০৬:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার উদ্যোগ নেই, বরং করজট কমানোর প্রস্তাব: এনবিআর চেয়ারম্যান ২০২৬-২৭ বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতের বরাদ্দ বাড়ল ১ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা সীমান্তে জোরপূর্বক ‘পুশ-ইন’ নিয়ে আসকের উদ্বেগ সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ নিয়ে উদ্বেগ, মানবিক সমাধানের আহ্বান—আসক দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠনে ব্যয়ে প্রায় ৪০ হাজার কোটি সব নাগরিক পাবেন ই-হেলথ কার্ড, গঠিত হবে জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট: ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব বৃহত্তম বাজেট পেস—অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোগ্যপণ্যের ব্যয় কমানো লক্ষ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী: আদ্-দ্বীনের শোকজ জবাবে আমরা সন্তুষ্ট নই বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রথমবার ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

কবিরহাট সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ-সহকারী অধ্যাপকের মারামারি; ভিডিও ভাইরাল

নোয়াখালীর কবিরহাট সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ এবং সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলনের মধ্যে তোলা একটি মারামারির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সমাজে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছিল গত ৯ এপ্রিল কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে। তবে ভিডিওটি শুক্রবার (১২ জুন) সকালেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হলে ব্যাপারটি সবচেয়ে বেশি নজরে আসে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড।

ভিডিওতে দেখা যায়, মিলনায়তনের প্রধান চেয়ারটিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ বসে আছেন। তাঁর বাম পাশে সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলন এবং ডান পাশে শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম অবস্থান করছিলেন। পিয়ন আব্দুর রহিম তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে পরে দুজনের মধ্যে তর্কে উত্তেজনা বাড়ে।

এক পর্যায়ে অধ্যক্ষ নিজের আসন থেকে উঠে সহকারী অধ্যাপক মিলনের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়। এরপর কিল-ঘুষি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি দেখতে পেয়ে শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম এবং জীববিজ্ঞানের প্রভাষক ওসমান গনি এগিয়ে এসে দুইজনকে আলাদা করেন।

শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম সংবাদকর্মীদের জানিয়েছেন, কলেজের শিক্ষক ডরমিটরির পানির ফিল্টার ২ মার্চ থেকে অচল ছিল। বিষয়টি একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে জানানো হলেও তাতে তৎপরতা দেখা যায়নি। পরে ৯ এপ্রিল ফিল্টার মেরামতের দাবি পুনরায় তুললে অধ্যক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে সহকারী অধ্যাপক মিলনকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন, এবং সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতিই শেষ পর্যন্ত হাতাহাতিতে রূপ নেয় বলে তাদের দাবি।

অন্য একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বেপরোয়া আচরণ শুরু হয়েছে; কলেজের নানা আর্থিক কাজ এককভাবে করার চেষ্টা, মাস্টার রোলভুক্ত প্রায় ১৭–১৮ কর্মচারীর বেতন নিয়ে হয়রানি এবং শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ আছে। অধ্যক্ষের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে ১১ মে কলেজের ১১ জন শিক্ষক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) লিখিতভাবে অভিযোগও দায়ের করেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানগত তদন্তের পদক্ষেপেও করা হয়েছে। গত ৯ জুন নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ বলেন, ‘যেই শিক্ষকের সঙ্গে আমার মারামারি হয়েছে, তিনি কি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন? অভিযোগ না করলে আপনাদের এত আগ্রহ কেন?’ তিনি আরও দাবি করেন, পরিস্থিতি থেকে তৃতীয় পক্ষ সুবিধা নিতে চাইছে এবং কলেজের তহবিল সংকটের কারণে মাস্টাররোলভুক্ত কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে।

বর্তমানে ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেলে কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্টরা ভবিষ্যতে গৃহীত পদক্ষেপ ও দায়ের করা অভিযোগের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করবেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার উদ্যোগ নেই, বরং করজট কমানোর প্রস্তাব: এনবিআর চেয়ারম্যান

কবিরহাট সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ-সহকারী অধ্যাপকের মারামারি; ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

নোয়াখালীর কবিরহাট সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ এবং সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলনের মধ্যে তোলা একটি মারামারির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সমাজে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছিল গত ৯ এপ্রিল কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে। তবে ভিডিওটি শুক্রবার (১২ জুন) সকালেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হলে ব্যাপারটি সবচেয়ে বেশি নজরে আসে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড।

ভিডিওতে দেখা যায়, মিলনায়তনের প্রধান চেয়ারটিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ বসে আছেন। তাঁর বাম পাশে সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলন এবং ডান পাশে শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম অবস্থান করছিলেন। পিয়ন আব্দুর রহিম তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে পরে দুজনের মধ্যে তর্কে উত্তেজনা বাড়ে।

এক পর্যায়ে অধ্যক্ষ নিজের আসন থেকে উঠে সহকারী অধ্যাপক মিলনের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়। এরপর কিল-ঘুষি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি দেখতে পেয়ে শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম এবং জীববিজ্ঞানের প্রভাষক ওসমান গনি এগিয়ে এসে দুইজনকে আলাদা করেন।

শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম সংবাদকর্মীদের জানিয়েছেন, কলেজের শিক্ষক ডরমিটরির পানির ফিল্টার ২ মার্চ থেকে অচল ছিল। বিষয়টি একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে জানানো হলেও তাতে তৎপরতা দেখা যায়নি। পরে ৯ এপ্রিল ফিল্টার মেরামতের দাবি পুনরায় তুললে অধ্যক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে সহকারী অধ্যাপক মিলনকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন, এবং সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতিই শেষ পর্যন্ত হাতাহাতিতে রূপ নেয় বলে তাদের দাবি।

অন্য একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বেপরোয়া আচরণ শুরু হয়েছে; কলেজের নানা আর্থিক কাজ এককভাবে করার চেষ্টা, মাস্টার রোলভুক্ত প্রায় ১৭–১৮ কর্মচারীর বেতন নিয়ে হয়রানি এবং শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ আছে। অধ্যক্ষের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে ১১ মে কলেজের ১১ জন শিক্ষক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) লিখিতভাবে অভিযোগও দায়ের করেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানগত তদন্তের পদক্ষেপেও করা হয়েছে। গত ৯ জুন নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ বলেন, ‘যেই শিক্ষকের সঙ্গে আমার মারামারি হয়েছে, তিনি কি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন? অভিযোগ না করলে আপনাদের এত আগ্রহ কেন?’ তিনি আরও দাবি করেন, পরিস্থিতি থেকে তৃতীয় পক্ষ সুবিধা নিতে চাইছে এবং কলেজের তহবিল সংকটের কারণে মাস্টাররোলভুক্ত কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে।

বর্তমানে ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেলে কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্টরা ভবিষ্যতে গৃহীত পদক্ষেপ ও দায়ের করা অভিযোগের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করবেন।