০৯:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অর্থনীতির গতি ফিরাতে রোডশো — বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গ্রিন কনসার্নসের উদ্যোগে তেজগাঁওয়ে রোড ডিভাইডারে বৃক্ষরোপণ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ল — হতাহতের খবর নেই শহীদ জিয়ার সার্ক-ভিত্তিক বহুপাক্ষিক কূটনীতি সরকারের মূল পথ: তথ্যমন্ত্রী দৌলতদিয়ায় ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে গেছে বিইআরসি প্রত্যাহার করল ০–৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বকীয়তার প্রতীক: মির্জা ফখরুল বিআইডব্লিউটিএ’র নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন মোঃ মুহিদুল ইসলাম মো. মুহিদুল ইসলাম বিআইডব্লিউটিএ’র নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান বাজেট ও সংস্কারে স্বাস্থ্যখাত: পরিবর্তনের পথে

ইলন মাস্কের স্পেসএক্স মার্কিন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে

মার্কিন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তির ইতিহাস গড়তে চলছে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স। কোম্পানিটি গত বুধবার (৩ জুন) মার্কিন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) তাদের আইপিওর জন্য আনুষ্ঠানিক নথি জমা দিয়েছে।

নথিতে স্পেসএক্সের লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রায় ৭৫০০ কোটি ডলার সংগ্রহ করা, এবং কোম্পানির মোট বাজারমূল্য সেখানে ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার কোটি ডলার — সব তথ্য ওই আইপিও নথি অনুযায়ী। নথিতে বলা হয়েছে প্রতিটি শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য ধরা হয়েছে ১৩৫ ডলার এবং বাজারে ছাড়ার জন্য মোট শেয়ারের সংখ্যা হবে প্রায় ৫৫ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি। সবকিছু সাবলীলভাবে এগোলে আগামী ১২ জুনের মধ্যে শেয়ার বিক্রির এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যদি স্পেসএক্স তাদের লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়, তবে এটি ২০১৯ সালে সৌদি আরামকোর করা বড় আইপিওর রেকর্ড ভাঙতে পারে বলে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা। ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীরা এখন এই মুহূর্তটির জন্য সাবধান কিন্তু উৎসাহী অপেক্ষায় রয়েছেন।

স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠার কাহিনীটি নিজের মতোই অনুপ্রেরণাদায়ক। ২০০২ সালে ৩০ বছর বয়সে ইলন মাস্ক স্পেসএক্স গড়ে তোলেন—মানবকে অন্য গ্রহে পাঠানো এবং মঙ্গলে মানুষের বসবাস স্থাপনের স্বপ্ন নিয়েই তিনি কাজ শুরু করেছিলেন। স্পেসএক্স গঠনের আগে মাস্ক তাঁর অনলাইন উদ্যোগ জিপ২ এবং পরে পেপ্যাল বিক্রি করে যে আর্থিক সম্ভবনা তৈরি করেছিলেন, তাতেই শুরু হয় মহাকাশবিজয় নির্মাণের এগিয়ে যাওয়া।

শুরুর বছরগুলোতে স্পেসএক্স বেশ কটি ব্যর্থ উৎক্ষেপণের সম্মুখীন হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। ২০০৮ সালে ‘ফ্যালকন-১’ রকেটের সফল উৎক্ষেপণ কোম্পানিটিকে পুনরায় এগিয়ে নিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে স্পেসএক্স আধুনিক বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের একটি পথপ্রদর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আবির্ভূত হয়।

বর্তমানে স্পেসএক্সকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলোর মধ্যে গণ্য করা হয়। আংশিকভাবে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ ভ্রমণের খরচ কমিয়ে আনা, নাসা’র প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করা এবং প্রথম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রসদ ও মানুষ পাঠানোর কীর্তি—এসবই কোম্পানির সুনাম গড়ে দিয়েছে।

এছাড়া ‘স্টারলিংক’ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে দ্রুত ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া ও ‘স্টারশিপ’ নামের সম্পূর্ণ পুনর্ব্যবহারযোগ্য বৃহৎ রকেট তৈরির কাজ স্পেসএক্সকে ভবিষ্যতের অভিযাত্রার জন্য প্রস্তুত করে তুলছে।

