১১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, নিহত ৮

শুক্রবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানা তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবিদ্যুতের আঘাতে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। রাজধানী কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে প্রচণ্ড বেগে বইতে থাকা ঝড় ও বর্ষণের কারণে ব্যাপক উপড়ে পড়া গাছ, দেয়াল ধস ও চলছে বিভিন্ন স্থানে অবকাঠামোগত ক্ষতি। রাজ্য সরকার তৎক্ষণাৎ উদ্ধার ও সহায়তা কর্মসূচি শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে ৪ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের রেকর্ডে শুক্রবার বিকেলে কলকাতায় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়ের প্রভাবে রাসবিহারী, পার্ক স্ট্রিট, বালিগঞ্জ ও এজেসি বোস রোডসহ শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে একের পর এক গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কলকাতা থেকে খবর পাওয়া গেছে, শহরে দুজন নিহত; একজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এবং আরেকজন চেতলা এলাকায় দেয়াল ধসে পড়ে প্রাণ হারান।

জেলাভিত্তিক ঘটনার মধ্যে পুরুলিয়ায় বজ্রাঘাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে—পৃথক কয়েক স্থানে এক কৃষক ও এক যুবকসহ মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরে রূপক চৈত্রা ও অয়ন গোস্বামী নামে দুই ছাত্রের ঝড়-বৃষ্টির সময় মৃতদেহ পাওয়া গেছে। ঝাড়গ্রামেও মাঠে ঘাস কাটছিল বলে জানায় স্থানীয়রা—সেখানে বজ্রাঘাতে একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া হুগলিতে ঝড়ের পর থেকে এক মৎস্যজীবী নিখোঁজ রয়েছেন; তার সন্ধানে উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।

শিয়ালদহ ও হাওড়া শাখায় রেল চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং কলকাতা বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়। অনেক এলাকায় ওভারহেড তার ছিঁড়ে যাওয়ার ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় মেরামত ও পুনঃসংযোগের কাজ শুরু হয়েছে। উদ্ধারকাজে কলকাতা পৌরসভার কর্মী, পুলিশ ও দমকলকর্মীরা একযোগে কাজ করছেন এবং বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে গাছ ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মানুষের চলাচলের পথ খোলা হচ্ছে।

নবান্ন থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং মুখ্যমন্ত্রী সরকারি সমস্ত বিভাগ ও পৌর প্রশাসনকে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্য সরকার আহত ও ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য জরুরি সহায়তা ও পুনর্গঠনের ব্যবস্থা করছে।

অতীব ঝড়ের কারণে মানুষের নিরাপত্তার পরামর্শ দিয়ে স্থানীয় প্রশাসন জনসাধারণকে অপ্রয়োজনীয় ভাবে বাইরে না যেতে অনুরোধ করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে। উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম এখনও চলছে, আর প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, নিহত ৮

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

শুক্রবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানা তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবিদ্যুতের আঘাতে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। রাজধানী কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে প্রচণ্ড বেগে বইতে থাকা ঝড় ও বর্ষণের কারণে ব্যাপক উপড়ে পড়া গাছ, দেয়াল ধস ও চলছে বিভিন্ন স্থানে অবকাঠামোগত ক্ষতি। রাজ্য সরকার তৎক্ষণাৎ উদ্ধার ও সহায়তা কর্মসূচি শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে ৪ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের রেকর্ডে শুক্রবার বিকেলে কলকাতায় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়ের প্রভাবে রাসবিহারী, পার্ক স্ট্রিট, বালিগঞ্জ ও এজেসি বোস রোডসহ শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে একের পর এক গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কলকাতা থেকে খবর পাওয়া গেছে, শহরে দুজন নিহত; একজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এবং আরেকজন চেতলা এলাকায় দেয়াল ধসে পড়ে প্রাণ হারান।

জেলাভিত্তিক ঘটনার মধ্যে পুরুলিয়ায় বজ্রাঘাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে—পৃথক কয়েক স্থানে এক কৃষক ও এক যুবকসহ মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরে রূপক চৈত্রা ও অয়ন গোস্বামী নামে দুই ছাত্রের ঝড়-বৃষ্টির সময় মৃতদেহ পাওয়া গেছে। ঝাড়গ্রামেও মাঠে ঘাস কাটছিল বলে জানায় স্থানীয়রা—সেখানে বজ্রাঘাতে একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া হুগলিতে ঝড়ের পর থেকে এক মৎস্যজীবী নিখোঁজ রয়েছেন; তার সন্ধানে উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।

শিয়ালদহ ও হাওড়া শাখায় রেল চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং কলকাতা বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়। অনেক এলাকায় ওভারহেড তার ছিঁড়ে যাওয়ার ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় মেরামত ও পুনঃসংযোগের কাজ শুরু হয়েছে। উদ্ধারকাজে কলকাতা পৌরসভার কর্মী, পুলিশ ও দমকলকর্মীরা একযোগে কাজ করছেন এবং বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে গাছ ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মানুষের চলাচলের পথ খোলা হচ্ছে।

নবান্ন থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং মুখ্যমন্ত্রী সরকারি সমস্ত বিভাগ ও পৌর প্রশাসনকে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্য সরকার আহত ও ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য জরুরি সহায়তা ও পুনর্গঠনের ব্যবস্থা করছে।

অতীব ঝড়ের কারণে মানুষের নিরাপত্তার পরামর্শ দিয়ে স্থানীয় প্রশাসন জনসাধারণকে অপ্রয়োজনীয় ভাবে বাইরে না যেতে অনুরোধ করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে। উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম এখনও চলছে, আর প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন।