০৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তরেক রহমান: টিকে থাকতে মেধাভিত্তিক রাষ্ট্রই একমাত্র বিকল্প

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সমৃদ্ধি ও সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠন করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তিনি জানান, এজন্য জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মেধায় নিজেদের সমৃদ্ধ করে তোলা দরকার এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার সঙ্গে দেশকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করার চেষ্টা করা হবে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলা একাডেমির আয়োজিত ‘অমর একুশে বইমেলা-২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মেলার প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বইমেলা কেবল বই বেচাকেনার উৎসব নয়; এটি জাতির মেধা ও মননের প্রতীক। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই মেলা জাতিকে আরও বইপ্রেমী করবে এবং নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সূতিকাগার হিসেবে বইমেলার গুরুত্ব অপরিসীম। ‘১৯৭৮ সাল থেকে শুরু হওয়া অমর একুশে বইমেলা এখন জাতির মেধা-মননের প্রতীকে পরিণত হয়েছে’, তিনি বলেন। ভাষা মাস ফেব্রুয়ারিতে মেলা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এ বছর মেলা নির্ধারিত সময় থেকে কিছুটা পরে শুরু হয়েছে—তথ্যটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বইমেলা প্রচলিত থাকলেও বাংলাদেশের বইমেলার একটা ভিন্ন ভাব ও ইতিহাস আছে; এটি ভাষা আন্দোলন ও মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের স্মারকও বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বই পড়ার গুরুত্বে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী রোমান দার্শনিক মার্কাস টুলিয়াস সিসেরোর একটি উক্তি উদ্ধৃত করেন— “বই ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো।” তিনি আরও বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত বই পড়া মস্তিষ্কে নতুন সংযোগ সৃষ্টি করে, স্মৃতিশক্তি ও বিশ্লেষণী দক্ষতা বাড়ায় এবং আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

তথ্যপ্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার তরুণ প্রজন্মকে বইবিমুখ করে তুলছে। যদিও ইন্টারনেটেও বই পড়া যায়, তবুও দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইলের পর্দায় কাটালে তার নেতিবাচক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। যুক্তরাজ্য ও কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ইন্টারনেট আসক্তি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে, তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

পাঠাভ্যাস সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক জরিপের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক সিইও ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের জরিপে ১০২টি দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বই পড়ায় শীর্ষে এবং তালিকার নীচে আফগানিস্তান। ওই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। বাংলাদেশে একজন মানুষ গড়ে বছরে প্রায় তিনটি বই পড়েন এবং বছরে বই পড়ায় সময় ব্যয় করেন প্রায় ৬২ ঘণ্টা।

বইমেলাকে আরও সম্প্রসারণের প্রস্তাব রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে ‘অমর একুশে বইমেলা’কে আন্তর্জাতিক বইমেলা হিসেবে আয়োজন করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন সাহিত্যের সঙ্গে পরিচয়, ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ বাড়বে। বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের একাধিক দফতরভিত্তিক স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

মেলার মাসব্যাপী আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশন, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন, সংগীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতাসহ নানা কর্মসূচিকে তিনি ইতিবাচক উদ্যোগ আখ্যা দেন। এসব কর্মসূচি নতুন প্রজন্মের প্রতিভা সন্ধান ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বইমেলা শুধু ফেব্রুয়ারিতে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সীমাবদ্ধ না রেখে সারাবছর বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আয়োজিত করা যেতে পারে। এর জন্য প্রকাশকদের সক্রিয় ভূমিকার সঙ্গে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতাও থাকবে।

বাংলা একাডেমির গবেষণাবৃত্তি, তরুণ লেখক প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সেমিনারের মতো উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এগুলো ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও ব্যাপকভাবে প্রচলিত হবে। দেশের সাহিত্যকে ইংরেজিসহ অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করার উদ্যোগও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

সবশেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অমর একুশে বইমেলা ও একুশে অনুষ্ঠানমালা ২০২৬’ উদ্বোধন করেন এবং তা সফল ও সমৃদ্ধ হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

