা তুলে আনেন, যেখানে ঈশ্বর ইব্রাহিমের বংশধরদের জন্য মিশরীয় নদী থেকে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ভূমির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—প্রাচীন শব্দে নীল থেকে ইউফ্রেটিস। কার্লসনের ভাষ্য অনুযায়ী, আধুনিক মানচিত্রে ওই অঞ্চলে লেভান্ট অঞ্চলসহ ইসরায়েল, জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন এবং সৌদি আরব ও ইরাকের কিছু বড় অংশ পড়তে পারে।

জবাবে হাকাবি বলেছেন, ঠিক কোথা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে তা তিনি নির্ধারণ করে বলতে পারেন না, তবে এটি এক বিশাল ভূখণ্ড। তিনি বলেন, সৃষ্টিকর্তা ইব্রাহিমের মাধ্যমে এক জনগোষ্ঠীকে এই ভূমি দিয়েছেন—এমনটি তার বক্তব্য।

কার্লসন সরাসরি জানতে চাইলে, ওই ভূখণ্ডের ওপর ইসরায়েলের অধিকার আছে কি না, হাকাবি বলেন, ‘তারা যদি পুরোটা নিয়েই নেয়, সেটাই সুন্দর হবে’—এই রকম এক কথাবার্তা তিনি ব্যবহার করেন।

সাক্ষাৎকারের আগে কার্লসন দাবি করেছেন, ইসরায়েল সফরে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে তাঁর সঙ্গে ‘অস্বাভাবিক আচরণ’ করা হয়েছিল। তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারা পরে জানিয়েছিলেন, তিনি নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়েই গেছেন।

এই বিতর্কে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কার্লসনের সমালোচনা করেছেন। হাকাবিও একই প্ল্যাটফর্মে মন্তব্য করে বলেন, ইসরায়েলসহ যে কোনো দেশে ভ্রমণকারীরা নিয়মিত পাসপোর্ট পরীক্ষা ও নিরাপত্তা তল্লাশির সম্মুখীন হন।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতই কার্লসনের এমন প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল সমর্থন নিয়ে তিনি রক্ষণশীল রাজনীতির মূলধারায় বিতর্কের মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে, হাকাবি দীর্ঘদিন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলপন্থী অবস্থানের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

মধ্যপ্রাচ্যে ‘বাইবেলসম্মত অধিকার’ ইসরায়েলের আছে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি

প্রকাশিতঃ ১১:৩৯:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেছেন, পুরো মধ্যপ্রাচ্য বা অন্তত এর একটি বড় অংশের উপর ইসরায়েলের ‘বাইবেলসম্মত অধিকার’ রয়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে শুক্রবার এই মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রম্প প্রশাসনের সময়ে নিযুক্ত ও আরকানসাসের সাবেক গভর্নর হাকাবি সেই সাক্ষাৎকারে বলেন, ইসরায়েল যদি পুরো ঐ ভূখণ্ডই নিয়েই নেয়, তাতেও তিনি আপত্তি করবেন না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টিয়ান জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং ওল্ড টেস্টামেন্ট বা পৈত্রিক বাইবেলের ব্যাখ্যা নিয়েও কথা বলেন।

আলোচনায় কার্লসন বাইবেলের এমন একটি আয়াতের কথা তুলে আনেন, যেখানে ঈশ্বর ইব্রাহিমের বংশধরদের জন্য মিশরীয় নদী থেকে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ভূমির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—প্রাচীন শব্দে নীল থেকে ইউফ্রেটিস। কার্লসনের ভাষ্য অনুযায়ী, আধুনিক মানচিত্রে ওই অঞ্চলে লেভান্ট অঞ্চলসহ ইসরায়েল, জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন এবং সৌদি আরব ও ইরাকের কিছু বড় অংশ পড়তে পারে।

জবাবে হাকাবি বলেছেন, ঠিক কোথা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে তা তিনি নির্ধারণ করে বলতে পারেন না, তবে এটি এক বিশাল ভূখণ্ড। তিনি বলেন, সৃষ্টিকর্তা ইব্রাহিমের মাধ্যমে এক জনগোষ্ঠীকে এই ভূমি দিয়েছেন—এমনটি তার বক্তব্য।

কার্লসন সরাসরি জানতে চাইলে, ওই ভূখণ্ডের ওপর ইসরায়েলের অধিকার আছে কি না, হাকাবি বলেন, ‘তারা যদি পুরোটা নিয়েই নেয়, সেটাই সুন্দর হবে’—এই রকম এক কথাবার্তা তিনি ব্যবহার করেন।

সাক্ষাৎকারের আগে কার্লসন দাবি করেছেন, ইসরায়েল সফরে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে তাঁর সঙ্গে ‘অস্বাভাবিক আচরণ’ করা হয়েছিল। তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারা পরে জানিয়েছিলেন, তিনি নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়েই গেছেন।

এই বিতর্কে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কার্লসনের সমালোচনা করেছেন। হাকাবিও একই প্ল্যাটফর্মে মন্তব্য করে বলেন, ইসরায়েলসহ যে কোনো দেশে ভ্রমণকারীরা নিয়মিত পাসপোর্ট পরীক্ষা ও নিরাপত্তা তল্লাশির সম্মুখীন হন।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতই কার্লসনের এমন প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল সমর্থন নিয়ে তিনি রক্ষণশীল রাজনীতির মূলধারায় বিতর্কের মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে, হাকাবি দীর্ঘদিন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলপন্থী অবস্থানের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।