০৯:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আড়ালে-আবডালে দুর্বৃত্ত আছে — প্রশ্রয় নেই: সড়ক মন্ত্রী ৩৫ হাজার মুসল্লিকে স্বাগত জানাতে সাজলো জাতীয় ঈদগাহ জঙ্গল সলিমপুর হামলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর বার্তা রাজধানীসহ দেশে মৃদু ভূমিকম্প, মাত্রা ৩.৬ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি: জঙ্গল সলিমপুর হামলা দমন করা হবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু ভূকম্পন ঈদের ছুটিতে প্রশাসনে বড় রদবদল: তিন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে উন্নীত স্বাস্থ্যমন্ত্রী: ইতোমধ্যেই দুই কোটি শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা হয়েছে জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সাড়ে ৭টায়; রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন এডিবি বলছে: আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা

৭৯তম কানে স্বর্ণপাম জিতলো ক্রিশ্চিয়ান মুঙ্গিউর ‘ফিওড’

৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে সর্বোচ্চ সম্মান স্বর্ণপাম জিতেছে রোমানিয়ার প্রখ্যাত পরিচালক ক্রিশ্চিয়ান মুঙ্গিউর-এর নতুন সিনেমা ‘ফিওড’। উৎসবের সমাপনী সন্ধ্যায় শনিবার এই পুরস্কার ঘোষণা করেন কোরিয়ার বিখ্যাত নির্মাতা ও প্রধান জুরি পাক চান-উক। মুঙ্গিউ ২০০৭ সালে ‘4 Months, 3 Weeks and 2 Days’ ছবির জন্যও স্বর্ণপাম জেতেন; এবারই তাঁর দ্বিতীয়বারের এই সাফল্য। পুরস্কার গ্রহণকালে মুঙ্গিউ ‘ফিওড’-কে সহনশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও সহমর্মিতার গল্প হিসেবে বর্ণনা করে এসব মানবিক মূল্যবোধ বাস্তবে প্রয়োগের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

বিজয়ী ছবিটি নরওয়ের এক ছোট গ্রামে নতুন জীবন শুরু করা একটি রোমানিয়ান পরিবারকে ঘিরে আবর্তিত। ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল ওই পরিবারের ওপর হঠাৎ করে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে এবং রাষ্ট্র তাদের সন্তানদের হেফাজতে নিয়ে নেয়। ছবিটি নরওয়েজিয়ান সমাজের প্রগতিশীল পরিচয়ের আড়ালে লুকানো ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় দ্বন্দ্বকে সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তোলে। সেবাস্তিয়ান স্ট্যান ও রেনাতে রেইনসভে অভিনীত ‘ফিওড’ প্রদর্শনীর সময় দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে তীব্র আবেগ, হতাশা ও প্রশ্ন উত্থাপন করেছে; অনেকেই বলেছেন, উদারনৈতিক সমাজের বহুবচনীয়তা এবং ভণ্ডামি এই চলচ্চিত্র সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার গ্রাঁ প্রি জিতেছে রুশ নির্মাতা আন্দ্রেই জভিয়াগিনতসেভের ‘মিনোটর’—যে ছবি রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে একজন নির্মম ব্যবসায়ীর পারিবারিক সংকটকে কেন্দ্র করে নির্মিত। বর্তমানে ফ্রান্সে নির্বাসিত এই পরিচালক পুরস্কার গ্রহণের সময় ইউক্রেনে চলমান রক্তপাত বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সভায় প্রাণবন্ত আবেগ ছড়িয়েছেন।

অভিনয়ের বিভাগেও এবার কিছু অনন্য সিদ্ধান্ত দেখা গেছে। রিউসুকে হামাগুচির ‘অল অব আ সাডেন’ ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রী पदক যৌথভাবে দায়িত্বে গৃহীত হন তাও ওকামোতো ও ভার্জিনি এফিরা। সেরা অভিনেতার পুরস্কারও যৌথভাবে প্রদান করা হয় — লুকাস দন্তের ‘কাওয়ার্ড’ ছবির দুই অভিনেতা মাক্কিয়া ও ভ্যালোঁতাঁ কাম্পানিকে সম্মাননা জানানো হয়।

