০৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ঢাকাসহ সারাদেশে চলছে পশু কোরবানি সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত এম. মুনির-উজ-জামান আর নেই ঈদের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীসহ সারা দেশে কোরবানি চলছে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও নাড়ির টানে রাজধানী ছাড়ছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ ঈদুল আজহার শুভেচ্ছার জন্য নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী কোরবানির চামড়ার সুষ্ঠু সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় সরকার সচেষ্ট: বাণিজ্যমন্ত্রী টানা দ্বিতীয় ঈদেও জাহাজে বন্দি ৩১ বাংলাদেশি নাবিক ঈদের সকালে বনানীতে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবর জিয়রে তারেক রাহমানের শ্রদ্ধা টানা দ্বিতীয় ঈদ জাহাজেই বন্দি ৩১ বাংলাদেশি নাবিক কারাগারের চার দেয়ালে ১৬১ ‘ভিআইপি’র ঈদ

ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা লক্ষ্য মার্কিন বিমানঘাঁটি

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মার্কিন গণবিমান হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। আইআরজিসির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা ওই ঘাঁটিকে নিখুঁত নিশানায় আঘাত করেছে, কারণ সেটি বন্দর আব্বাস বিমানবন্দরের কাছে চালানো আগ্রাসনের উৎসস্থল হিসেবে চিহ্নিত ছিল। তবে ওই হামলাগ্রস্ত ঘাঁটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা কোন দেশে সেটি অবস্থিত—সেটি তেহরান খোলাসা করেনি।

ঘটনাপটের সূত্রে জানা গেছে, এই পাল্টা হামলার আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। বুধবার গভীর রাতে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় যুক্তরাষ্ট–ইরানি বাহিনীর মধ্যে প্রথম দফায় তীব্র গোলাগুলি হয়। সরকারি সূত্র বলছে, আইআরজিসি নেভি একটি মার্কিন তেলবাহী ট্যাঙ্কারের ওপর সরাসরি গুলি চালায়; ওই জাহাজটির রাডার বা এআইএস বন্ধ ছিল এবং অননুমোদিতভাবে প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করছিল।

এর জবাবে মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনী বন্দর আব্বাস আশেপাশের একটি নির্দিষ্ট পরিত্যক্ত এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই হামলায় কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের সম্পদের ক্ষতি হয়নি, তবে বিকট বিস্ফোরণে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, মার্কিন পক্ষ তাদের ওই বিমান হামলাকে ‘আত্মরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে চালিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি—হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের নৌবহর ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে তারা চারটি ইরানি ড্রোন মাঝ আকাশে ভূপাতিত করেছে এবং বন্দর আব্বাসের একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন ধ্বংস করে একটি পঞ্চম ড্রোন উৎক্ষেপণের আগেই নিষ্ক্রিয় করেছে। মার্কিনরা বলছে, এসব পদক্ষেপ ‘পরিমাপিত’ ছিল এবং দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছিল।

একই সময়ে সমুদ্রসীমায় অন্য একটি ঘটনা ঘটা—চারটি অনানুমানিক নৌযান পারস্য উপসাগরে প্রবেশের চেষ্টা করে। ইরানি নৌবাহিনী প্রথমে তাদের চলে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিলে জাহাজগুলো তা উপেক্ষা করে; পরে আইআরজিসি নেভি সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণ করলে সেগুলো দিক পরিবর্তন করে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

এই পাল্টাপাল্টি সামরিক ঘটনার মধ্যেই দোহায় চলমান শান্তি আলোচনা জটিল হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটনে এক ক্যাবিনেট বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও লাভজনক শান্তিচুক্তি করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং বলেছেন, তিনি আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা চিন্তা করে পিছপা হচ্ছেন না। ট্রাম্প আরও জোর দিয়ে জানিয়েছেন, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না এবং হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিকভাবে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে—এই শর্তগুলো তার দৃষ্টিতে যেকোনো ভবিষ্যৎ সমঝোতার অপরিবর্ত্য ভিত্তি।

