০৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ঈদযাত্রায় ‘আইন না জানা অপরাধ’: আইজিপি ঈদযাত্রায় ঘরমুখো ভিড়, নিরাপত্তা জোরদার শবে কদরের সরকারি ছুটিতেও সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ঈদকে সামনে রেখে গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার ঈদ যাত্রা নিরাপদ রাখতে গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার এক মাসে ২৮ পদক্ষেপ: মাহদী আমিনের শিরোনামে প্রধানমন্ত্রীর ‘অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ’ ঈদযাত্রায় তেলের ভোগান্তি, বাসচালক ও পরিবহনকর্মীর দুর্ভোগ চলছেই ঢাকা থেকে ১৭ দিনে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৫২৮টি ফ্লাইট বাতিল প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে দিন-রাত কাজ করবে সরকার: তারেক রহমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতিকে স্নাতক পাস বাধ্যতামূলক ঘোষণা

সাবিনা-সহ নারী ফুটবলারদের জন্য বাফুফের নতুন ঘরোয়া ফুটসাল লিগ

আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাম্প্রতিক সাফল্যের পর ঘরোয়া ফুটসালে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সাফ ফুটসালের অভিষেক টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়া নারী দলের সাফল্যের জের ধরেই বাফুফের ফুটসাল কমিটি ১৬ বছর পর আবারও দেশের ভেতরে ফুটসাল লিগ আয়োজনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। এবারের সবচেয়ে বড় উপতথ্য—সাবিনা খাতুনের মতো নারী ফুটবলারদের জন্য প্রথমবারের মতো ঘরোয়া নারী ফুটসাল লিগের পথ খুলে দেওয়া হচ্ছে।

দেশে শেষ প্রতিযোগিতামূলক ফুটসাল ম্যাচটি হয়েছিল ২০০৮ সালে; তখন প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো অংশ নেয়া টুর্নামেন্টে ব্রাদার্স ইউনিয়ন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এরপর প্রায় দেড় দশক ধরে ঘরোয়া পর্যায়ে ফুটসাল স্থবির ছিল। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত অংশ নিলেও ভেতরে কোনো স্থায়ী কাঠামো না থাকায় প্রতিভা বিকাশে বাধা ছিল। এই অবস্থা কাটাতে এবং আন্তর্জাতিক সফলতাকে ধরে রাখতে বাফুফে এবার নারী ও পুরুষ—উভয় বিভাগের জন্য লিগ পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাফুফে জানিয়েছে, এই লিগে অংশ নেয়ার জন্য ক্লাবগুলোর আগে থেকে কিছু শর্ত মানা বাধ্যতামূলক হবে। সবচে গুরুত্বপূর্ণ নিয়মটি হলো—কোনো ক্লাবই শুধুমাত্র এক বিভাগে অংশ নিতে পারবে না; অংশ নিতে হলে একই ক্লাবকে নারী ও পুরুষ উভয় দল গঠন করতে হবে। এছাড়া ক্লাবগুলোকে অন্তত আগামী দুই মৌসুম লিগে নিয়মিত অংশগ্রহণ করার লিখিত অঙ্গীকার দিতে হবে।

লিগের মান ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোকে পাঁচ লাখ টাকা গ্যারান্টি মানি হিসেবে বাফুফের নামে পে-অর্ডার জমা দিতে হবে। এই টাকা লিগের নিয়ম ও শর্ত পূরণ করলে পরবর্তীতে ফেরতযোগ্য বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দলের নামকরণ নিয়েও বাফুফে অনেকটা সতর্ক: কোনো ক্লাব যদি কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে দল করবেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টি বোর্ড বা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনপত্র জমা দিতে হবে। আবেদনগুলো ক্লাব লাইসেন্সিং কমিটি খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত করবে।

ফেডারেশন সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে লিগটি শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২ মে থেকে। যদিও বাফুফের ঘোষণাকে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং মনে করছেন ঘরোয়া লিগ নারী ফুটবলারদের দক্ষতা আরও বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।

তবে একজনের অভিজ্ঞ ক্রীড়ামহলে একটি দীর্ঘসূত্রি সমস্যা আছে—দেশে নির্ধারিত সময়ে প্রতিযোগিতা শুরু না হওয়ার ইতিহাস। তাই ২ মে মাঠে লিগটি শুরু হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন না করলেও বাফুফে আশা করছে বড় ক্লাবগুলো দ্রুত দল গঠন করে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করবে।

