০৭:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ফসফরিক অ্যাসিড সংকটে ২০ দিন ধরে বন্ধ একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি সার কারখানা আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এলডিসি থেকে মসৃণ উত্তরণে ইইউ ও জি-৭৭ বাংলাদেশের পাশে লোভনীয় চাকরির টোপে কম্বোডিয়ায় বন্দি হচ্ছেন বাংলাদেশিরা এলডিসি উত্তরণে ইইউ ও জি-৭৭-এর সমর্থন নিশ্চিত লোভনীয় চাকরির ফাঁদ: কম্বোডিয়ার ‘সাইবার দাসত্বে’ বন্দি বাংলাদেশিরা এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ইইউ-র সঙ্গে এফটিএ না হলে পোশাক রপ্তানি ৪৪% পর্যন্ত কমতে পারে

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) না হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‌্যাপিড)।

র‌্যাপিডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলডিসি-উত্তর সময়ে বাংলাদেশ যদি এফটিএ না করে তবে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারায়, ফলে ভারত ও ভিয়েতনামসহ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো ইউরোপের বাজারে আরও সুবিধা নিয়ে প্রবেশ করবে। ভারতের এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে ইউরোপের চলমান চুক্তিগুলো কার্যকর হলে বাংলাদেশের উপর প্রতিযোগিতামূলক চাপ বেড়ে যাবে এবং দ্বৈতভাবে অগ্রাধিকার হারাবার ঝুঁকি তৈরি হবে।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, যদি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে ইউরোপীয় চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয় তাহলে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। তবে সময়মতো ও সক্ষমভাবে এফটিএ করা সম্ভব হলে মোট রপ্তানিতে সম্ভাব্য ক্ষতি ১৬ শতাংশ এবং তৈরি পোশাক ক্ষেত্রে তা ১৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা যেতে পারে। এithmetic-চিত্রটি ততই ভয়াবহ যখন বিবেচনায় রাখা হয় যে বর্তমানে ইউরোপে বাংলাদেশের রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই তৈরি পোশাক কেন্দ্রিক।

বিশেষ করে ভিয়েতনাম প্রাপ্ত সুবিধার ফলে ২০২৭ সালের মধ্যে ইইউ-এর শুল্কশূন্য সুযোগ পুরোপুরি কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে—এটি সরাসরি বাংলাদেশের পোশাক খাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি সমন্বিত সরবরাহ ব্যবস্থা, উৎপাদন ব্যয়ে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা ও পণ্যের বৈচিত্র্যের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা ভারত ও ভিয়েতনামের দিকে ঝুঁকছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ছিল ১৯.৪১ বিলিয়ন ইউরো।

ইইউ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের কাছে কিছু কাঠামোগত সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে এবং এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। এসব আলোচনায় অশুল্ক-সংক্রান্ত বাধা কমানো, ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়নকে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, দ্রুতকালে এফটিএ না হলে রপ্তানিতে সম্ভাব্য পতন কেবল আয়ের ক্ষতি করবে না—এটি দেশের রপ্তানি-ভিত্তিক কর্মসংস্থানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই প্রতিযোগিতা বজায় রাখা এবং কর্মসংস্থান রক্ষার জন্য সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

সরকারি উদ্যোগ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ইইউকে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব পাঠিয়েছে এবং এ বিষয়ে নীতিগত অবস্থান ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা শ্রম ও পরিবেশগত মান উন্নয়ন ও রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর আলাদা করে জোর দিয়েছেন, যাতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগী থাকতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

ইইউ-র সঙ্গে এফটিএ না হলে পোশাক রপ্তানি ৪৪% পর্যন্ত কমতে পারে

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) না হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‌্যাপিড)।

র‌্যাপিডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলডিসি-উত্তর সময়ে বাংলাদেশ যদি এফটিএ না করে তবে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারায়, ফলে ভারত ও ভিয়েতনামসহ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো ইউরোপের বাজারে আরও সুবিধা নিয়ে প্রবেশ করবে। ভারতের এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে ইউরোপের চলমান চুক্তিগুলো কার্যকর হলে বাংলাদেশের উপর প্রতিযোগিতামূলক চাপ বেড়ে যাবে এবং দ্বৈতভাবে অগ্রাধিকার হারাবার ঝুঁকি তৈরি হবে।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, যদি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে ইউরোপীয় চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয় তাহলে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। তবে সময়মতো ও সক্ষমভাবে এফটিএ করা সম্ভব হলে মোট রপ্তানিতে সম্ভাব্য ক্ষতি ১৬ শতাংশ এবং তৈরি পোশাক ক্ষেত্রে তা ১৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা যেতে পারে। এithmetic-চিত্রটি ততই ভয়াবহ যখন বিবেচনায় রাখা হয় যে বর্তমানে ইউরোপে বাংলাদেশের রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই তৈরি পোশাক কেন্দ্রিক।

বিশেষ করে ভিয়েতনাম প্রাপ্ত সুবিধার ফলে ২০২৭ সালের মধ্যে ইইউ-এর শুল্কশূন্য সুযোগ পুরোপুরি কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে—এটি সরাসরি বাংলাদেশের পোশাক খাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি সমন্বিত সরবরাহ ব্যবস্থা, উৎপাদন ব্যয়ে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা ও পণ্যের বৈচিত্র্যের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা ভারত ও ভিয়েতনামের দিকে ঝুঁকছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ছিল ১৯.৪১ বিলিয়ন ইউরো।

ইইউ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের কাছে কিছু কাঠামোগত সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে এবং এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। এসব আলোচনায় অশুল্ক-সংক্রান্ত বাধা কমানো, ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়নকে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, দ্রুতকালে এফটিএ না হলে রপ্তানিতে সম্ভাব্য পতন কেবল আয়ের ক্ষতি করবে না—এটি দেশের রপ্তানি-ভিত্তিক কর্মসংস্থানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই প্রতিযোগিতা বজায় রাখা এবং কর্মসংস্থান রক্ষার জন্য সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

সরকারি উদ্যোগ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ইইউকে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব পাঠিয়েছে এবং এ বিষয়ে নীতিগত অবস্থান ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা শ্রম ও পরিবেশগত মান উন্নয়ন ও রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর আলাদা করে জোর দিয়েছেন, যাতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগী থাকতে পারে।