পাকিস্তান ক্রিকেটে বড় সংস্কারের ঘোষণা দিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে শান মাসুদকে। তাঁর পরিবর্তে সাদা পোশাকের দলে আবারও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাবর আজমকে — যা বোর্ডের কাছে দলীয় বিকল্পের সীমাবদ্ধতাকেই ফুটিয়ে তোলে। পিসিবি গত জুলাই মাসের শেষের দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দল ঘোষণা করার সময় এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করে।
শান মাসুদের ছাড়পত্র পাকিস্তান ক্রিকেটে একটা হতাশাজনক অধ্যায়ের সমাপ্তি বয়ে আনল। অধিনায়কত্ব নেওয়ার পর ১৬টি টেস্টে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি; ওই ১৬টিতেই হার এসেছে ১২টিতে। টেস্ট ইতিহাসে খুব কম অধিনায়কের প্রথম ১৬ ম্যাচে এত বেশি পরাজয় রয়েছে — হারের সংখ্যা বিচারে তাঁর ওপরে কেবল মিসবাহ-উল-হক (৫৬ টেস্টে ১৯ হার) ছিলেন। এছাড়া মাসুদের অধীনে দলের টানা সাতটি টেস্টে পরাজয় হয়েছে, যা পাকিস্তানের জন্য যৌথভাবে সর্বোচ্চ রেকর্ড স্পর্শ করে।
মাসুদের অধিনায়কত্বের শুরুটা হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৩-০ হোয়াইটওয়াশের মতো উল্লেখযোগ্য ব্যর্থতায়। এরপর ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে ২-০ গোলে হারার মতো বড় ধাক্কাও সইতে হয়, যা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তাদের প্রথম টেস্ট সিরিজ পরাজয় হিসেবে ইতিহাসে যাচাই হয়েছে। যদিও ওই সময়ে তিনি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ জিতে দলের মাঝে একমাত্র আলোকবিন্দু হিসেবে থাকেন, মোটমাটিভিভাবে সাতটি সিরিজের মধ্যে মাত্র একটিই জয়ের হাসি দেখিয়েছে পাকিস্তান এবং চারটিতে হার হয়েছে — ফলত বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে দল নীচে ঠেকে যায়।
বাহ্যিকভাবে অধিনায়ক হিসেবে দল ব্যর্থ হলেও ব্যক্তিগত ফর্মে শান মাসুদ কিছুটা সাফল্য দেখিয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার আগে তাঁর ব্যাটিং গড় ২৮.৫১ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪.০৬—এর মধ্যে রয়েছে দুইটি সেঞ্চুরি ও সাতটি হাফসেঞ্চুরি। তবুও টিম পারফরম্যান্সের বোঝা চালিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি তিনি, যেটাই শেষ পর্যন্ত বোর্ডকে এই সিদ্ধান্তে ঠেলে দেয়।
পিসিবির সিদ্ধান্তে আবারও অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন বাবর আজম — যিনি একসময় শান মাসুদকে নেতৃত্বভার তুলে দিয়েছিলেন। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর বাবরের ব্যাটিং তিন ফরম্যাটেই বেগবন্ধ হয়েছে; বিশেষ করে শান মাসুদের অধীনে টেস্টে তাঁর গড় ছিল মাত্র ২৭-এর কিছু বেশি। তবু বাবরের অধিনায়কত্বের রেকর্ড উল্লেখযোগ্য: ২০টি টেস্টে ১০ জয় পেয়েছে পাকিস্তান তাঁর নেতৃত্বে। সেই সাফল্যের মাঝে আছে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ হারানো এবং বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার মতো অর্জন। অধিনায়ক হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত ফর্মও ছিল অসাধারণ — এক সময়ে গড় ছিল ৫০-এর ওপরে। অবশ্য বাবরের শাসনামলেও ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের কাছে ৩-০ হোয়াইটওয়াশের মতো বড় লজ্জার পাতাও আছে।
এখন বাবর দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্ব নিয়েছেন অত্যন্ত চাপপূর্ণ সূচির মুখে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শেষ হতেই ইংল্যান্ডের মাটিতে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে পাকিস্তান — সেখানে ছয় বছরের মধ্যে তাদের প্রথম সফর। এর পর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ নিয়ে ব্যস্ত শীতকালীন মরসুম কাটাতে হবে দলের।
পাকিস্তানের ঘোষিত ১৭ সদস্যের টেস্ট স্কোয়াড:
বাবর আজম (অধিনায়ক), আমির জামাল, আবদুল্লাহ ফজল, আলী উসমান, আজান আওয়াইস, ইমাম-উল-হক, খুররম শাহজাদ, মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), মুহাম্মদ আওয়াইস জাফর, মুহাম্মদ গাজী ঘোরি (উইকেটরক্ষক), সাজিদ খান, সালমান আলী আগা, সৌদ শাকিল, শান মাসুদ এবং উবাইদ শাহ।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 
