পরিচালনা ও অন্যান্য বিভাগেও বহুমত বৈচিত্র্য ফুটে উঠেছে। ভ্যালেস্কা গ্রিসবাখ ‘দ্য ড্রিমড অ্যাডভেঞ্চার’ ছবির জন্য জুরি পুরস্কার লাভ করেন। সেরা পরিচালকের স্বীকৃতি পেলেন পাওয়েল পাভলিকোভস্কি এবং স্প্যানিশ জুটি হাভিয়ের আমব্রোসি ও হাভিয়ের কালভো যৌথভাবে। ইরানের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের ওপর নির্মিত পেগাহ আহাঙ্গারানির ‘রিহার্সালস ফর আ রেভোল্যুশন’ সেরা প্রামাণ্যচিত্র হিসেবে পুরস্কার জিতেছে। আর রুয়ান্ডার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি ছবি হিসেবে মেরি-ক্লেমেন্টিন দুসাবেজাম্বোর ‘বেন ইমানা’ ক্যামেরা দ’অর (সেরা প্রথম চলচ্চিত্র) জিতেছে, যা তিনি দেশীয় নারীদের উৎসর্গ করেছেন।

এবারের কান উৎসব কেবল পুরস্কার বিতরণেই সীমাবদ্ধ ছিল না—এটি বিভিন্ন বিতর্ক ও আলোচনা-আলাপের ক্ষেত্র হিসেবেও জোরালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে। মূল প্রতিযোগিতার ২২টি ছবির মধ্যে মাত্র পাঁচটি পরিচালিত হয়েছিল নারীদের দ্বারা, যা নিয়ে অভিনেত্রী-অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যায়; জিনা ডেভিসের মতো তারকারাও মঞ্চে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হলিউডের বড় স্টুডিওদের অনুপস্থিতি এবং চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে উৎসবে ব্যাপক বিতর্ক হয়।

দু’সপ্তাহব্যাপী এই উৎসবটি গত ১২ মে শুরু হয়ে কালের সাক্ষী হয়ে উঠল—জন ট্রাভোল্টা, কেট ব্লানোশেটের মতো আন্তর্জাতিক তারকারা উপস্থিত ছিলেন, তবু এবারের আসল আকর্ষণ ছিল জীবনমুখী ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন স্বাধীন চলচ্চিত্রগুলোর সরস উপস্থাপনা। কান এইবারও বিশ্বসিনেমার বহুমুখী কণ্ঠকে একটি বর্ষণে পরিণত করেছে, যেখানে পুরস্কার ছাড়াও সমালোচনা, বিতর্ক ও নতুন চিন্তার সংলাপ চলছিল।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

৩৫ হাজার মুসল্লিকে স্বাগত জানাতে সাজলো জাতীয় ঈদগাহ

৭৯তম কানে স্বর্ণপাম জিতলো ক্রিশ্চিয়ান মুঙ্গিউর ‘ফিওড’

প্রকাশিতঃ ০৭:২১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে সর্বোচ্চ সম্মান স্বর্ণপাম জিতেছে রোমানিয়ার প্রখ্যাত পরিচালক ক্রিশ্চিয়ান মুঙ্গিউর-এর নতুন সিনেমা ‘ফিওড’। উৎসবের সমাপনী সন্ধ্যায় শনিবার এই পুরস্কার ঘোষণা করেন কোরিয়ার বিখ্যাত নির্মাতা ও প্রধান জুরি পাক চান-উক। মুঙ্গিউ ২০০৭ সালে ‘4 Months, 3 Weeks and 2 Days’ ছবির জন্যও স্বর্ণপাম জেতেন; এবারই তাঁর দ্বিতীয়বারের এই সাফল্য। পুরস্কার গ্রহণকালে মুঙ্গিউ ‘ফিওড’-কে সহনশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও সহমর্মিতার গল্প হিসেবে বর্ণনা করে এসব মানবিক মূল্যবোধ বাস্তবে প্রয়োগের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

