০৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বিশেষ সিদ্ধান্তে ৬৫ শতাংশ গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তিত: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট ও তিন মাসের বিশেষ অভিযান শুরু কাদুগলির শহীদ ছয় বাংলাদেশিকে নিউইয়র্কে ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড’ মরণোত্তর পদক অর্থনীতির গতি ফিরাতে রোডশো — বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গ্রিন কনসার্নসের উদ্যোগে তেজগাঁওয়ে রোড ডিভাইডারে বৃক্ষরোপণ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ল — হতাহতের খবর নেই শহীদ জিয়ার সার্ক-ভিত্তিক বহুপাক্ষিক কূটনীতি সরকারের মূল পথ: তথ্যমন্ত্রী দৌলতদিয়ায় ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে গেছে বিইআরসি প্রত্যাহার করল ০–৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি

মার্কিন ট্রেজারিকে ছাড়িয়ে বিশ্ব রিজার্ভে স্বর্ণ শীর্ষে

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ কাঠামোয় একটি বড় রূপান্তর ঘটেছে — মার্কিন সরকারি বন্ডকে পিছনে ফেলে স্বর্ণ এখন শীর্ষে উঠে এসেছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিপুল স্বর্ণ ক্রয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি এই পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি।

ইসিবির তথ্যানুসারে ২০২৫ সালের শেষের দিকে বৈশ্বিক রিজার্ভের ২৭ শতাংশ ছিল স্বর্ণ, যা এক বছরের মধ্যে ২০ শতাংশ থেকে বেড়েছে। অপরদিকে একই সময় মার্কিন ট্রেজারির অংশ কমে ২৫ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। ইউরোর অনুপাত তুলনায় অপরিবর্তিত থেকে ১৫ শতাংশ রয়েছে।

ইসিবি সভাপতি ক্রিস্টিন ল্যাগার্ড বলেন, বর্তমান ভূ‑রাজনৈতিক উত্তেজনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ গ্রহণের প্রবণতাকে জোরদার করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছে ৩৬ হাজার টনেরও বেশি স্বর্ণ রয়েছে — যা ব্রেটন উডস যুগের পর থেকে অন্যতম শক্তিশালী মজুদ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

২০২৫ সালে স্বর্ণের দামও নতুন রেকর্ড গড়া—প্রতি আউন্সে ৫,৫০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে—যা রিজার্ভের গঠন বদলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবু সামগ্রিকভাবে ডলার-নির্ভর সম্পদ এখনও বৈশ্বিক রিজার্ভের প্রায় ৪২ শতাংশ দখল করে আছে।

ইসিবি বলছে, ২০২২ সাল থেকে বিশেষ করে চীন, পোল্যান্ড, তুরস্ক ও ভারত তাদের স্বর্ণ মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। তুরস্কের ক্ষেত্রে রাশিয়া‑ইউক্রেন যুদ্ধের পরে দেশটি প্রায় ২২০ টন স্বর্ণ সংগ্রহ করেছিল; তবে ২০২৬ সালের শুরুতে ইরান‑সংক্রান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষিতে প্রায় ১৩০ টন স্বর্ণ বিক্রি বা ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে বলে ইসিবি জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে এছাড়াও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থায় ইউরোর ভূমিকাও ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে—গত বছরে আন্তর্জাতিক ঋণ ইস্যু প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর এই স্বর্ণমুখী ঝোঁক এবং ট্রেজারির ওপর নির্ভরতা হ্রাস বৈশ্বিক আর্থিক সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে; মুদ্রা ঝুঁকি এড়াতে অনেক দেশ এখন স্বর্ণকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ সিদ্ধান্তে ৬৫ শতাংশ গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তিত: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

মার্কিন ট্রেজারিকে ছাড়িয়ে বিশ্ব রিজার্ভে স্বর্ণ শীর্ষে

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ কাঠামোয় একটি বড় রূপান্তর ঘটেছে — মার্কিন সরকারি বন্ডকে পিছনে ফেলে স্বর্ণ এখন শীর্ষে উঠে এসেছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিপুল স্বর্ণ ক্রয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি এই পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি।

ইসিবির তথ্যানুসারে ২০২৫ সালের শেষের দিকে বৈশ্বিক রিজার্ভের ২৭ শতাংশ ছিল স্বর্ণ, যা এক বছরের মধ্যে ২০ শতাংশ থেকে বেড়েছে। অপরদিকে একই সময় মার্কিন ট্রেজারির অংশ কমে ২৫ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। ইউরোর অনুপাত তুলনায় অপরিবর্তিত থেকে ১৫ শতাংশ রয়েছে।

ইসিবি সভাপতি ক্রিস্টিন ল্যাগার্ড বলেন, বর্তমান ভূ‑রাজনৈতিক উত্তেজনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ গ্রহণের প্রবণতাকে জোরদার করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছে ৩৬ হাজার টনেরও বেশি স্বর্ণ রয়েছে — যা ব্রেটন উডস যুগের পর থেকে অন্যতম শক্তিশালী মজুদ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

২০২৫ সালে স্বর্ণের দামও নতুন রেকর্ড গড়া—প্রতি আউন্সে ৫,৫০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে—যা রিজার্ভের গঠন বদলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবু সামগ্রিকভাবে ডলার-নির্ভর সম্পদ এখনও বৈশ্বিক রিজার্ভের প্রায় ৪২ শতাংশ দখল করে আছে।

ইসিবি বলছে, ২০২২ সাল থেকে বিশেষ করে চীন, পোল্যান্ড, তুরস্ক ও ভারত তাদের স্বর্ণ মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। তুরস্কের ক্ষেত্রে রাশিয়া‑ইউক্রেন যুদ্ধের পরে দেশটি প্রায় ২২০ টন স্বর্ণ সংগ্রহ করেছিল; তবে ২০২৬ সালের শুরুতে ইরান‑সংক্রান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষিতে প্রায় ১৩০ টন স্বর্ণ বিক্রি বা ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে বলে ইসিবি জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে এছাড়াও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থায় ইউরোর ভূমিকাও ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে—গত বছরে আন্তর্জাতিক ঋণ ইস্যু প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর এই স্বর্ণমুখী ঝোঁক এবং ট্রেজারির ওপর নির্ভরতা হ্রাস বৈশ্বিক আর্থিক সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে; মুদ্রা ঝুঁকি এড়াতে অনেক দেশ এখন স্বর্ণকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছে।