১১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ইইউ-র সঙ্গে এফটিএ না হলে পোশাক রপ্তানি ৪৪% পর্যন্ত কমতে পারে

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) না হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‌্যাপিড)।

র‌্যাপিডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলডিসি-উত্তর সময়ে বাংলাদেশ যদি এফটিএ না করে তবে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারায়, ফলে ভারত ও ভিয়েতনামসহ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো ইউরোপের বাজারে আরও সুবিধা নিয়ে প্রবেশ করবে। ভারতের এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে ইউরোপের চলমান চুক্তিগুলো কার্যকর হলে বাংলাদেশের উপর প্রতিযোগিতামূলক চাপ বেড়ে যাবে এবং দ্বৈতভাবে অগ্রাধিকার হারাবার ঝুঁকি তৈরি হবে।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, যদি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে ইউরোপীয় চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয় তাহলে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। তবে সময়মতো ও সক্ষমভাবে এফটিএ করা সম্ভব হলে মোট রপ্তানিতে সম্ভাব্য ক্ষতি ১৬ শতাংশ এবং তৈরি পোশাক ক্ষেত্রে তা ১৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা যেতে পারে। এithmetic-চিত্রটি ততই ভয়াবহ যখন বিবেচনায় রাখা হয় যে বর্তমানে ইউরোপে বাংলাদেশের রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই তৈরি পোশাক কেন্দ্রিক।

বিশেষ করে ভিয়েতনাম প্রাপ্ত সুবিধার ফলে ২০২৭ সালের মধ্যে ইইউ-এর শুল্কশূন্য সুযোগ পুরোপুরি কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে—এটি সরাসরি বাংলাদেশের পোশাক খাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি সমন্বিত সরবরাহ ব্যবস্থা, উৎপাদন ব্যয়ে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা ও পণ্যের বৈচিত্র্যের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা ভারত ও ভিয়েতনামের দিকে ঝুঁকছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ছিল ১৯.৪১ বিলিয়ন ইউরো।

ইইউ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের কাছে কিছু কাঠামোগত সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে এবং এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। এসব আলোচনায় অশুল্ক-সংক্রান্ত বাধা কমানো, ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়নকে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, দ্রুতকালে এফটিএ না হলে রপ্তানিতে সম্ভাব্য পতন কেবল আয়ের ক্ষতি করবে না—এটি দেশের রপ্তানি-ভিত্তিক কর্মসংস্থানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই প্রতিযোগিতা বজায় রাখা এবং কর্মসংস্থান রক্ষার জন্য সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

সরকারি উদ্যোগ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ইইউকে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব পাঠিয়েছে এবং এ বিষয়ে নীতিগত অবস্থান ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা শ্রম ও পরিবেশগত মান উন্নয়ন ও রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর আলাদা করে জোর দিয়েছেন, যাতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগী থাকতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ইইউ-র সঙ্গে এফটিএ না হলে পোশাক রপ্তানি ৪৪% পর্যন্ত কমতে পারে

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) না হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‌্যাপিড)।

র‌্যাপিডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলডিসি-উত্তর সময়ে বাংলাদেশ যদি এফটিএ না করে তবে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারায়, ফলে ভারত ও ভিয়েতনামসহ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো ইউরোপের বাজারে আরও সুবিধা নিয়ে প্রবেশ করবে। ভারতের এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে ইউরোপের চলমান চুক্তিগুলো কার্যকর হলে বাংলাদেশের উপর প্রতিযোগিতামূলক চাপ বেড়ে যাবে এবং দ্বৈতভাবে অগ্রাধিকার হারাবার ঝুঁকি তৈরি হবে।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, যদি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে ইউরোপীয় চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয় তাহলে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। তবে সময়মতো ও সক্ষমভাবে এফটিএ করা সম্ভব হলে মোট রপ্তানিতে সম্ভাব্য ক্ষতি ১৬ শতাংশ এবং তৈরি পোশাক ক্ষেত্রে তা ১৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা যেতে পারে। এithmetic-চিত্রটি ততই ভয়াবহ যখন বিবেচনায় রাখা হয় যে বর্তমানে ইউরোপে বাংলাদেশের রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই তৈরি পোশাক কেন্দ্রিক।

বিশেষ করে ভিয়েতনাম প্রাপ্ত সুবিধার ফলে ২০২৭ সালের মধ্যে ইইউ-এর শুল্কশূন্য সুযোগ পুরোপুরি কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে—এটি সরাসরি বাংলাদেশের পোশাক খাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি সমন্বিত সরবরাহ ব্যবস্থা, উৎপাদন ব্যয়ে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা ও পণ্যের বৈচিত্র্যের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা ভারত ও ভিয়েতনামের দিকে ঝুঁকছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ছিল ১৯.৪১ বিলিয়ন ইউরো।

ইইউ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের কাছে কিছু কাঠামোগত সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে এবং এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। এসব আলোচনায় অশুল্ক-সংক্রান্ত বাধা কমানো, ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়নকে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, দ্রুতকালে এফটিএ না হলে রপ্তানিতে সম্ভাব্য পতন কেবল আয়ের ক্ষতি করবে না—এটি দেশের রপ্তানি-ভিত্তিক কর্মসংস্থানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই প্রতিযোগিতা বজায় রাখা এবং কর্মসংস্থান রক্ষার জন্য সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

সরকারি উদ্যোগ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ইইউকে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব পাঠিয়েছে এবং এ বিষয়ে নীতিগত অবস্থান ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা শ্রম ও পরিবেশগত মান উন্নয়ন ও রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর আলাদা করে জোর দিয়েছেন, যাতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগী থাকতে পারে।