০৮:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
নূরুল ইসলাম মনি ত্রয়োদশ সংসদের চীফ হুইপ নিযুক্ত ডুবোচর ও বর্জ্যে ইলিশহীন পায়রা, সংকটে ১৪,৬৮৯ জেলে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: এজাহারভুক্ত আরও এক আসামি গ্রেফতার মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে মানবিক ও দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ুন মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আটকে পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শেখ হাসিনা ও ৩২ জনের বিরুদ্ধে সুখরঞ্জন বিলির অভিযোগ দাখিল

এক যুগ আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ার সময় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সেই সুখরঞ্জন বালি বর্তমানে শেখ হাসিনাসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছেন। ২১ আগস্ট সকালে এই অভিযোগ তুলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। অভিযোগের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, সাবেক ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসिम, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন, পিরোজপুর-১ এর সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম আউয়াল, সাবেক প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী, রানা দাস গুপ্ত ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে।

সুখরঞ্জন বালি উল্লেখ করেন, তিনি ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ভবন থেকে নিখোঁজ হন। অভিযোগে বলা হয়, তার ভাই বিশালালীর হত্যাকাণ্ড ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনারা করে যায়। এর পরে ২০১০ সালে ট্রাইব্যুনালে তদন্তের সময় তাকে চাপ প্রয়োগ করে হত্যাকারীদের নাম প্রকাশ করতে বলানো হয়, যার মধ্যে সাঈদীর নামও ছিল। তিনি তার স্বেচ্ছায় বলতেন, সাঈদী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা তাকে শারীরিক নির্যাতন করে পাঠান চাপ প্রয়োগের জন্য।

অভিযোগে আরো বলা হয়, তৎকালীন রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় তাকে বিভিন্ন ঘটনায় ভীতি দেখানো হয়, মারধর ও নির্যাতন করা হয়। দীর্ঘ লুকানোর পর, তার সাথে যোগাযোগ করেন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী। তিনি তাকে ট্রাইব্যুনালে হত্যার প্রকৃত ঘটনা বলার জন্য আবেদন করেন। এতে রাজি হয়ে সুখরঞ্জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য প্রস্তুত হন। কিন্তু আদালত চত্বরের বাইরে পুলিশ ও সমর্থকদের হামলায় এবং তাকে ভয় দেখানোর জন্য নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের সম্মুখীন হন।

পরবর্তীতে তাকে ভারতের সীমান্তে এসে বিএসএফের হাতে তুলে দেয়া হয়। তিনি দীর্ঘ ৫ বছর ভারতের বিভিন্ন কারাগারে থাকেন। ফিরতে এসে, তার বিরুদ্ধে সাজানো মামলা, অপহরণ ও নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ পায়। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক মামলা ও ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আমাকে অপহরণ ও নির্যাতন করা হয়েছে। এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং মানবতা বিরোধী অপরাধ বলে দাবি করেন।

সুখরঞ্জন জানিয়ে যান, এই সমস্ত অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য তিনি ন্যায়বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তিনি এর বিরুদ্ধে সকল পরিকল্পিত অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের বিচার চেয়ে আছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

আমরা কখনও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিইনি, দেবো না: মির্জা ফখরুল

শেখ হাসিনা ও ৩২ জনের বিরুদ্ধে সুখরঞ্জন বিলির অভিযোগ দাখিল

প্রকাশিতঃ ১০:৪৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫

এক যুগ আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ার সময় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সেই সুখরঞ্জন বালি বর্তমানে শেখ হাসিনাসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছেন। ২১ আগস্ট সকালে এই অভিযোগ তুলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। অভিযোগের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, সাবেক ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসिम, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন, পিরোজপুর-১ এর সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম আউয়াল, সাবেক প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী, রানা দাস গুপ্ত ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে।

সুখরঞ্জন বালি উল্লেখ করেন, তিনি ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ভবন থেকে নিখোঁজ হন। অভিযোগে বলা হয়, তার ভাই বিশালালীর হত্যাকাণ্ড ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনারা করে যায়। এর পরে ২০১০ সালে ট্রাইব্যুনালে তদন্তের সময় তাকে চাপ প্রয়োগ করে হত্যাকারীদের নাম প্রকাশ করতে বলানো হয়, যার মধ্যে সাঈদীর নামও ছিল। তিনি তার স্বেচ্ছায় বলতেন, সাঈদী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা তাকে শারীরিক নির্যাতন করে পাঠান চাপ প্রয়োগের জন্য।

অভিযোগে আরো বলা হয়, তৎকালীন রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় তাকে বিভিন্ন ঘটনায় ভীতি দেখানো হয়, মারধর ও নির্যাতন করা হয়। দীর্ঘ লুকানোর পর, তার সাথে যোগাযোগ করেন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী। তিনি তাকে ট্রাইব্যুনালে হত্যার প্রকৃত ঘটনা বলার জন্য আবেদন করেন। এতে রাজি হয়ে সুখরঞ্জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য প্রস্তুত হন। কিন্তু আদালত চত্বরের বাইরে পুলিশ ও সমর্থকদের হামলায় এবং তাকে ভয় দেখানোর জন্য নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের সম্মুখীন হন।

পরবর্তীতে তাকে ভারতের সীমান্তে এসে বিএসএফের হাতে তুলে দেয়া হয়। তিনি দীর্ঘ ৫ বছর ভারতের বিভিন্ন কারাগারে থাকেন। ফিরতে এসে, তার বিরুদ্ধে সাজানো মামলা, অপহরণ ও নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ পায়। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক মামলা ও ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আমাকে অপহরণ ও নির্যাতন করা হয়েছে। এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং মানবতা বিরোধী অপরাধ বলে দাবি করেন।

সুখরঞ্জন জানিয়ে যান, এই সমস্ত অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য তিনি ন্যায়বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তিনি এর বিরুদ্ধে সকল পরিকল্পিত অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের বিচার চেয়ে আছেন।