০৮:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
চিফ হুইপ: সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে ঈদুল আজহা: সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে রামিসা হত্যার বিচার শেষ হতে পারে জাতীয় সংসদ ভবনে অন-গ্রিড সৌর রুফটপ প্রকল্পের উদ্বোধন রোহিঙ্গা সংকট জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় সংসদ ভবনে নবায়নযোগ্য অন-গ্রিড রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ উদ্বোধন রেলসচিব: ঈদযাত্রায় বড় শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই রামিসা হত্যাকাণ্ডে সারা জাতি শোকাহত ও ক্ষুব্ধ: তথ্যমন্ত্রী হাম মোকাবিলায় চিকিৎসকদের ঈদে ছুটি বাতিল ঘোষণা—স্বাস্থ্যমন্ত্রী নজরুলের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীতে ময়মনসিংহে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আলবার্টায় স্বাধীনতা নিয়ে অক্টোবরের গণভোট ঘোষণা — কানাডার ঐক্যের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

কানাডার পশ্চিমাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ প্রদেশ আলবার্টায় আগামী অক্টোবর মাসে একটি গণভোট আয়োজন করা হবে, যেখানে নাগরিকদের কাছে জানতে চাওয়া হবে তারা প্রদেশটিকে কানাডার অংশ হিসেবেই রাখতে চান নাকি স্বাধীনতার পথে যেতে চান—অথবা স্বাধীনতার প্রশ্নে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে তারা আছেন কি না। প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ ২১ মে টেলিভিশন ভাষণে এই ভোটের ঘোষণা দিয়েছেন, যা বিশ্লেষকরা কানাডার ঐক্যের জন্য গত কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় পরীক্ষামূলক ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

গণভোটটি কেবল আলবার্টার ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে না, বরং দেশের কেন্দ্রীয় সরকার ও সংবিধানগত নিয়মকানুন এবং আদিবাসীদের (ফার্স্ট নেশন) ভূমি-হিতসংক্রান্ত জটিলতাগুলোর ওপরও বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে। ভোটে ভোটারদের সামনে সরাসরি ‘থাকবেন’ বা ‘যাবেন’—এ রকম সহজ কোনো প্রশ্ন রাখা হবে না। বরং প্রশ্নটি এমন হবে: ‘‘আলবার্টা কি কানাডার একটি প্রদেশ হিসেবে থেকেই থাকবে, না কি আলবার্টা সরকারের উচিত কানাডার সংবিধান অনুযায়ী একটি চূড়ান্ত প্রাদেশিক গণভোটের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা—যাতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে আলবার্টা কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হবে কি না?’’ প্রিমিয়ারের দপ্তর জানিয়েছে যে ভোটারদের হাতে মূলত দুটি বিকল্প থাকবে—‘ক’ (কানাডার অংশ হিসেবে থাকা) এবং ‘খ’ (আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা)।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে কিছু মাস ধরে চলা রাজনৈতিক চাপ এবং নাগরিক উদ্যোগ রয়েছে। স্বাধীনতা সমর্থনে অন্তত ৩ লাখেরও বেশি মানুষের সই থাকা একটি পিটিশন দেওয়া নিয়ে আন্দোলন গড়ে উঠলে এই ভোটের তাগিদ বেড়ে ওঠে। একই সঙ্গে আলবার্টায় আলাদা না থাকার পক্ষে ‘ফরেভার কানাডিয়ান’ গ্রুপের পিটিশনে প্রায় ৪ লক্ষাধিক মানুষ সই করেছিলেন।

তবে চলতি মাসের শুরুতে আলবার্টার এক আদালত স্বাধীনতা সমর্থক পিটিশনটি আটকে দেয়। আদালত দেখে যে নাগরিক পিটিশন আইনের অধীনে যে প্রক্রিয়া সরকারের অনুমোদনে সই সংগ্রহ করা হয়েছিল, তাতে আদিবাসী সম্প্রদায়দের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরামর্শ করা হয়নি—যা সম্ভাব্য বিচ্ছিন্নতার ফলে তাদের ভূমি ও অধিকার ক্ষতির ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে। প্রিমিয়ার স্মিথ ওই রায় নিয়ে ‘খুবই চিন্তিত’ অভিব্যক্তি দিয়েছেন এবং তিনি এক বিচারককে ‘‘আলবার্টার লাখ লাখ মানুষের কণ্ঠকে থামিয়ে দিতে’’ দেবেন না বলে বলেও আশংকা প্রকাশ করেছেন। তাঁর সরকার সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও করেছে।

