০৬:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিষিদ্ধ আ.লীগকে ঘিরে ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার চার মাস পর হরমুজ পেরিয়ে এগোচ্ছে জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ এনআইডি সংশোধন সহজ করতে ইসি গঠন করল পাঁচ সদস্যের কমিটি ডেঙ্গুতে চলতি বছরে মৃত ১০, আক্রান্ত ৫ হাজার ৩৯ গাঁজা অভিযোগে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের তীব্র সংঘর্ষ,多人 আহত চলতি অর্থবছরে বিটিভির আয় ৮ কোটি, ব্যয় ২৫৪ কোটি: তথ্যমন্ত্রী ঢাকা-সহ ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আর্জি: বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলুন সিপিডি: প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্ন আয়ের ওপর করের বোঝা অনুপাতে বেশি বেড়েছে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য ভাগ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: পানিসম্পদ মন্ত্রী

এআই চাহিদায় স্যামসাংকে ছাড়িয়ে দেশের শীর্ষে এসকে হাইনিক্স

দক্ষিণ কোরিয়ার পুঁজিবাজারে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন দেখা দিয়েছে — টেক জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকস দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ধরে রাখা শীর্ষস্থান হারিয়েছে। শীর্ষস্থান দখল করেছে মেমরি চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্স। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত উত্থানই কোম্পানিটির এই ব্যবসায়িক সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি।

বিশ্ববাজারে এসকে হাইনিক্স এখন এআই সিস্টেমে ব্যবহৃত বিশেষায়িত ‘হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি’ (HBM) চিপের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। এনভিডিয়া ও গুগলের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রধান গ্রাহক হিসেবে তালিকাভুক্ত আছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে এসকে হাইনিক্সের শেয়ারদর ৫.৬ শতাংশ বেড়ে কোম্পানির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ১.৩৫ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা তাদের বিশ্বে সবচেয়ে মূল্যবান মেমরি চিপ নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

অন্যদিকে, স্যামসাংয়ের শেয়ারদরে সামান্য পতনের ফলে তারা ঘরোয়া বাজারে দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে — ২০০০ সালের পর এটি প্রথমবার যে অবস্থান। যদিও স্যামসাং দাবি করেছে, তাদের অগ্রাধিকারভিত্তিক শেয়ারগুলোকে ধরা হলে এখনও তারা এগিয়ে রয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এআই প্রযুক্তির রূপান্তর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সমীকরণ বদলে দিয়েছে। চ্যাটজিপি-ধাঁচের উন্নত এআই মডেলগুলি চালানোর জন্য দ্রুত ও উচ্চব্যান্ডউইথের মেমোরি চিপ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে; ঠিক এখানেই এসকে হাইনিক্স নিজেকে আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।

এসকে হাইনিক্সের অর্জন আরও ব্যতিক্রমী কী, তা হলো— এক সময়ে, প্রায় ২০০২ সালের দিকে দেউলিয়ার কণ্ঠে পড়ে যাওয়া ও আমেরিকান মাইক্রনের কাছে বিক্রি হতে নড়াচড়া করা সেই প্রতিষ্ঠানটি এখন করপোরেট রূপান্তরের এক সফল কাহিনী হয়ে উঠেছে।

২০২৩ সালে চিপ বাজারের মন্দায় কোম্পানিটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিল। তবে ২০২৪ থেকে মাইক্রোসফট, গুগল ও মেটার মতো কোম্পানিগুলো এআই-ভিত্তিক প্রকল্পে বিপুল বিনিয়োগ শুরু করলে চিপের চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়ে। ফলত ক্ষতিপূরণ কাটিয়ে তারা দ্রুত মুনাফা অর্জন করে, এবং চলতি বছরে তাদের শেয়ারদর ৩৪০%-এরও বেশি বৃদ্ধি পায়, যা শীর্ষস্থানে আরোহণে সহায়তা করেছে।