সব মিলিয়ে ফুটসালের ঘরোয়া পুনরুজ্জীবন ও নারী ফুটবলকে আরও শক্তিশালী করার জন্য এই উদ্যোগ যে একটা নতুন উত্তেজনা তৈরি করবে, তাতে আশাবাদী দেশের ফুটবলভক্তরা। মে মাসে মাঠে ফুটসালের নতুন ঢেউ দেখতে পাওয়া যাবে—এই আশায় ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষা করছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সাবিনা-সহ নারী ফুটবলারদের জন্য বাফুফের নতুন ঘরোয়া ফুটসাল লিগ

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাম্প্রতিক সাফল্যের পর ঘরোয়া ফুটসালে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সাফ ফুটসালের অভিষেক টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়া নারী দলের সাফল্যের জের ধরেই বাফুফের ফুটসাল কমিটি ১৬ বছর পর আবারও দেশের ভেতরে ফুটসাল লিগ আয়োজনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। এবারের সবচেয়ে বড় উপতথ্য—সাবিনা খাতুনের মতো নারী ফুটবলারদের জন্য প্রথমবারের মতো ঘরোয়া নারী ফুটসাল লিগের পথ খুলে দেওয়া হচ্ছে।

দেশে শেষ প্রতিযোগিতামূলক ফুটসাল ম্যাচটি হয়েছিল ২০০৮ সালে; তখন প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো অংশ নেয়া টুর্নামেন্টে ব্রাদার্স ইউনিয়ন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এরপর প্রায় দেড় দশক ধরে ঘরোয়া পর্যায়ে ফুটসাল স্থবির ছিল। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত অংশ নিলেও ভেতরে কোনো স্থায়ী কাঠামো না থাকায় প্রতিভা বিকাশে বাধা ছিল। এই অবস্থা কাটাতে এবং আন্তর্জাতিক সফলতাকে ধরে রাখতে বাফুফে এবার নারী ও পুরুষ—উভয় বিভাগের জন্য লিগ পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাফুফে জানিয়েছে, এই লিগে অংশ নেয়ার জন্য ক্লাবগুলোর আগে থেকে কিছু শর্ত মানা বাধ্যতামূলক হবে। সবচে গুরুত্বপূর্ণ নিয়মটি হলো—কোনো ক্লাবই শুধুমাত্র এক বিভাগে অংশ নিতে পারবে না; অংশ নিতে হলে একই ক্লাবকে নারী ও পুরুষ উভয় দল গঠন করতে হবে। এছাড়া ক্লাবগুলোকে অন্তত আগামী দুই মৌসুম লিগে নিয়মিত অংশগ্রহণ করার লিখিত অঙ্গীকার দিতে হবে।

লিগের মান ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোকে পাঁচ লাখ টাকা গ্যারান্টি মানি হিসেবে বাফুফের নামে পে-অর্ডার জমা দিতে হবে। এই টাকা লিগের নিয়ম ও শর্ত পূরণ করলে পরবর্তীতে ফেরতযোগ্য বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দলের নামকরণ নিয়েও বাফুফে অনেকটা সতর্ক: কোনো ক্লাব যদি কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে দল করবেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টি বোর্ড বা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনপত্র জমা দিতে হবে। আবেদনগুলো ক্লাব লাইসেন্সিং কমিটি খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত করবে।

ফেডারেশন সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে লিগটি শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২ মে থেকে। যদিও বাফুফের ঘোষণাকে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং মনে করছেন ঘরোয়া লিগ নারী ফুটবলারদের দক্ষতা আরও বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।

তবে একজনের অভিজ্ঞ ক্রীড়ামহলে একটি দীর্ঘসূত্রি সমস্যা আছে—দেশে নির্ধারিত সময়ে প্রতিযোগিতা শুরু না হওয়ার ইতিহাস। তাই ২ মে মাঠে লিগটি শুরু হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন না করলেও বাফুফে আশা করছে বড় ক্লাবগুলো দ্রুত দল গঠন করে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করবে।

সব মিলিয়ে ফুটসালের ঘরোয়া পুনরুজ্জীবন ও নারী ফুটবলকে আরও শক্তিশালী করার জন্য এই উদ্যোগ যে একটা নতুন উত্তেজনা তৈরি করবে, তাতে আশাবাদী দেশের ফুটবলভক্তরা। মে মাসে মাঠে ফুটসালের নতুন ঢেউ দেখতে পাওয়া যাবে—এই আশায় ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষা করছে।