মাঠপর্যায়ের এই উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি আক্রমণ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নৈরাজ্য ও অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। কূটনীতিকরা বলছেন, আলোচনার টেবিলে যে চুক্তির খসড়া হয়েছে, সেটাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে এখনই শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি ফেরাতে তৎপর উদ্যোগ নিতেই হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত এম. মুনির-উজ-জামান আর নেই

ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা লক্ষ্য মার্কিন বিমানঘাঁটি

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মার্কিন গণবিমান হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। আইআরজিসির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা ওই ঘাঁটিকে নিখুঁত নিশানায় আঘাত করেছে, কারণ সেটি বন্দর আব্বাস বিমানবন্দরের কাছে চালানো আগ্রাসনের উৎসস্থল হিসেবে চিহ্নিত ছিল। তবে ওই হামলাগ্রস্ত ঘাঁটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা কোন দেশে সেটি অবস্থিত—সেটি তেহরান খোলাসা করেনি।

ঘটনাপটের সূত্রে জানা গেছে, এই পাল্টা হামলার আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। বুধবার গভীর রাতে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় যুক্তরাষ্ট–ইরানি বাহিনীর মধ্যে প্রথম দফায় তীব্র গোলাগুলি হয়। সরকারি সূত্র বলছে, আইআরজিসি নেভি একটি মার্কিন তেলবাহী ট্যাঙ্কারের ওপর সরাসরি গুলি চালায়; ওই জাহাজটির রাডার বা এআইএস বন্ধ ছিল এবং অননুমোদিতভাবে প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করছিল।

এর জবাবে মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনী বন্দর আব্বাস আশেপাশের একটি নির্দিষ্ট পরিত্যক্ত এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই হামলায় কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের সম্পদের ক্ষতি হয়নি, তবে বিকট বিস্ফোরণে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, মার্কিন পক্ষ তাদের ওই বিমান হামলাকে ‘আত্মরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে চালিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি—হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের নৌবহর ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে তারা চারটি ইরানি ড্রোন মাঝ আকাশে ভূপাতিত করেছে এবং বন্দর আব্বাসের একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন ধ্বংস করে একটি পঞ্চম ড্রোন উৎক্ষেপণের আগেই নিষ্ক্রিয় করেছে। মার্কিনরা বলছে, এসব পদক্ষেপ ‘পরিমাপিত’ ছিল এবং দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছিল।

একই সময়ে সমুদ্রসীমায় অন্য একটি ঘটনা ঘটা—চারটি অনানুমানিক নৌযান পারস্য উপসাগরে প্রবেশের চেষ্টা করে। ইরানি নৌবাহিনী প্রথমে তাদের চলে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিলে জাহাজগুলো তা উপেক্ষা করে; পরে আইআরজিসি নেভি সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণ করলে সেগুলো দিক পরিবর্তন করে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

এই পাল্টাপাল্টি সামরিক ঘটনার মধ্যেই দোহায় চলমান শান্তি আলোচনা জটিল হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটনে এক ক্যাবিনেট বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও লাভজনক শান্তিচুক্তি করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং বলেছেন, তিনি আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা চিন্তা করে পিছপা হচ্ছেন না। ট্রাম্প আরও জোর দিয়ে জানিয়েছেন, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না এবং হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিকভাবে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে—এই শর্তগুলো তার দৃষ্টিতে যেকোনো ভবিষ্যৎ সমঝোতার অপরিবর্ত্য ভিত্তি।

মাঠপর্যায়ের এই উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি আক্রমণ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নৈরাজ্য ও অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। কূটনীতিকরা বলছেন, আলোচনার টেবিলে যে চুক্তির খসড়া হয়েছে, সেটাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে এখনই শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি ফেরাতে তৎপর উদ্যোগ নিতেই হবে।