০১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস — অনলাইন বেটিংয়ে সর্বোচ্চ ৫ কোটি জরিমানা, ১০ বছর কারাদণ্ড

জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’। ১৫৯ বছরের পুরনো The Public Gambling Act, 1867 বাতিল করে আধুনিক ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই আইন সর্বসম্মতিতে অনুমোদন করা হয়। মঙ্গলবার স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উপস্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাশ হয়। আইন প্রণয়নের মূল কারণ হিসেবে পুরনো আইন ডিজিটাল জুয়া, অনলাইন বেটিং ও ক্রিপ্টোভিত্তিক অপরাধ মোকাবিলায় অপ্রয়োগ্য হওয়া উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন আইনে অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ক্যাসিনো বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে চালানো লেনদেনসহ আধুনিক জুয়ার নানা রূপ স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে জুয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ পাঠানো, ভিপিএন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে জুয়া আয়োজন, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অর্থপাচার, বিদেশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবে কাজ করা, এবং জুয়ার পেজ পরিচালনা—এসবই এখন কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ধরা হবে। জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার বা সংশ্লিষ্ট স্পনসরশিপ গ্রহণের ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

আইনে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সর্বোচ্চ দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে; প্রয়োজনে উভয় দণ্ডই একসঙ্গে আরোপ করা যাবে। এছাড়া আইনভঙ্গের অভিযোগকে গ্রেপ্তারযোগ্য (cognizable) এবং জামিন অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বিচারের জন্য সাইবার ট্রাইব্যুনাল বা বিশেষ ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

সরকার আশা করছে এই কঠোর বিধানগুলোর কারণে অনলাইন জুয়ার সিন্ডিকেট নির্মূল করা সহজ হবে এবং তরুণ সমাজ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা পাবে। আইন প্রণয়নকারীরা বলছেন—পরিবর্তিত ডিজিটাল বাস্তবতা মোকাবিলায় এখনই রূপরেখা বদলানো জরুরি ছিল।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস — অনলাইন বেটিংয়ে সর্বোচ্চ ৫ কোটি জরিমানা, ১০ বছর কারাদণ্ড

প্রকাশিতঃ ০২:২৬:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’। ১৫৯ বছরের পুরনো The Public Gambling Act, 1867 বাতিল করে আধুনিক ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই আইন সর্বসম্মতিতে অনুমোদন করা হয়। মঙ্গলবার স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উপস্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাশ হয়। আইন প্রণয়নের মূল কারণ হিসেবে পুরনো আইন ডিজিটাল জুয়া, অনলাইন বেটিং ও ক্রিপ্টোভিত্তিক অপরাধ মোকাবিলায় অপ্রয়োগ্য হওয়া উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন আইনে অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ক্যাসিনো বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে চালানো লেনদেনসহ আধুনিক জুয়ার নানা রূপ স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে জুয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ পাঠানো, ভিপিএন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে জুয়া আয়োজন, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অর্থপাচার, বিদেশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবে কাজ করা, এবং জুয়ার পেজ পরিচালনা—এসবই এখন কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ধরা হবে। জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার বা সংশ্লিষ্ট স্পনসরশিপ গ্রহণের ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

আইনে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সর্বোচ্চ দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে; প্রয়োজনে উভয় দণ্ডই একসঙ্গে আরোপ করা যাবে। এছাড়া আইনভঙ্গের অভিযোগকে গ্রেপ্তারযোগ্য (cognizable) এবং জামিন অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বিচারের জন্য সাইবার ট্রাইব্যুনাল বা বিশেষ ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

সরকার আশা করছে এই কঠোর বিধানগুলোর কারণে অনলাইন জুয়ার সিন্ডিকেট নির্মূল করা সহজ হবে এবং তরুণ সমাজ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা পাবে। আইন প্রণয়নকারীরা বলছেন—পরিবর্তিত ডিজিটাল বাস্তবতা মোকাবিলায় এখনই রূপরেখা বদলানো জরুরি ছিল।