০৪:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

এআই চাহিদায় স্যামসাংকে ছাড়িয়ে দেশের শীর্ষে এসকে হাইনিক্স

দক্ষিণ কোরিয়ার পুঁজিবাজারে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন দেখা দিয়েছে — টেক জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকস দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ধরে রাখা শীর্ষস্থান হারিয়েছে। শীর্ষস্থান দখল করেছে মেমরি চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্স। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত উত্থানই কোম্পানিটির এই ব্যবসায়িক সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি।

বিশ্ববাজারে এসকে হাইনিক্স এখন এআই সিস্টেমে ব্যবহৃত বিশেষায়িত ‘হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি’ (HBM) চিপের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। এনভিডিয়া ও গুগলের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রধান গ্রাহক হিসেবে তালিকাভুক্ত আছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে এসকে হাইনিক্সের শেয়ারদর ৫.৬ শতাংশ বেড়ে কোম্পানির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ১.৩৫ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা তাদের বিশ্বে সবচেয়ে মূল্যবান মেমরি চিপ নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

অন্যদিকে, স্যামসাংয়ের শেয়ারদরে সামান্য পতনের ফলে তারা ঘরোয়া বাজারে দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে — ২০০০ সালের পর এটি প্রথমবার যে অবস্থান। যদিও স্যামসাং দাবি করেছে, তাদের অগ্রাধিকারভিত্তিক শেয়ারগুলোকে ধরা হলে এখনও তারা এগিয়ে রয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এআই প্রযুক্তির রূপান্তর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সমীকরণ বদলে দিয়েছে। চ্যাটজিপি-ধাঁচের উন্নত এআই মডেলগুলি চালানোর জন্য দ্রুত ও উচ্চব্যান্ডউইথের মেমোরি চিপ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে; ঠিক এখানেই এসকে হাইনিক্স নিজেকে আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।

এসকে হাইনিক্সের অর্জন আরও ব্যতিক্রমী কী, তা হলো— এক সময়ে, প্রায় ২০০২ সালের দিকে দেউলিয়ার কণ্ঠে পড়ে যাওয়া ও আমেরিকান মাইক্রনের কাছে বিক্রি হতে নড়াচড়া করা সেই প্রতিষ্ঠানটি এখন করপোরেট রূপান্তরের এক সফল কাহিনী হয়ে উঠেছে।

২০২৩ সালে চিপ বাজারের মন্দায় কোম্পানিটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিল। তবে ২০২৪ থেকে মাইক্রোসফট, গুগল ও মেটার মতো কোম্পানিগুলো এআই-ভিত্তিক প্রকল্পে বিপুল বিনিয়োগ শুরু করলে চিপের চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়ে। ফলত ক্ষতিপূরণ কাটিয়ে তারা দ্রুত মুনাফা অর্জন করে, এবং চলতি বছরে তাদের শেয়ারদর ৩৪০%-এরও বেশি বৃদ্ধি পায়, যা শীর্ষস্থানে আরোহণে সহায়তা করেছে।

এ ঘটনার ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমে নতুন দ্বন্দ্ব এবং প্রতিযোগিতার সূচনা হয়েছে। শিল্পবিশ্লেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে কাকে লিডার হিসেবে দেখা হবে তা নির্ভর করবে কে কিভাবে এআই-এর চাহিদা মেটাতে দ্রুত ও কার্যকরী সলিউশন দিতে পারে তার ওপর।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

এআই চাহিদায় স্যামসাংকে ছাড়িয়ে দেশের শীর্ষে এসকে হাইনিক্স

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার পুঁজিবাজারে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন দেখা দিয়েছে — টেক জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকস দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ধরে রাখা শীর্ষস্থান হারিয়েছে। শীর্ষস্থান দখল করেছে মেমরি চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্স। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত উত্থানই কোম্পানিটির এই ব্যবসায়িক সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি।

বিশ্ববাজারে এসকে হাইনিক্স এখন এআই সিস্টেমে ব্যবহৃত বিশেষায়িত ‘হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি’ (HBM) চিপের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। এনভিডিয়া ও গুগলের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রধান গ্রাহক হিসেবে তালিকাভুক্ত আছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে এসকে হাইনিক্সের শেয়ারদর ৫.৬ শতাংশ বেড়ে কোম্পানির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ১.৩৫ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা তাদের বিশ্বে সবচেয়ে মূল্যবান মেমরি চিপ নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

অন্যদিকে, স্যামসাংয়ের শেয়ারদরে সামান্য পতনের ফলে তারা ঘরোয়া বাজারে দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে — ২০০০ সালের পর এটি প্রথমবার যে অবস্থান। যদিও স্যামসাং দাবি করেছে, তাদের অগ্রাধিকারভিত্তিক শেয়ারগুলোকে ধরা হলে এখনও তারা এগিয়ে রয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এআই প্রযুক্তির রূপান্তর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সমীকরণ বদলে দিয়েছে। চ্যাটজিপি-ধাঁচের উন্নত এআই মডেলগুলি চালানোর জন্য দ্রুত ও উচ্চব্যান্ডউইথের মেমোরি চিপ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে; ঠিক এখানেই এসকে হাইনিক্স নিজেকে আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।

এসকে হাইনিক্সের অর্জন আরও ব্যতিক্রমী কী, তা হলো— এক সময়ে, প্রায় ২০০২ সালের দিকে দেউলিয়ার কণ্ঠে পড়ে যাওয়া ও আমেরিকান মাইক্রনের কাছে বিক্রি হতে নড়াচড়া করা সেই প্রতিষ্ঠানটি এখন করপোরেট রূপান্তরের এক সফল কাহিনী হয়ে উঠেছে।

২০২৩ সালে চিপ বাজারের মন্দায় কোম্পানিটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিল। তবে ২০২৪ থেকে মাইক্রোসফট, গুগল ও মেটার মতো কোম্পানিগুলো এআই-ভিত্তিক প্রকল্পে বিপুল বিনিয়োগ শুরু করলে চিপের চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়ে। ফলত ক্ষতিপূরণ কাটিয়ে তারা দ্রুত মুনাফা অর্জন করে, এবং চলতি বছরে তাদের শেয়ারদর ৩৪০%-এরও বেশি বৃদ্ধি পায়, যা শীর্ষস্থানে আরোহণে সহায়তা করেছে।

এ ঘটনার ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমে নতুন দ্বন্দ্ব এবং প্রতিযোগিতার সূচনা হয়েছে। শিল্পবিশ্লেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে কাকে লিডার হিসেবে দেখা হবে তা নির্ভর করবে কে কিভাবে এআই-এর চাহিদা মেটাতে দ্রুত ও কার্যকরী সলিউশন দিতে পারে তার ওপর।