তরেক রহমান: টিকে থাকতে মেধাভিত্তিক রাষ্ট্রই একমাত্র বিকল্প

প্রকাশিতঃ ০৭:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সমৃদ্ধি ও সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠন করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তিনি জানান, এজন্য জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মেধায় নিজেদের সমৃদ্ধ করে তোলা দরকার এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার সঙ্গে দেশকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করার চেষ্টা করা হবে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলা একাডেমির আয়োজিত ‘অমর একুশে বইমেলা-২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মেলার প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বইমেলা কেবল বই বেচাকেনার উৎসব নয়; এটি জাতির মেধা ও মননের প্রতীক। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই মেলা জাতিকে আরও বইপ্রেমী করবে এবং নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সূতিকাগার হিসেবে বইমেলার গুরুত্ব অপরিসীম। ‘১৯৭৮ সাল থেকে শুরু হওয়া অমর একুশে বইমেলা এখন জাতির মেধা-মননের প্রতীকে পরিণত হয়েছে’, তিনি বলেন। ভাষা মাস ফেব্রুয়ারিতে মেলা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এ বছর মেলা নির্ধারিত সময় থেকে কিছুটা পরে শুরু হয়েছে—তথ্যটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বইমেলা প্রচলিত থাকলেও বাংলাদেশের বইমেলার একটা ভিন্ন ভাব ও ইতিহাস আছে; এটি ভাষা আন্দোলন ও মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের স্মারকও বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বই পড়ার গুরুত্বে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী রোমান দার্শনিক মার্কাস টুলিয়াস সিসেরোর একটি উক্তি উদ্ধৃত করেন— “বই ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো।” তিনি আরও বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত বই পড়া মস্তিষ্কে নতুন সংযোগ সৃষ্টি করে, স্মৃতিশক্তি ও বিশ্লেষণী দক্ষতা বাড়ায় এবং আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

তথ্যপ্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার তরুণ প্রজন্মকে বইবিমুখ করে তুলছে। যদিও ইন্টারনেটেও বই পড়া যায়, তবুও দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইলের পর্দায় কাটালে তার নেতিবাচক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। যুক্তরাজ্য ও কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ইন্টারনেট আসক্তি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে, তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

পাঠাভ্যাস সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক জরিপের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক সিইও ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের জরিপে ১০২টি দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বই পড়ায় শীর্ষে এবং তালিকার নীচে আফগানিস্তান। ওই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। বাংলাদেশে একজন মানুষ গড়ে বছরে প্রায় তিনটি বই পড়েন এবং বছরে বই পড়ায় সময় ব্যয় করেন প্রায় ৬২ ঘণ্টা।

বইমেলাকে আরও সম্প্রসারণের প্রস্তাব রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে ‘অমর একুশে বইমেলা’কে আন্তর্জাতিক বইমেলা হিসেবে আয়োজন করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন সাহিত্যের সঙ্গে পরিচয়, ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ বাড়বে। বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের একাধিক দফতরভিত্তিক স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

মেলার মাসব্যাপী আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশন, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন, সংগীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতাসহ নানা কর্মসূচিকে তিনি ইতিবাচক উদ্যোগ আখ্যা দেন। এসব কর্মসূচি নতুন প্রজন্মের প্রতিভা সন্ধান ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বইমেলা শুধু ফেব্রুয়ারিতে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সীমাবদ্ধ না রেখে সারাবছর বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আয়োজিত করা যেতে পারে। এর জন্য প্রকাশকদের সক্রিয় ভূমিকার সঙ্গে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতাও থাকবে।

বাংলা একাডেমির গবেষণাবৃত্তি, তরুণ লেখক প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সেমিনারের মতো উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এগুলো ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও ব্যাপকভাবে প্রচলিত হবে। দেশের সাহিত্যকে ইংরেজিসহ অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করার উদ্যোগও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

সবশেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অমর একুশে বইমেলা ও একুশে অনুষ্ঠানমালা ২০২৬’ উদ্বোধন করেন এবং তা সফল ও সমৃদ্ধ হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।