০৬:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ল — হতাহতের খবর নেই শহীদ জিয়ার সার্ক-ভিত্তিক বহুপাক্ষিক কূটনীতি সরকারের মূল পথ: তথ্যমন্ত্রী দৌলতদিয়ায় ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে গেছে বিইআরসি প্রত্যাহার করল ০–৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বকীয়তার প্রতীক: মির্জা ফখরুল বিআইডব্লিউটিএ’র নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন মোঃ মুহিদুল ইসলাম মো. মুহিদুল ইসলাম বিআইডব্লিউটিএ’র নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান বাজেট ও সংস্কারে স্বাস্থ্যখাত: পরিবর্তনের পথে বিইআরসি বলেছে: পাইকারি-গ্রাহক—উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল প্রত্যেক নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী

ইলন মাস্কের স্পেসএক্স মার্কিনি পুঁজিবাজারে: ইতিহাসবিহিত আইপিওর পথে

মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তিতে নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে — ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্স মার্কিন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। গত বুধবার (৩ জুন) প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) তাদের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নথি জমা দেয়।

কোম্পানিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী এই আইপিওটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও হওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হচ্ছে। স্পেসএক্স প্রায় ৭৫০০ কোটি ডলার উত্তোলনের লক্ষ্য রেখেছে। পুরো কোম্পানির বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার কোটি ডলার, যা কর্পোরেট বিশ্বে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

আইপিও পরিকল্পনায় প্রতিটি শেয়ারের দাম ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারে ছাড়ার লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫৫ কোটি ৫০ লাখের বেশি শেয়ার। যদি সবকিছু পরিকল্পনা মতো এগোয়, তবে আগামী ১২ জুনের মধ্যে শেয়ার বিক্রির দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার প্রতিবেদন রয়েছে। সফল হলে স্পেসএক্স ২০১৯ সালে সৌদি আরামকোর করা ২৫৬০ কোটি ডলারের আইপিও রেকর্ড ছাপিয়ে বিশ্বের শীর্ষে উঠে আসতে পারে। ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীরা এই মুহূর্তের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

স্পেসএক্সের পথ সহজ ছিল না। ২০০২ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ইলন মাস্ক স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার আগে তিনি তার অনলাইন ব্যবসা জিপ২ ও পরবর্তীতে পেপ্যাল বিক্রির মাধ্যমে প্রাপ্ত তহবিল দিয়েই এই মহাকাশ অভিযাত্রার স্বপ্ন শুরু করেন। শুরুর দিকে কয়েকবার রকেট উৎক্ষেপণে ব্যর্থতার মুখে পড়লেও ২০০৮ সালে ‘ফ্যালকন-১’ রকেটের সফল উৎক্ষেপণ স্পেসএক্সকে নতুন করে দাঁড় করায় এবং আধুনিক মহাকাশ গবেষণায় কোম্পানির অবদান স্পষ্ট হয়।

বর্তমানে স্পেসএক্স বেসরকারি মহাকাশ খাতে অন্যতম শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত। তাদের আংশিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি মহাকাশযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে এবং এই সফলতায় নাসা’র সঙ্গে তারা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। স্পেসএক্সই প্রথম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রসদ ও মানুষ পাঠিয়েছে।

তাদের স্টারলিংক স্যাটেলাইট প্রকল্প বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিচ্ছে এবং ‘স্টারশিপ’ নামের সম্পূর্ণ পুনর্ব্যবহারযোগ্য ভারী-লোকোড কক্ষপথ রকেট পোস্ট করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে গহ্বরভিত্তিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, স্পেসএক্সের এই আইপিও কেবল কোম্পানির জন্য অর্থ সংগ্রহের মাধ্যম নয়; এটি বেসরকারি মহাকাশ খাতের অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি বড় পরীক্ষা। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে এই কোম্পানিকে উন্মুক্ত করা হলে কিভাবে প্রতিফলন ঘটবে, তা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি জগতের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