এ ঘটনার ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমে নতুন দ্বন্দ্ব এবং প্রতিযোগিতার সূচনা হয়েছে। শিল্পবিশ্লেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে কাকে লিডার হিসেবে দেখা হবে তা নির্ভর করবে কে কিভাবে এআই-এর চাহিদা মেটাতে দ্রুত ও কার্যকরী সলিউশন দিতে পারে তার ওপর।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

পাচার-লুটের টাকা দিয়ে দেশে সন্ত্রাস ছড়ানোর ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভী

এআই চাহিদায় স্যামসাংকে ছাড়িয়ে দেশের শীর্ষে এসকে হাইনিক্স

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার পুঁজিবাজারে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন দেখা দিয়েছে — টেক জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকস দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ধরে রাখা শীর্ষস্থান হারিয়েছে। শীর্ষস্থান দখল করেছে মেমরি চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্স। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত উত্থানই কোম্পানিটির এই ব্যবসায়িক সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি।

বিশ্ববাজারে এসকে হাইনিক্স এখন এআই সিস্টেমে ব্যবহৃত বিশেষায়িত ‘হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি’ (HBM) চিপের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। এনভিডিয়া ও গুগলের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রধান গ্রাহক হিসেবে তালিকাভুক্ত আছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে এসকে হাইনিক্সের শেয়ারদর ৫.৬ শতাংশ বেড়ে কোম্পানির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ১.৩৫ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা তাদের বিশ্বে সবচেয়ে মূল্যবান মেমরি চিপ নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

অন্যদিকে, স্যামসাংয়ের শেয়ারদরে সামান্য পতনের ফলে তারা ঘরোয়া বাজারে দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে — ২০০০ সালের পর এটি প্রথমবার যে অবস্থান। যদিও স্যামসাং দাবি করেছে, তাদের অগ্রাধিকারভিত্তিক শেয়ারগুলোকে ধরা হলে এখনও তারা এগিয়ে রয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এআই প্রযুক্তির রূপান্তর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সমীকরণ বদলে দিয়েছে। চ্যাটজিপি-ধাঁচের উন্নত এআই মডেলগুলি চালানোর জন্য দ্রুত ও উচ্চব্যান্ডউইথের মেমোরি চিপ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে; ঠিক এখানেই এসকে হাইনিক্স নিজেকে আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।

এসকে হাইনিক্সের অর্জন আরও ব্যতিক্রমী কী, তা হলো— এক সময়ে, প্রায় ২০০২ সালের দিকে দেউলিয়ার কণ্ঠে পড়ে যাওয়া ও আমেরিকান মাইক্রনের কাছে বিক্রি হতে নড়াচড়া করা সেই প্রতিষ্ঠানটি এখন করপোরেট রূপান্তরের এক সফল কাহিনী হয়ে উঠেছে।

২০২৩ সালে চিপ বাজারের মন্দায় কোম্পানিটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিল। তবে ২০২৪ থেকে মাইক্রোসফট, গুগল ও মেটার মতো কোম্পানিগুলো এআই-ভিত্তিক প্রকল্পে বিপুল বিনিয়োগ শুরু করলে চিপের চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়ে। ফলত ক্ষতিপূরণ কাটিয়ে তারা দ্রুত মুনাফা অর্জন করে, এবং চলতি বছরে তাদের শেয়ারদর ৩৪০%-এরও বেশি বৃদ্ধি পায়, যা শীর্ষস্থানে আরোহণে সহায়তা করেছে।

এ ঘটনার ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমে নতুন দ্বন্দ্ব এবং প্রতিযোগিতার সূচনা হয়েছে। শিল্পবিশ্লেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে কাকে লিডার হিসেবে দেখা হবে তা নির্ভর করবে কে কিভাবে এআই-এর চাহিদা মেটাতে দ্রুত ও কার্যকরী সলিউশন দিতে পারে তার ওপর।