আলবার্টায় বিচ্ছিন্নতা-আন্দোলনের নেতৃত্বে মূলত দুজনকে দেখা যায়—বনিভিলের অস্ত্রের দোকানী মিচ সিলভেস্টার এবং ক্যালগেরির আইনজীবী জেফরি রাথ। তারা ‘আলবার্টা প্রোসপারিটি প্রজেক্ট’ বা ‘আলবার্টা সমৃদ্ধি প্রকল্প’ নামের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় লিবারেল সরকারের দীর্ঘ শাসনের ফলে প্রদেশের অর্থনীতি প্রচুর ভালোভাবে এগোতে পারেনি; পাশাপাশি পরিবেশবিষয়ক নিয়মকানুন ও কঠোর নীতির কারণে তেল-পাইপলাইন নির্মাণ ও প্রদেশের তেলসম্পদ ব্যবহারে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে—এসবই আলবার্টার অনেক মানুষের মধ্যে হতাশা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী আবেগ বাড়িয়েছে।

আলবার্টার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৫০ লক্ষের কাছাকাছি। স্বাধীনতা-আন্দোলনকারীদের দাবি ও বিরোধী পিটিশনের বিপরীত লাঙ্গলে আটকে থাকা আদালতীয় বিবেচনা—সব মিলিয়ে এখানকার রাজনৈতিক পরিণতি অর্ধেক নির্ধারিত নয়। প্রিমিয়ার নিজে ব্যক্তিগতভাবে অবিভক্ত কানাডাকে সমর্থন করেন বলেও জানিয়েছে, তবু ব্যাপক জনদাবি ও রাজনৈতিক চাপে ওই গণভোট চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই ভোটাভুটি কেবল আলবার্টার রাজনৈতিক মানচিত্র নয়, সমগ্র কানাডার সংবিধান, আদিবাসী অধিকার ও জাতীয় ঐক্যের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। আইনি জটিলতা ও সংবিধানগত প্রশ্নমালার সমাধান ছাড়া ভোটের ফলাফল প্রয়োগেও কঠিন চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে, তাই আগামী অক্টোবর মাসের গণভোট কানাডার জন্য নীরিক্ষার মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঈদুল আজহা: সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু

আলবার্টায় স্বাধীনতা নিয়ে অক্টোবরের গণভোট ঘোষণা — কানাডার ঐক্যের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

কানাডার পশ্চিমাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ প্রদেশ আলবার্টায় আগামী অক্টোবর মাসে একটি গণভোট আয়োজন করা হবে, যেখানে নাগরিকদের কাছে জানতে চাওয়া হবে তারা প্রদেশটিকে কানাডার অংশ হিসেবেই রাখতে চান নাকি স্বাধীনতার পথে যেতে চান—অথবা স্বাধীনতার প্রশ্নে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে তারা আছেন কি না। প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ ২১ মে টেলিভিশন ভাষণে এই ভোটের ঘোষণা দিয়েছেন, যা বিশ্লেষকরা কানাডার ঐক্যের জন্য গত কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় পরীক্ষামূলক ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

