কিউবা তাদের জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে নানা প্রস্তুতি শুরু করেছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ মোকাবিলা করা যায়। গত শনিবার হার্যাকরণ করা ‘পারিবারিক নির্দেশিকা’ নামে একটি বিশেষ আদেশে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের ভূমিকা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশিকার ভিত্তি হলো ‘সব মানুষের যুদ্ধ’ (War of all the people) নামে পরিচিত প্রতিরক্ষা কৌশল—একটি প্রাচীন কিন্তু কার্যকর মতবাদ, যা গেরিলা যুদ্ধ, স্থানীয় মিলিশিয়া ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক গঠন করে পুরো জনগোষ্ঠীকে প্রতিরক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপটে এই প্রস্তুতি কিউবার জন্য বিশেষ জরুরি মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপোড়েন বেড়ে যাওয়াই এই প্রস্তুতির প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন অভিযোগ করে যে কিউবার কিছু নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সম্পর্ক—বিশেষত চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে—যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চিন্তার কারণ সৃষ্টি করছে। দাবি অনুযায়ী, এই অজুহাতের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার চারপাশের জলসীমায় তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে, যা কিউবার অর্থনীতিকে দুর্বল করা এবং দেশটির সার্বভৌমত্বের ওপর চাপ বাড়ানো হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইতিহাসভিত্তিক এই প্রতিরক্ষা কৌশল সোভিয়েত যুগের পর থেকেই কিউবার নীতি-নির্ধারণে দেখা গেছে। ‘সব মানুষের যুদ্ধ’ মূলত জনগণের ব্যাপক অংশকে প্রশিক্ষিত করে, স্থানীয় মিলিশিয়া গঠন করে এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে শত্রুর বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয়। গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হ্যালেন ইয়াফে বলছেন, কিউবার সাধারণ নাগরিকরা ঐতিহাসিকভাবে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত এবং তারা জাতীয় প্রতিরক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে বড় ধরনের বাহ্যিক আক্রমণের মুখে কেবল পেশাদার সামরিক বাহিনী নয়, সামগ্রিক জনগোষ্ঠী প্রতিরোধে নামতে সক্ষম হবে।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ভেনেজুয়েলায় করা সামরিক হস্তক্ষেপের মতো পদ্ধতি কিউবার ওপর প্রয়োগ করার চেষ্টা করে তবে তা কিউবার ক্ষেত্রে ততটা কার্যকর হবে না। লাতিন আমেরিকা বিশ্লেষক কার্লোস মালামুদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিউবার সামরিক প্রস্তুতি ও স্থানীয় প্রতিরক্ষা কাঠামো ভেনেজুয়েলার চেয়ে ভিন্ন এবং হস্তক্ষেপকারীদের জন্য এতে বেশি ঝুঁকি ও ব্যয় মূলক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলছেন, কিউবার ওপর সম্ভাব্য সশস্ত্র সংঘাত শুরু হলে তার সাইড-ইফেক্ট যুক্তরাষ্ট্রকেও আঘাত করতে পারে—বিশেষত অভিবাসী প্রবাহ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব। এসব কারণে তারা কূটনৈতিক সমাধান ও উত্তেজনা কমানোর ওপর জোর দিচ্ছেন।
অবশ্যই, কিউবা সরকার জনগণের মনোবল বাড়াতে এবং সামরিক সম্মুখীনতার প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তালিকাভুক্ত করেছে; প্রতিটি পরিবারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতি শুধু কিউবারই নয়, পুরো লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থাকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে—বিশেষত যখন দুই পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র থাকে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























