১১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ঠাকুরগাঁও-২-এর সাবেক এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ দবিরুল ইসলাম আর নেই

ঠাকুরগাঁও-২ আসনের বরেণ্য নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ দবিরুল ইসলাম আর নেই। পবিত্র ঈদুল আযহার দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র আদর্শে দীক্ষিত হলেও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান মজবুত করেন।

তার রাজনৈতিক অর্জনের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ঠাকুরগাঁও-২ থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া — এক বিরল কীর্তি। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সিপিবির প্রার্থী হিসেবে জেতেন। এরপর তিনি আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

সংসদীয় জীবনে দবিরুল ইসলাম বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘ সময় তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিও ছিলেন এবং দলের সুসংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বলাৎকার করা হয়। ওই বছরের ৩ অক্টোবর তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন এবং দীর্ঘ সময় কারান্তরীণ থাকেন। নানা আইনি জটিলতার পর চলতি বছরের মে মাসে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।

স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে ঢাকায় নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলে ও স্থানীয় সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের বরাতে ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে এবং মরদেহ ঠাকুরগাঁওয়ে পরিবহন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হিসেবে দবিরুল ইসলামের জীবন ও রাজনৈতিক কীর্তি উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন পড়ে থাকবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ঠাকুরগাঁও-২-এর সাবেক এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ দবিরুল ইসলাম আর নেই

প্রকাশিতঃ ১০:৪০:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

ঠাকুরগাঁও-২ আসনের বরেণ্য নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ দবিরুল ইসলাম আর নেই। পবিত্র ঈদুল আযহার দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র আদর্শে দীক্ষিত হলেও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান মজবুত করেন।

তার রাজনৈতিক অর্জনের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ঠাকুরগাঁও-২ থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া — এক বিরল কীর্তি। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সিপিবির প্রার্থী হিসেবে জেতেন। এরপর তিনি আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

সংসদীয় জীবনে দবিরুল ইসলাম বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘ সময় তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিও ছিলেন এবং দলের সুসংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বলাৎকার করা হয়। ওই বছরের ৩ অক্টোবর তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন এবং দীর্ঘ সময় কারান্তরীণ থাকেন। নানা আইনি জটিলতার পর চলতি বছরের মে মাসে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।

স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে ঢাকায় নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলে ও স্থানীয় সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের বরাতে ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে এবং মরদেহ ঠাকুরগাঁওয়ে পরিবহন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হিসেবে দবিরুল ইসলামের জীবন ও রাজনৈতিক কীর্তি উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন পড়ে থাকবে।