১১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ই-রিটার্নে নতুন মাইলফলক: অনলাইনে আয়কর জমা ৪০ লাখ ছাড়ালো

দেশের কর ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরে বড় অগ্রগতি দেখিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআরের বুধবার (৪ মার্চ) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ কর বছরে এখন পর্যন্ত অনলাইনে ৪০ লাখের বেশি করদাতা তাঁদের ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। গত বছরের তুলনায় ই-রিটার্ন দাখিলের সংখ্যায় প্রায় তিন গুণ বাড়া এই সেবায় নাগরিকদের আস্থার সরাসরি প্রতিফলন বলেই জানিয়েছে সংস্থাটি।

এনবিআর আরও জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণি ছাড়া সকল ব্যক্তি শ্রেণির জন্য অনলাইনে আয়কর দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গত ৪ আগস্ট থেকে চালু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করেছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসে সর্বোচ্চ ১০ লাখ ৪০ হাজার এবং ডিসেম্বরে প্রায় ৯ লাখ ৭৮ হাজার রিটার্ন জমা পড়েছিল। চলতি মার্চের প্রথম চার দিনে প্রায় ৩৭ হাজার করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন। গত বছর নির্ধারিত সময়ে ই-রিটার্ন দাখিল করেছিলেন মাত্র ১৩ লাখ ৯৯ হাজার করদাতা।

দাখিলকৃত রিটার্নের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দাখিলকৃত রিটার্নের মধ্যে ২৮ লাখ ৬৬ হাজার পুরুষ এবং ১১ লাখ ৩৬ হাজার মহিলা করদাতার নাম রয়েছে। বেতনভোগী শ্রেণির করদাতার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—প্রায় ২১ লাখ করদাতা তাদের বেতনের আয় দেখিয়েছেন। এছাড়া ভাড়া আয় ও অন্যান্য খাত থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রিটার্ন জমা পড়েছে। করযোগ্য সীমার নিচে আয় থাকা সত্ত্বেও সচেতনতার পরিচয় দিয়ে প্রায় ২২ লাখ নাগরিক ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। অন্যদিকে সম্পদ ও আয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রায় ৫০ হাজার করদাতা সারচার্জও পরিশোধ করেছেন।

অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের প্রধান সুবিধা হলো সহজলভ্যতা এবং সময় সাশ্রয়। করদাতারা কোনো কাগজপত্র আপলোড না করেই ঘরে বসে কয়েক মিনিটের মধ্যে রিটার্ন পূরণ করে জমা দিতে পারছেন। বিকাশ, নগদ, ক্রেডিট কার্ড অথবা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কর পরিশোধ করলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র এবং আয়কর সনদ প্রিন্ট করার সুযোগ মিলছে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও ইমেইলে ওটিপি নিয়ে অনায়াসেই রিটার্ন করতে পারছেন। যদি জমাকৃত রিটার্নে কোনো ভুল থাকে, তবে ১৮০ দিনের মধ্যে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।

করদাতাদের সহায়তার জন্য এনবিআর প্রতিটি কর অঞ্চলে হেল্পডেস্ক চালু করেছে এবং সার্বক্ষণিক কল সেন্টার (০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১)ও করা হয়েছে। এনবিআর ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিচ্ছে। জরিমানা ও আইনি জটিলতা এড়াতে সংস্থাটি সকল করদাতাকে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে ই-রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে।

প্রযুক্তিগত এই পরিবর্তনের ফলে দেশের রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এনবিআরের তরফে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও সুবিধাজনক সেবা এবং প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে করদাতাদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করা হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ই-রিটার্নে নতুন মাইলফলক: অনলাইনে আয়কর জমা ৪০ লাখ ছাড়ালো

প্রকাশিতঃ ০৮:২৪:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

দেশের কর ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরে বড় অগ্রগতি দেখিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআরের বুধবার (৪ মার্চ) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ কর বছরে এখন পর্যন্ত অনলাইনে ৪০ লাখের বেশি করদাতা তাঁদের ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। গত বছরের তুলনায় ই-রিটার্ন দাখিলের সংখ্যায় প্রায় তিন গুণ বাড়া এই সেবায় নাগরিকদের আস্থার সরাসরি প্রতিফলন বলেই জানিয়েছে সংস্থাটি।

এনবিআর আরও জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণি ছাড়া সকল ব্যক্তি শ্রেণির জন্য অনলাইনে আয়কর দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গত ৪ আগস্ট থেকে চালু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করেছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসে সর্বোচ্চ ১০ লাখ ৪০ হাজার এবং ডিসেম্বরে প্রায় ৯ লাখ ৭৮ হাজার রিটার্ন জমা পড়েছিল। চলতি মার্চের প্রথম চার দিনে প্রায় ৩৭ হাজার করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন। গত বছর নির্ধারিত সময়ে ই-রিটার্ন দাখিল করেছিলেন মাত্র ১৩ লাখ ৯৯ হাজার করদাতা।

দাখিলকৃত রিটার্নের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দাখিলকৃত রিটার্নের মধ্যে ২৮ লাখ ৬৬ হাজার পুরুষ এবং ১১ লাখ ৩৬ হাজার মহিলা করদাতার নাম রয়েছে। বেতনভোগী শ্রেণির করদাতার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—প্রায় ২১ লাখ করদাতা তাদের বেতনের আয় দেখিয়েছেন। এছাড়া ভাড়া আয় ও অন্যান্য খাত থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রিটার্ন জমা পড়েছে। করযোগ্য সীমার নিচে আয় থাকা সত্ত্বেও সচেতনতার পরিচয় দিয়ে প্রায় ২২ লাখ নাগরিক ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। অন্যদিকে সম্পদ ও আয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রায় ৫০ হাজার করদাতা সারচার্জও পরিশোধ করেছেন।

অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের প্রধান সুবিধা হলো সহজলভ্যতা এবং সময় সাশ্রয়। করদাতারা কোনো কাগজপত্র আপলোড না করেই ঘরে বসে কয়েক মিনিটের মধ্যে রিটার্ন পূরণ করে জমা দিতে পারছেন। বিকাশ, নগদ, ক্রেডিট কার্ড অথবা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কর পরিশোধ করলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র এবং আয়কর সনদ প্রিন্ট করার সুযোগ মিলছে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও ইমেইলে ওটিপি নিয়ে অনায়াসেই রিটার্ন করতে পারছেন। যদি জমাকৃত রিটার্নে কোনো ভুল থাকে, তবে ১৮০ দিনের মধ্যে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।

করদাতাদের সহায়তার জন্য এনবিআর প্রতিটি কর অঞ্চলে হেল্পডেস্ক চালু করেছে এবং সার্বক্ষণিক কল সেন্টার (০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১)ও করা হয়েছে। এনবিআর ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিচ্ছে। জরিমানা ও আইনি জটিলতা এড়াতে সংস্থাটি সকল করদাতাকে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে ই-রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে।

প্রযুক্তিগত এই পরিবর্তনের ফলে দেশের রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এনবিআরের তরফে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও সুবিধাজনক সেবা এবং প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে করদাতাদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করা হবে।