দন্তচিকিৎসক থেকে রিয়্যালিটি শো পেরিয়ে বিনোদন জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করা চীনা বংশোদ্ভূত ভারতীয় শিল্পী মেইয়াং চ্যাং এবার একেবারেই ভিন্ন রূপে দর্শকের সামনে আসছেন। সাধারণত পর্দায় নায়কের বন্ধু বা হাসিখুশি, সহজ সরল চরিত্রে দেখা যাওয়া মেইয়াং এবার বাংলা ওয়েব সিরিজ ‘তারকাটা’-তে খেলেছেন এক ভয়ংকর খলচরিত্রে। তাকে বহুমাত্রিক ও অন্ধকারময় চরিত্রে দেখার কথা শুনে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে।
এই সিরিজে মেইয়াং অভিনীত চরিত্রের নাম ‘ডোডো’—এক দুর্ধর্ষ অপরাধী, যে মনস্তাত্ত্বিকভাবে ‘ঈশ্বর সিনড্রোম’-এ আক্রান্ত। নিজের উপর অতিরিক্ত বাক্য ও ক্ষমতা অনুভব করা, অন্যদের ওপর শারীরিক কষ্ট দিয়ে বা হত্যার মাধ্যমে পৈশাচিক আনন্দ খোঁজা—এসব বৈশিষ্ট্য থেকেই চরিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। মেইয়াং জানিয়েছেন, এমন একটি নেতিবাচক ও জটিল মনের প্রতিকৃতি তৈরি করা তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, কারণ এটা তাঁর আগের রোমান্টিক বা লাজুক ভাবমূর্তিকে পুরোপুরি ভাঙা।
গায়ক, অভিনেতা ও সঞ্চালক হিসেবে পরিচিত মেইয়াং তাঁর বিশেষ চেহারা ও অভিনয় ধারার কারণে আগে অনেক সময় পার্শ্ব চরিত্রেই সীমাবদ্ধ ছিলেন—নায়কের বন্ধু বা সহচরী হিসেবে। তিনি স্বীকার করেন, মূলধারার সিনেমায় নায়ক হওয়ার ক্ষেত্রে যে রকম নানান স্টিরিওটাইপ এবং চাহিদা থাকে, সেগুলো career-এর শুরুতে তাঁর পথ আটকে দিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিনোদনজগতের ধাবিত পরিবর্তন এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মে জটিল চরিত্রগুলোর চাহিদা বাড়ায় তিনি এখন ডোডোর মতো চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছেন, যা একজন অভিনেতা হিসেবে তাকে নতুনভাবে প্রমাণের সুযোগ করে দিয়েছে।
কলকাতার চীনা সম্প্রদায়ের সঙ্গে মেইয়াং-এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে; নিজেকে আত্মার গভীরে বাঙালি মনে করেন তিনি। সিরিজের জন্য তিনি নিয়মিত বাংলা অনুশীলন করেছেন এবং এখন আরাম করে বাংলা সংলাপ বলতে পারেন। মেইয়াং বলেন, পূর্বে দক্ষিণ ভারতীয় ভাষায় কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও বাংলা শেখা ও বলাটা তাঁর কাছে সহজ এবং আনন্দদায়ক হয়েছে, যা চরিত্রের আবেগ ফুটিয়ে তুলতেও সহায়তা করেছে।
‘তারকাটা’-তে মেইয়াং দেখা যাবে পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। শুটিংয়ের বিরতিতে দু’জনের আড্ডা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কাজকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে বলে নির্মাণশ্রেণি এবং মেইয়াং উভয়েই জানিয়েছেন।
অপরাধ জগত ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে ঘেরা এই ধারাবাহিকটি বাংলার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে নির্মাতা ও দলের প্রত্যাশা। হালকা-স্বাদের ক্যারিয়ারের পর মেইয়াং চ্যাংয়ের এই পরিবর্তিত রূপ দর্শকদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে—এটাই এখন দেখার বিষয়।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