এই আইপিও স্পেসএক্সকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আনবে এবং বেসরকারি মহাকাশ খাতের অর্থায়ন ও বিনিয়োগের পরিধিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিশ্লেষকেরা বলছেন—স্পেসএক্স সফল হলে তা অন্য প্রযুক্তি ও মহাকাশ কোম্পানিগুলোকে নতুনভাবে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার সাহস জোগাবে এবং বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে। এখন নজর থাকবে—এই স্বপ্নবাহী সংস্থাটি পাবলিক বিনিয়োগকারীর আস্থা কতটা জিততে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

গ্রিন কনসার্নসের উদ্যোগে তেজগাঁওয়ে রোড ডিভাইডারে বৃক্ষরোপণ

ইলন মাস্কের স্পেসএক্স মার্কিন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে

প্রকাশিতঃ ০৭:২৩:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

মার্কিন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তির ইতিহাস গড়তে চলছে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স। কোম্পানিটি গত বুধবার (৩ জুন) মার্কিন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) তাদের আইপিওর জন্য আনুষ্ঠানিক নথি জমা দিয়েছে।

নথিতে স্পেসএক্সের লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রায় ৭৫০০ কোটি ডলার সংগ্রহ করা, এবং কোম্পানির মোট বাজারমূল্য সেখানে ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার কোটি ডলার — সব তথ্য ওই আইপিও নথি অনুযায়ী। নথিতে বলা হয়েছে প্রতিটি শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য ধরা হয়েছে ১৩৫ ডলার এবং বাজারে ছাড়ার জন্য মোট শেয়ারের সংখ্যা হবে প্রায় ৫৫ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি। সবকিছু সাবলীলভাবে এগোলে আগামী ১২ জুনের মধ্যে শেয়ার বিক্রির এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যদি স্পেসএক্স তাদের লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়, তবে এটি ২০১৯ সালে সৌদি আরামকোর করা বড় আইপিওর রেকর্ড ভাঙতে পারে বলে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা। ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীরা এখন এই মুহূর্তটির জন্য সাবধান কিন্তু উৎসাহী অপেক্ষায় রয়েছেন।

স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠার কাহিনীটি নিজের মতোই অনুপ্রেরণাদায়ক। ২০০২ সালে ৩০ বছর বয়সে ইলন মাস্ক স্পেসএক্স গড়ে তোলেন—মানবকে অন্য গ্রহে পাঠানো এবং মঙ্গলে মানুষের বসবাস স্থাপনের স্বপ্ন নিয়েই তিনি কাজ শুরু করেছিলেন। স্পেসএক্স গঠনের আগে মাস্ক তাঁর অনলাইন উদ্যোগ জিপ২ এবং পরে পেপ্যাল বিক্রি করে যে আর্থিক সম্ভবনা তৈরি করেছিলেন, তাতেই শুরু হয় মহাকাশবিজয় নির্মাণের এগিয়ে যাওয়া।

শুরুর বছরগুলোতে স্পেসএক্স বেশ কটি ব্যর্থ উৎক্ষেপণের সম্মুখীন হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। ২০০৮ সালে ‘ফ্যালকন-১’ রকেটের সফল উৎক্ষেপণ কোম্পানিটিকে পুনরায় এগিয়ে নিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে স্পেসএক্স আধুনিক বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের একটি পথপ্রদর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আবির্ভূত হয়।

বর্তমানে স্পেসএক্সকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলোর মধ্যে গণ্য করা হয়। আংশিকভাবে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ ভ্রমণের খরচ কমিয়ে আনা, নাসা’র প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করা এবং প্রথম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রসদ ও মানুষ পাঠানোর কীর্তি—এসবই কোম্পানির সুনাম গড়ে দিয়েছে।

এছাড়া ‘স্টারলিংক’ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে দ্রুত ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া ও ‘স্টারশিপ’ নামের সম্পূর্ণ পুনর্ব্যবহারযোগ্য বৃহৎ রকেট তৈরির কাজ স্পেসএক্সকে ভবিষ্যতের অভিযাত্রার জন্য প্রস্তুত করে তুলছে।

এই আইপিও স্পেসএক্সকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আনবে এবং বেসরকারি মহাকাশ খাতের অর্থায়ন ও বিনিয়োগের পরিধিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিশ্লেষকেরা বলছেন—স্পেসএক্স সফল হলে তা অন্য প্রযুক্তি ও মহাকাশ কোম্পানিগুলোকে নতুনভাবে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার সাহস জোগাবে এবং বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে। এখন নজর থাকবে—এই স্বপ্নবাহী সংস্থাটি পাবলিক বিনিয়োগকারীর আস্থা কতটা জিততে পারে।