আজ সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। সারা বিশ্ব থেকে আগত লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান ইহরামের সাদা পোশাকে মিনার অঞ্চলের বিশাল তাঁবুবিশ্রামে অবস্থান নিচ্ছেন। গত রবিবার রাত থেকেই পর্যায়ক্রমে হাজিরা মক্কার পবিত্র কাবা শরীফ ত্যাগ করে মিনার দিকে যাত্রা শুরু করেছিলেন এবং ‘‘লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক’’ স্লোগানে পুরো হজ ক্ষেত্র মুখরিত হয়ে উঠেছে — এটি বিশ্ব মুসলমানদের এক আবেগঘন মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
ইসলামি শরীয়ত অনুযায়ী আজ ৮ জিলহজ সারা দিন-রাত হাজিরা মিনায় অবস্থান করবেন। সেখানে তারা ফজর থেকে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ছাড়াও দোয়াসহ ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত থাকবেন। পরবর্তী কর্মসূচি অনুযায়ী, ৯ জিলহজ মঙ্গলবার ভোরে হাজিরা আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন — আরাফাতেই হজের প্রধান রুকন পালন করা হয় এবং সেটাই হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গণ্য।
এ বছরের আরাফাতের দিন ময়দানে হজের খুতবা প্রদান করবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি। সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে দোয়া ও মোনাজাতে একান্ত হৃদয়ে মেয়াদ কাটালে হাজিরা মুজদালিফায় চলে এসে খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করবেন। পরদিন ১০ জিলহজ বড় জামরায় শয়তানের উদ্দেশে কঙ্কর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি ও শিরমুণ্ডন/কেশছেঁড়া করে হজের মূল কার্যাবলি সম্পন্ন করা হবে। এরপর ১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান শেষে মক্কায় ফিরে গিয়ে হজের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শেষ হবে।
আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, এ বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ লাখ মুসলমান হজ পালন করছেন এবং এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে গেছেন প্রায় সাড়ে ৭৮ হাজার হাজী। গত বছর (২০২৫) হজ পালনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ লাখ ৭৩ হাজার; এবার সেই রেকর্ড ছাড়ানো সম্ভাবনার কথাও জানানো হচ্ছে।
সৌদি আরব সরকার মিনায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক তাঁবু, উন্নত স্যানিটেশন সুবিধাসহ হাজিদের ব্যবস্থাপনার জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছে। এছাড়া হজ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খল রাখতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল মনসুর বিন নাসের আল-ফায়েজ জানিয়েছেন, হাজিদের নিরাপত্তা ও যাতায়াত সুনিশ্চিত করতে সব বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সেবামূলক সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের কারণে এবারের হজ আরও শান্তিপূর্ণ ও সুসংগঠিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। মিনা থেকে আরাফাত পর্যন্ত পুরো পথে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নজরদারি এবং স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় হাজিদের সেবা চলছে।
পবিত্র হজে অংশ নেওয়া প্রত্যেকের নিরাপত্তা, আরাম এবং ইবাদত-উপবাস নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসন ও তত্তাবধায়করা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন, আর বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহর মিলনের এই অভিজাত মুহূর্তে দৃঢ় আস্থা ও প্রার্থনা চলছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























