০৮:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন অনন্য বহুমুখী শিল্পী: তথ্যমন্ত্রী নাম বদল বা তৃণমূল—কোনওভাবেই কার্যক্রম চালাতে পারবে না আওয়ামী লীগ: তথ্য উপদেষ্টা সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস — অনলাইন বেটিংয়ে সর্বোচ্চ ৫ কোটি জরিমানা, ১০ বছর কারাদণ্ড ইসি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে: মির্জা ফখরুল জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকায় সমন্বিত উদ্যোগ—১০৮ হটস্পট চিহ্নিত খামেনির শেষকৃত্যে যোগ দিতে তেহরান যাচ্ছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন করমুক্ত আয়সীমা বাড়ল; ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে আর লাগবে না টিআইএন এনবিআরের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও পুতুলনাট্যের পথপ্রদর্শক মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই পানি নিরাপত্তার জন্য যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন হবে: প্রধানমন্ত্রী

নাম বদল বা তৃণমূল—কোনওভাবেই কার্যক্রম চালাতে পারবে না আওয়ামী লীগ: তথ্য উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আদালত যে নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে ততদিন আওয়ামী লীগ কোনো নামেই—রিফাইন্ড কিংবা তৃণমূল—কার্যক্রম চালাতে পারবে না। তিনি বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গণমাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়; তাই সংবাদপ্রচারে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে গণমাধ্যমের আরও দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।

মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ এসব কথা বলেন।

গত কয়েক দিনে ভারতের ভিত্তিক কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার বক্তব্য সম্প্রচার ও অনুবাদ করে দেশের গণমাধ্যমে ছড়িয়েছে। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে ডা. জাহেদ জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বক্তব্য প্রচার করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ এবং এ ধরনের বিষয় সম্পর্কে আদালতের নির্দেশনা দেশের সকল গণমাধ্যমকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়েও তিনি নিশ্চিত করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় দল কোনো বিকল্প নাম বা তফাওত তৈরি করে কার্যক্রম চালাতে পারবে না।

ব্রিফিংয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা সম্পর্কেও তাঁর ব্যাখ্যা ছিল স্পষ্ট — বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র; জনগণের স্বার্থেই তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে এবং এতে বিদেশি ‘কনসার্ন’ কোনোভাবে প্রাসঙ্গিক হবে না। তিনি বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের সংকট গভীর ও মানবিক; বর্ষায় নদীভাঙন ও শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকট উত্তরাঞ্চলের লোকজনকে চরম দুশ্চিন্তায় ফেলছে। তাই তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল কাজ হবে নদী শাসন, ড্রেজিং এবং পানি সংরক্ষণ।

ডা. জাহেদ বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীনের প্রযুক্তি ও দক্ষতা রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তহবিল পাওয়ার সম্ভাবনাও আছে। প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভূ-রাজনৈতিক কোনো চ্যালেঞ্জ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নিজের জনগণ ও জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে অন্য কোনো দেশের কনসার্ন হওয়া সম্মানজনক, তবে এটি বাংলাদেশকে তার সার্বভৌম অধিকারে আপস করতে বাধ্য করবে না। ভারত বা অন্য কোনো দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে যখন সংযুক্ত হবে, তা হবে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবেই। যদি কারো নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ থাকে, সেটি বিবেচনা করা হবে — কিন্তু সংবেদনশীল বিষয়ে আপস করা হবে না।

তিনি আগের সরকারগুলোর সমালোচনা করে বলেন, অতীতের কিছু সময়ে দেশের স্বার্থের বদলে বহুনির্বাচিত সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টায় জনগণের স্বার্থ বোঝা হয়নি; বর্তমান সরকার সেই গতিকে পরিহার করে পারস্পরিক ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষার কৌশল অবলম্বন করছে।

ডা. জাহেদ আরও জোর দিয়েছেন যে, ব্যারাজ নির্মাণের অর্থ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি ত্যাগ করা নয়। তিস্তা ও গঙ্গাসহ অভিন্ন ৫৩টি নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন দেওয়ার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, তবে নদী শাসন ও সুরক্ষায় অভ্যন্তরীণ ডাউনস্ট্রিম ব্যারাজের কাজও নিজেদের স্বার্থে দ্রুত শুরু করা দরকার।

ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন অনন্য বহুমুখী শিল্পী: তথ্যমন্ত্রী

নাম বদল বা তৃণমূল—কোনওভাবেই কার্যক্রম চালাতে পারবে না আওয়ামী লীগ: তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশিতঃ ০৭:২৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আদালত যে নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে ততদিন আওয়ামী লীগ কোনো নামেই—রিফাইন্ড কিংবা তৃণমূল—কার্যক্রম চালাতে পারবে না। তিনি বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গণমাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়; তাই সংবাদপ্রচারে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে গণমাধ্যমের আরও দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।

মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ এসব কথা বলেন।

গত কয়েক দিনে ভারতের ভিত্তিক কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার বক্তব্য সম্প্রচার ও অনুবাদ করে দেশের গণমাধ্যমে ছড়িয়েছে। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে ডা. জাহেদ জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বক্তব্য প্রচার করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ এবং এ ধরনের বিষয় সম্পর্কে আদালতের নির্দেশনা দেশের সকল গণমাধ্যমকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়েও তিনি নিশ্চিত করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় দল কোনো বিকল্প নাম বা তফাওত তৈরি করে কার্যক্রম চালাতে পারবে না।

ব্রিফিংয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা সম্পর্কেও তাঁর ব্যাখ্যা ছিল স্পষ্ট — বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র; জনগণের স্বার্থেই তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে এবং এতে বিদেশি ‘কনসার্ন’ কোনোভাবে প্রাসঙ্গিক হবে না। তিনি বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের সংকট গভীর ও মানবিক; বর্ষায় নদীভাঙন ও শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকট উত্তরাঞ্চলের লোকজনকে চরম দুশ্চিন্তায় ফেলছে। তাই তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল কাজ হবে নদী শাসন, ড্রেজিং এবং পানি সংরক্ষণ।

ডা. জাহেদ বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীনের প্রযুক্তি ও দক্ষতা রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তহবিল পাওয়ার সম্ভাবনাও আছে। প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভূ-রাজনৈতিক কোনো চ্যালেঞ্জ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নিজের জনগণ ও জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে অন্য কোনো দেশের কনসার্ন হওয়া সম্মানজনক, তবে এটি বাংলাদেশকে তার সার্বভৌম অধিকারে আপস করতে বাধ্য করবে না। ভারত বা অন্য কোনো দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে যখন সংযুক্ত হবে, তা হবে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবেই। যদি কারো নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ থাকে, সেটি বিবেচনা করা হবে — কিন্তু সংবেদনশীল বিষয়ে আপস করা হবে না।

তিনি আগের সরকারগুলোর সমালোচনা করে বলেন, অতীতের কিছু সময়ে দেশের স্বার্থের বদলে বহুনির্বাচিত সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টায় জনগণের স্বার্থ বোঝা হয়নি; বর্তমান সরকার সেই গতিকে পরিহার করে পারস্পরিক ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষার কৌশল অবলম্বন করছে।

ডা. জাহেদ আরও জোর দিয়েছেন যে, ব্যারাজ নির্মাণের অর্থ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি ত্যাগ করা নয়। তিস্তা ও গঙ্গাসহ অভিন্ন ৫৩টি নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন দেওয়ার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, তবে নদী শাসন ও সুরক্ষায় অভ্যন্তরীণ ডাউনস্ট্রিম ব্যারাজের কাজও নিজেদের স্বার্থে দ্রুত শুরু করা দরকার।

ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।