গণভোটটি কেবল আলবার্টার ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে না, বরং দেশের কেন্দ্রীয় সরকার ও সংবিধানগত নিয়মকানুন এবং আদিবাসীদের (ফার্স্ট নেশন) ভূমি-হিতসংক্রান্ত জটিলতাগুলোর ওপরও বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে। ভোটে ভোটারদের সামনে সরাসরি ‘থাকবেন’ বা ‘যাবেন’—এ রকম সহজ কোনো প্রশ্ন রাখা হবে না। বরং প্রশ্নটি এমন হবে: ‘‘আলবার্টা কি কানাডার একটি প্রদেশ হিসেবে থেকেই থাকবে, না কি আলবার্টা সরকারের উচিত কানাডার সংবিধান অনুযায়ী একটি চূড়ান্ত প্রাদেশিক গণভোটের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা—যাতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে আলবার্টা কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হবে কি না?’’ প্রিমিয়ারের দপ্তর জানিয়েছে যে ভোটারদের হাতে মূলত দুটি বিকল্প থাকবে—‘ক’ (কানাডার অংশ হিসেবে থাকা) এবং ‘খ’ (আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা)।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে কিছু মাস ধরে চলা রাজনৈতিক চাপ এবং নাগরিক উদ্যোগ রয়েছে। স্বাধীনতা সমর্থনে অন্তত ৩ লাখেরও বেশি মানুষের সই থাকা একটি পিটিশন দেওয়া নিয়ে আন্দোলন গড়ে উঠলে এই ভোটের তাগিদ বেড়ে ওঠে। একই সঙ্গে আলবার্টায় আলাদা না থাকার পক্ষে ‘ফরেভার কানাডিয়ান’ গ্রুপের পিটিশনে প্রায় ৪ লক্ষাধিক মানুষ সই করেছিলেন।

তবে চলতি মাসের শুরুতে আলবার্টার এক আদালত স্বাধীনতা সমর্থক পিটিশনটি আটকে দেয়। আদালত দেখে যে নাগরিক পিটিশন আইনের অধীনে যে প্রক্রিয়া সরকারের অনুমোদনে সই সংগ্রহ করা হয়েছিল, তাতে আদিবাসী সম্প্রদায়দের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরামর্শ করা হয়নি—যা সম্ভাব্য বিচ্ছিন্নতার ফলে তাদের ভূমি ও অধিকার ক্ষতির ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে। প্রিমিয়ার স্মিথ ওই রায় নিয়ে ‘খুবই চিন্তিত’ অভিব্যক্তি দিয়েছেন এবং তিনি এক বিচারককে ‘‘আলবার্টার লাখ লাখ মানুষের কণ্ঠকে থামিয়ে দিতে’’ দেবেন না বলে বলেও আশংকা প্রকাশ করেছেন। তাঁর সরকার সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও করেছে।

আলবার্টায় বিচ্ছিন্নতা-আন্দোলনের নেতৃত্বে মূলত দুজনকে দেখা যায়—বনিভিলের অস্ত্রের দোকানী মিচ সিলভেস্টার এবং ক্যালগেরির আইনজীবী জেফরি রাথ। তারা ‘আলবার্টা প্রোসপারিটি প্রজেক্ট’ বা ‘আলবার্টা সমৃদ্ধি প্রকল্প’ নামের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় লিবারেল সরকারের দীর্ঘ শাসনের ফলে প্রদেশের অর্থনীতি প্রচুর ভালোভাবে এগোতে পারেনি; পাশাপাশি পরিবেশবিষয়ক নিয়মকানুন ও কঠোর নীতির কারণে তেল-পাইপলাইন নির্মাণ ও প্রদেশের তেলসম্পদ ব্যবহারে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে—এসবই আলবার্টার অনেক মানুষের মধ্যে হতাশা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী আবেগ বাড়িয়েছে।

আলবার্টার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৫০ লক্ষের কাছাকাছি। স্বাধীনতা-আন্দোলনকারীদের দাবি ও বিরোধী পিটিশনের বিপরীত লাঙ্গলে আটকে থাকা আদালতীয় বিবেচনা—সব মিলিয়ে এখানকার রাজনৈতিক পরিণতি অর্ধেক নির্ধারিত নয়। প্রিমিয়ার নিজে ব্যক্তিগতভাবে অবিভক্ত কানাডাকে সমর্থন করেন বলেও জানিয়েছে, তবু ব্যাপক জনদাবি ও রাজনৈতিক চাপে ওই গণভোট চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই ভোটাভুটি কেবল আলবার্টার রাজনৈতিক মানচিত্র নয়, সমগ্র কানাডার সংবিধান, আদিবাসী অধিকার ও জাতীয় ঐক্যের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। আইনি জটিলতা ও সংবিধানগত প্রশ্নমালার সমাধান ছাড়া ভোটের ফলাফল প্রয়োগেও কঠিন চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে, তাই আগামী অক্টোবর মাসের গণভোট কানাডার জন্য নীরিক্ষার মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।