১০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
পিএসসির আরেক কোটিপতি গাড়িচালক: দুদকের বিরুদ্ধে মামলা প্রণয় ভার্মা: বাংলাদেশে জনকেন্দ্রিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় ভারত সাগরে লঘুচাপ: খুলনা—বরিশালসহ দুদিন বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী ইসি: ১৪ এপ্রিলের আগেই বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ উপনির্বাচন পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল শুরু: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী চেকপোস্টে পুলিশ কনস্টেবল ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত দুর্বল বলে কাউকে আঘাত করা যাবে না: গয়েশ্বর দুর্বল বলে কাউকে আঘাত করা চলবে না: গয়েশ্বর ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ১০–১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে

এক বই, দুই ব্লকবাস্টার: হুসেন জাইদির মুম্বাই কাহিনী ফের আলোচনায়

জনপ্রিয় অপরাধ-লেখক হুসেন জাইদির নন-ফিকশন বই ‘মাফিয়া কুইনস অব মুম্বাই’ আবারও বিনোদন জগতের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠেছে। ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষে ভারতে মুক্তি পাওয়া বিশাল ভরদ্বাজের ‘ও রোমিও’ যদিও বক্স অফিসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পায়, তবুও এটি প্রমাণ করে যে জাইদির লেখা কতটা প্রাণবন্ত এবং পর্দায় অনুবাদযোগ্য। ‘ও রোমিও’ তৈরির উৎস হিসেবে ওই বইয়ের একটি বিশেষ অধ্যায় থেকেই ধারণা নেওয়া হয়েছে। এটি ওয়ান-বুক-টু-টু-ফিল্ম—একই বইয়ের ভিন্ন অধ্যায় থেকে আলাদা দুটি বড় বাজেটের চলচ্চিত্র উঠে আসা—সম্প্রতি ছবির জগতের এক বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভিশাল ভরদ্বাজের ‘ও রোমিও’ মূলত গ্যাংস্টার হুসেন উস্তারার জীবনের ছায়া থেকে অনুপ্রাণিত। শহীদ কাপুর উস্তারার ভূমিকায় এবং তৃপ্তি দিমরি আফশা খানের চরিত্রে শুরুর থেকেই শক্তিশালী উপস্থিতি দেখান। তৃপ্তির চরিত্রটি বাস্তবের রহস্যময় এক নারী ‘স্বপ্না দিদি’ থেকে অনুপ্রাণিত—যিনি বিশ্বাস করতেন আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমই তাঁর স্বামীকে হত্যা করেছে। প্রতিশোধ ও সম্পর্কের জটিলতাই সিনেমার মূল চালিকা শক্তি। পাশাপাশি বিক্রান্ত ম্যাসি, তামান্না ভাটিয়া ও nana পাটেকরের মতো প্রতিষ্ঠিত অভিনেতাদের পারফরম্যান্স সিনেমাটিকে ততটাই শক্তিশালী করেছে।

অন্যদিকে ২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’ উল্টোদিকে বইটির আরেকটি অধ্যায় থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হয়েছিল। আলিয়া ভাট অভিনীত এই সিনেমা ১৯৬০-এর দশকের মুম্বাইয়ের কামাথিপুরার পটভূমিতে এক নারীর যৌনপল্লী থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতায় ওঠার গল্প বলেছে এবং তা ব্যবসায়িক ও সমালোচকদের প্রশংসা দুটোই পেয়েছে। বানসালি নিজে দাবি করেছিলেন, তিনি যখন জাইদির বইয়ের স্বত্ব নেন, তখন লেখকও আওহ করে যান—কারণ ওই অধ্যায়টি বইয়ের সবথেকে অন্ধকার ও ট্র্যাজিক অংশগুলোর মধ্যে একটি ছিল। বানসালির দীর্ঘকালীন মুম্বাইবাস ও বাস্তব জীবনের কাছের সংস্পর্শই তাকে সেই ট্র্যাজেডিকে পর্দায় শক্তভাবে তুলে ধরতে সাহায্য করেছিল।

২০১১ সালে প্রকাশিত জাইদির বইটিতে মোট ১৩ জন প্রভাবশালী নারীর জীবনী রয়েছে। গাঙ্গুবাই ও স্বপ্না দিদি ছাড়াও তালিকায় আছে জেনাবাই দারুওয়ালি, নীতা নায়েক, মনিকা বেদি, সুজাতা নিখালজে, পদ্মা পূজারি ইত্যাদি নামগুলো। পুরুষপ্রধান মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডকে নিজের কৌশল, সাহস ও বুদ্ধিমত্তায় কিভাবে এই নারীরা মোকাবিলা করেছেন এবং বিশাল সম্রাজ্য গড়েছেন—জাইদি তা সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই নারীদের জীবনের প্রতিটি অধ্যায়েই থাকে রোমাঞ্চ, ক্ষমতার লড়াই ও মানবিক দুর্বলতার মিশ্রণ, যা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য আজও অনুপ্রেরণার অবিরাম উৎস।