আইপিও সফল হলে এটি ইলন মাস্কের বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে উদ্ভাবনী কাজে বড় পরিসরের বিনিয়োগের দিকে উৎসাহিত করতে পারে। এখন সময় — স্পেসএক্স সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে কতটা আবেদন যোগ্য হবে এবং মহাকাশ অর্থনীতিতে এটি কী ধরনের গতিশীলতা আনবে, তা দেখা বাকি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ল — হতাহতের খবর নেই

ইলন মাস্কের স্পেসএক্স মার্কিনি পুঁজিবাজারে: ইতিহাসবিহিত আইপিওর পথে

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তিতে নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে — ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্স মার্কিন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। গত বুধবার (৩ জুন) প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) তাদের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নথি জমা দেয়।

কোম্পানিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী এই আইপিওটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও হওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হচ্ছে। স্পেসএক্স প্রায় ৭৫০০ কোটি ডলার উত্তোলনের লক্ষ্য রেখেছে। পুরো কোম্পানির বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার কোটি ডলার, যা কর্পোরেট বিশ্বে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

আইপিও পরিকল্পনায় প্রতিটি শেয়ারের দাম ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারে ছাড়ার লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫৫ কোটি ৫০ লাখের বেশি শেয়ার। যদি সবকিছু পরিকল্পনা মতো এগোয়, তবে আগামী ১২ জুনের মধ্যে শেয়ার বিক্রির দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার প্রতিবেদন রয়েছে। সফল হলে স্পেসএক্স ২০১৯ সালে সৌদি আরামকোর করা ২৫৬০ কোটি ডলারের আইপিও রেকর্ড ছাপিয়ে বিশ্বের শীর্ষে উঠে আসতে পারে। ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীরা এই মুহূর্তের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

স্পেসএক্সের পথ সহজ ছিল না। ২০০২ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ইলন মাস্ক স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার আগে তিনি তার অনলাইন ব্যবসা জিপ২ ও পরবর্তীতে পেপ্যাল বিক্রির মাধ্যমে প্রাপ্ত তহবিল দিয়েই এই মহাকাশ অভিযাত্রার স্বপ্ন শুরু করেন। শুরুর দিকে কয়েকবার রকেট উৎক্ষেপণে ব্যর্থতার মুখে পড়লেও ২০০৮ সালে ‘ফ্যালকন-১’ রকেটের সফল উৎক্ষেপণ স্পেসএক্সকে নতুন করে দাঁড় করায় এবং আধুনিক মহাকাশ গবেষণায় কোম্পানির অবদান স্পষ্ট হয়।

বর্তমানে স্পেসএক্স বেসরকারি মহাকাশ খাতে অন্যতম শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত। তাদের আংশিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি মহাকাশযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে এবং এই সফলতায় নাসা’র সঙ্গে তারা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। স্পেসএক্সই প্রথম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রসদ ও মানুষ পাঠিয়েছে।

তাদের স্টারলিংক স্যাটেলাইট প্রকল্প বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিচ্ছে এবং ‘স্টারশিপ’ নামের সম্পূর্ণ পুনর্ব্যবহারযোগ্য ভারী-লোকোড কক্ষপথ রকেট পোস্ট করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে গহ্বরভিত্তিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, স্পেসএক্সের এই আইপিও কেবল কোম্পানির জন্য অর্থ সংগ্রহের মাধ্যম নয়; এটি বেসরকারি মহাকাশ খাতের অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি বড় পরীক্ষা। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে এই কোম্পানিকে উন্মুক্ত করা হলে কিভাবে প্রতিফলন ঘটবে, তা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি জগতের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

আইপিও সফল হলে এটি ইলন মাস্কের বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে উদ্ভাবনী কাজে বড় পরিসরের বিনিয়োগের দিকে উৎসাহিত করতে পারে। এখন সময় — স্পেসএক্স সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে কতটা আবেদন যোগ্য হবে এবং মহাকাশ অর্থনীতিতে এটি কী ধরনের গতিশীলতা আনবে, তা দেখা বাকি।