০৮:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ঈদযাত্রায় ‘আইন না জানা অপরাধ’: আইজিপি ঈদযাত্রায় ঘরমুখো ভিড়, নিরাপত্তা জোরদার শবে কদরের সরকারি ছুটিতেও সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ঈদকে সামনে রেখে গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার ঈদ যাত্রা নিরাপদ রাখতে গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার এক মাসে ২৮ পদক্ষেপ: মাহদী আমিনের শিরোনামে প্রধানমন্ত্রীর ‘অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ’ ঈদযাত্রায় তেলের ভোগান্তি, বাসচালক ও পরিবহনকর্মীর দুর্ভোগ চলছেই ঢাকা থেকে ১৭ দিনে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৫২৮টি ফ্লাইট বাতিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতিকে স্নাতক পাস বাধ্যতামূলক ঘোষণা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে দিন-রাত কাজ করবে সরকার: তারেক রহমান

কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলায় কমপক্ষে ৪০০ নিহত

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলায় কমপক্ষে ৪০০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাহাড়ি আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই বিধ্বংসী আক্রমণটি স্থানীয় সময় সোমবার রাত অর্থাৎ সন্ধ্যার পর কাবুলের একটি বড় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ঘটে বলে সংবাদ সূত্রে জানা গেছে।

তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে হামলার ব্যাপারে দেয়া বিবরণে বলা হয়েছে, সোমবার রাত ৯টার দিকে কাবুলের নবম পুলিশ জেলায় অবস্থিত একটি মাদকাসক্ত নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিমান হামলা চালানো হয়। কেন্দ্রটি প্রায় ২ হাজার শয্যার বিশাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল এবং মূলত মাদকাসক্তদের চিকিৎসা-নিরাময়ের জন্য ব্যবহৃত হতো। হামলায় হাসপাতালের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে পড়ে; বহু চিকিৎসাধীন রোগী ও কর্মী মারা যান, আর প্রায় ২৫০ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা রাখে।

তালেবান প্রশাসনের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত মঙ্গলবার ভোরে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে এই আক্রমণকে ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ ও ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ আখ্যা দেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন যে পাকিস্তানের সামরিক বিমান কাবুলের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে সরাসরি বেসামরিক স্থাপনা ও হাসপাতালে আঘাত করেছে এবং তা আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন।

পাকিস্তান সরকারের দাবি-প্রতিকার পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। ইসলামাবাদের তথ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা সূত্র বলেছে, তাদের বিমানসেরা কেবল সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করে ‘নির্ভুল হামলা’ পরিচালনা করেছে এবং কোনো বেসামরিক হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্রে তারা আঘাত করেনি। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক বিবৃতিতে দাবি করেন, অভিযানটি নির্দিষ্ট সন্ত্রাসী আস্তানার বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল।

এই ঘটনার ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা নতুন ও ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে। গত কয়েকদিন ধরে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি ও উত্তেজনা তীব্র ছিল; ইসলামাবাদের অভিযোগ ছিল যে কাবুল ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করেছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের ফাটলকে আরও বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই বিমান হামলা ও সীমান্ত সংঘাতকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র বিবেচনা করছেন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও পর্যবেক্ষকরা ঘটনাটির ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং স্বচ্ছ, নিরপক্ষ তদন্ত ও আহতদের চিকিৎসা সহায়তা দ্রুত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। কাবুলে ইতিমধ্যেই জরুরি সাহায্য ও উদ্ধারকার্যের প্রয়োজন তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছিলো।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা রয়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরাই ভবিষ্যতে আরও জানা দিতে পারবেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর দ্রুত নীরবতা ভাঙা ও পরিস্থিতি শিথিল করার জন্য চাপ প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ এই ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলায় কমপক্ষে ৪০০ নিহত

প্রকাশিতঃ ০২:২৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলায় কমপক্ষে ৪০০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাহাড়ি আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই বিধ্বংসী আক্রমণটি স্থানীয় সময় সোমবার রাত অর্থাৎ সন্ধ্যার পর কাবুলের একটি বড় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ঘটে বলে সংবাদ সূত্রে জানা গেছে।

তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে হামলার ব্যাপারে দেয়া বিবরণে বলা হয়েছে, সোমবার রাত ৯টার দিকে কাবুলের নবম পুলিশ জেলায় অবস্থিত একটি মাদকাসক্ত নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিমান হামলা চালানো হয়। কেন্দ্রটি প্রায় ২ হাজার শয্যার বিশাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল এবং মূলত মাদকাসক্তদের চিকিৎসা-নিরাময়ের জন্য ব্যবহৃত হতো। হামলায় হাসপাতালের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে পড়ে; বহু চিকিৎসাধীন রোগী ও কর্মী মারা যান, আর প্রায় ২৫০ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা রাখে।

তালেবান প্রশাসনের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত মঙ্গলবার ভোরে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে এই আক্রমণকে ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ ও ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ আখ্যা দেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন যে পাকিস্তানের সামরিক বিমান কাবুলের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে সরাসরি বেসামরিক স্থাপনা ও হাসপাতালে আঘাত করেছে এবং তা আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন।

পাকিস্তান সরকারের দাবি-প্রতিকার পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। ইসলামাবাদের তথ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা সূত্র বলেছে, তাদের বিমানসেরা কেবল সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করে ‘নির্ভুল হামলা’ পরিচালনা করেছে এবং কোনো বেসামরিক হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্রে তারা আঘাত করেনি। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক বিবৃতিতে দাবি করেন, অভিযানটি নির্দিষ্ট সন্ত্রাসী আস্তানার বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল।

এই ঘটনার ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা নতুন ও ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে। গত কয়েকদিন ধরে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি ও উত্তেজনা তীব্র ছিল; ইসলামাবাদের অভিযোগ ছিল যে কাবুল ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করেছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের ফাটলকে আরও বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই বিমান হামলা ও সীমান্ত সংঘাতকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র বিবেচনা করছেন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও পর্যবেক্ষকরা ঘটনাটির ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং স্বচ্ছ, নিরপক্ষ তদন্ত ও আহতদের চিকিৎসা সহায়তা দ্রুত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। কাবুলে ইতিমধ্যেই জরুরি সাহায্য ও উদ্ধারকার্যের প্রয়োজন তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছিলো।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা রয়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরাই ভবিষ্যতে আরও জানা দিতে পারবেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর দ্রুত নীরবতা ভাঙা ও পরিস্থিতি শিথিল করার জন্য চাপ প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ এই ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।