বিজয়ী ছবিটি নরওয়ের এক ছোট গ্রামে নতুন জীবন শুরু করা একটি রোমানিয়ান পরিবারকে ঘিরে আবর্তিত। ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল ওই পরিবারের ওপর হঠাৎ করে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে এবং রাষ্ট্র তাদের সন্তানদের হেফাজতে নিয়ে নেয়। ছবিটি নরওয়েজিয়ান সমাজের প্রগতিশীল পরিচয়ের আড়ালে লুকানো ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় দ্বন্দ্বকে সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তোলে। সেবাস্তিয়ান স্ট্যান ও রেনাতে রেইনসভে অভিনীত ‘ফিওড’ প্রদর্শনীর সময় দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে তীব্র আবেগ, হতাশা ও প্রশ্ন উত্থাপন করেছে; অনেকেই বলেছেন, উদারনৈতিক সমাজের বহুবচনীয়তা এবং ভণ্ডামি এই চলচ্চিত্র সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার গ্রাঁ প্রি জিতেছে রুশ নির্মাতা আন্দ্রেই জভিয়াগিনতসেভের ‘মিনোটর’—যে ছবি রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে একজন নির্মম ব্যবসায়ীর পারিবারিক সংকটকে কেন্দ্র করে নির্মিত। বর্তমানে ফ্রান্সে নির্বাসিত এই পরিচালক পুরস্কার গ্রহণের সময় ইউক্রেনে চলমান রক্তপাত বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সভায় প্রাণবন্ত আবেগ ছড়িয়েছেন।

অভিনয়ের বিভাগেও এবার কিছু অনন্য সিদ্ধান্ত দেখা গেছে। রিউসুকে হামাগুচির ‘অল অব আ সাডেন’ ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রী पदক যৌথভাবে দায়িত্বে গৃহীত হন তাও ওকামোতো ও ভার্জিনি এফিরা। সেরা অভিনেতার পুরস্কারও যৌথভাবে প্রদান করা হয় — লুকাস দন্তের ‘কাওয়ার্ড’ ছবির দুই অভিনেতা মাক্কিয়া ও ভ্যালোঁতাঁ কাম্পানিকে সম্মাননা জানানো হয়।

পরিচালনা ও অন্যান্য বিভাগেও বহুমত বৈচিত্র্য ফুটে উঠেছে। ভ্যালেস্কা গ্রিসবাখ ‘দ্য ড্রিমড অ্যাডভেঞ্চার’ ছবির জন্য জুরি পুরস্কার লাভ করেন। সেরা পরিচালকের স্বীকৃতি পেলেন পাওয়েল পাভলিকোভস্কি এবং স্প্যানিশ জুটি হাভিয়ের আমব্রোসি ও হাভিয়ের কালভো যৌথভাবে। ইরানের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের ওপর নির্মিত পেগাহ আহাঙ্গারানির ‘রিহার্সালস ফর আ রেভোল্যুশন’ সেরা প্রামাণ্যচিত্র হিসেবে পুরস্কার জিতেছে। আর রুয়ান্ডার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি ছবি হিসেবে মেরি-ক্লেমেন্টিন দুসাবেজাম্বোর ‘বেন ইমানা’ ক্যামেরা দ’অর (সেরা প্রথম চলচ্চিত্র) জিতেছে, যা তিনি দেশীয় নারীদের উৎসর্গ করেছেন।

এবারের কান উৎসব কেবল পুরস্কার বিতরণেই সীমাবদ্ধ ছিল না—এটি বিভিন্ন বিতর্ক ও আলোচনা-আলাপের ক্ষেত্র হিসেবেও জোরালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে। মূল প্রতিযোগিতার ২২টি ছবির মধ্যে মাত্র পাঁচটি পরিচালিত হয়েছিল নারীদের দ্বারা, যা নিয়ে অভিনেত্রী-অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যায়; জিনা ডেভিসের মতো তারকারাও মঞ্চে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হলিউডের বড় স্টুডিওদের অনুপস্থিতি এবং চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে উৎসবে ব্যাপক বিতর্ক হয়।

দু’সপ্তাহব্যাপী এই উৎসবটি গত ১২ মে শুরু হয়ে কালের সাক্ষী হয়ে উঠল—জন ট্রাভোল্টা, কেট ব্লানোশেটের মতো আন্তর্জাতিক তারকারা উপস্থিত ছিলেন, তবু এবারের আসল আকর্ষণ ছিল জীবনমুখী ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন স্বাধীন চলচ্চিত্রগুলোর সরস উপস্থাপনা। কান এইবারও বিশ্বসিনেমার বহুমুখী কণ্ঠকে একটি বর্ষণে পরিণত করেছে, যেখানে পুরস্কার ছাড়াও সমালোচনা, বিতর্ক ও নতুন চিন্তার সংলাপ চলছিল।