একই বইয়ের ভিন্ন অধ্যায় থেকে দুটি বড়মাত্রার সিনেমা তৈরির ঘটনা সমসাময়িক চলচ্চিত্রজগতে অবশ্যই বিরল এবং তা লেখকের প্রামাণ্য গবেষণা ও চরিত্রচিত্রণের গভীরতারই পরিচায়ক।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রণয় ভার্মা: বাংলাদেশে জনকেন্দ্রিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় ভারত

এক বই, দুই ব্লকবাস্টার: হুসেন জাইদির মুম্বাই কাহিনী ফের আলোচনায়

প্রকাশিতঃ ০৮:২১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জনপ্রিয় অপরাধ-লেখক হুসেন জাইদির নন-ফিকশন বই ‘মাফিয়া কুইনস অব মুম্বাই’ আবারও বিনোদন জগতের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠেছে। ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষে ভারতে মুক্তি পাওয়া বিশাল ভরদ্বাজের ‘ও রোমিও’ যদিও বক্স অফিসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পায়, তবুও এটি প্রমাণ করে যে জাইদির লেখা কতটা প্রাণবন্ত এবং পর্দায় অনুবাদযোগ্য। ‘ও রোমিও’ তৈরির উৎস হিসেবে ওই বইয়ের একটি বিশেষ অধ্যায় থেকেই ধারণা নেওয়া হয়েছে। এটি ওয়ান-বুক-টু-টু-ফিল্ম—একই বইয়ের ভিন্ন অধ্যায় থেকে আলাদা দুটি বড় বাজেটের চলচ্চিত্র উঠে আসা—সম্প্রতি ছবির জগতের এক বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভিশাল ভরদ্বাজের ‘ও রোমিও’ মূলত গ্যাংস্টার হুসেন উস্তারার জীবনের ছায়া থেকে অনুপ্রাণিত। শহীদ কাপুর উস্তারার ভূমিকায় এবং তৃপ্তি দিমরি আফশা খানের চরিত্রে শুরুর থেকেই শক্তিশালী উপস্থিতি দেখান। তৃপ্তির চরিত্রটি বাস্তবের রহস্যময় এক নারী ‘স্বপ্না দিদি’ থেকে অনুপ্রাণিত—যিনি বিশ্বাস করতেন আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমই তাঁর স্বামীকে হত্যা করেছে। প্রতিশোধ ও সম্পর্কের জটিলতাই সিনেমার মূল চালিকা শক্তি। পাশাপাশি বিক্রান্ত ম্যাসি, তামান্না ভাটিয়া ও nana পাটেকরের মতো প্রতিষ্ঠিত অভিনেতাদের পারফরম্যান্স সিনেমাটিকে ততটাই শক্তিশালী করেছে।

অন্যদিকে ২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’ উল্টোদিকে বইটির আরেকটি অধ্যায় থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হয়েছিল। আলিয়া ভাট অভিনীত এই সিনেমা ১৯৬০-এর দশকের মুম্বাইয়ের কামাথিপুরার পটভূমিতে এক নারীর যৌনপল্লী থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতায় ওঠার গল্প বলেছে এবং তা ব্যবসায়িক ও সমালোচকদের প্রশংসা দুটোই পেয়েছে। বানসালি নিজে দাবি করেছিলেন, তিনি যখন জাইদির বইয়ের স্বত্ব নেন, তখন লেখকও আওহ করে যান—কারণ ওই অধ্যায়টি বইয়ের সবথেকে অন্ধকার ও ট্র্যাজিক অংশগুলোর মধ্যে একটি ছিল। বানসালির দীর্ঘকালীন মুম্বাইবাস ও বাস্তব জীবনের কাছের সংস্পর্শই তাকে সেই ট্র্যাজেডিকে পর্দায় শক্তভাবে তুলে ধরতে সাহায্য করেছিল।

২০১১ সালে প্রকাশিত জাইদির বইটিতে মোট ১৩ জন প্রভাবশালী নারীর জীবনী রয়েছে। গাঙ্গুবাই ও স্বপ্না দিদি ছাড়াও তালিকায় আছে জেনাবাই দারুওয়ালি, নীতা নায়েক, মনিকা বেদি, সুজাতা নিখালজে, পদ্মা পূজারি ইত্যাদি নামগুলো। পুরুষপ্রধান মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডকে নিজের কৌশল, সাহস ও বুদ্ধিমত্তায় কিভাবে এই নারীরা মোকাবিলা করেছেন এবং বিশাল সম্রাজ্য গড়েছেন—জাইদি তা সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই নারীদের জীবনের প্রতিটি অধ্যায়েই থাকে রোমাঞ্চ, ক্ষমতার লড়াই ও মানবিক দুর্বলতার মিশ্রণ, যা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য আজও অনুপ্রেরণার অবিরাম উৎস।

একই বইয়ের ভিন্ন অধ্যায় থেকে দুটি বড়মাত্রার সিনেমা তৈরির ঘটনা সমসাময়িক চলচ্চিত্রজগতে অবশ্যই বিরল এবং তা লেখকের প্রামাণ্য গবেষণা ও চরিত্রচিত্রণের গভীরতারই পরিচায়ক।