১১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

শেখ হাসিনা ও ৩২ জনের বিরুদ্ধে সুখরঞ্জন বিলির অভিযোগ দাখিল

এক যুগ আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ার সময় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সেই সুখরঞ্জন বালি বর্তমানে শেখ হাসিনাসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছেন। ২১ আগস্ট সকালে এই অভিযোগ তুলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। অভিযোগের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, সাবেক ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসिम, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন, পিরোজপুর-১ এর সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম আউয়াল, সাবেক প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী, রানা দাস গুপ্ত ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে।

সুখরঞ্জন বালি উল্লেখ করেন, তিনি ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ভবন থেকে নিখোঁজ হন। অভিযোগে বলা হয়, তার ভাই বিশালালীর হত্যাকাণ্ড ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনারা করে যায়। এর পরে ২০১০ সালে ট্রাইব্যুনালে তদন্তের সময় তাকে চাপ প্রয়োগ করে হত্যাকারীদের নাম প্রকাশ করতে বলানো হয়, যার মধ্যে সাঈদীর নামও ছিল। তিনি তার স্বেচ্ছায় বলতেন, সাঈদী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা তাকে শারীরিক নির্যাতন করে পাঠান চাপ প্রয়োগের জন্য।

অভিযোগে আরো বলা হয়, তৎকালীন রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় তাকে বিভিন্ন ঘটনায় ভীতি দেখানো হয়, মারধর ও নির্যাতন করা হয়। দীর্ঘ লুকানোর পর, তার সাথে যোগাযোগ করেন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী। তিনি তাকে ট্রাইব্যুনালে হত্যার প্রকৃত ঘটনা বলার জন্য আবেদন করেন। এতে রাজি হয়ে সুখরঞ্জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য প্রস্তুত হন। কিন্তু আদালত চত্বরের বাইরে পুলিশ ও সমর্থকদের হামলায় এবং তাকে ভয় দেখানোর জন্য নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের সম্মুখীন হন।

পরবর্তীতে তাকে ভারতের সীমান্তে এসে বিএসএফের হাতে তুলে দেয়া হয়। তিনি দীর্ঘ ৫ বছর ভারতের বিভিন্ন কারাগারে থাকেন। ফিরতে এসে, তার বিরুদ্ধে সাজানো মামলা, অপহরণ ও নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ পায়। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক মামলা ও ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আমাকে অপহরণ ও নির্যাতন করা হয়েছে। এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং মানবতা বিরোধী অপরাধ বলে দাবি করেন।

সুখরঞ্জন জানিয়ে যান, এই সমস্ত অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য তিনি ন্যায়বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তিনি এর বিরুদ্ধে সকল পরিকল্পিত অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের বিচার চেয়ে আছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

শেখ হাসিনা ও ৩২ জনের বিরুদ্ধে সুখরঞ্জন বিলির অভিযোগ দাখিল

প্রকাশিতঃ ১০:৪৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫

এক যুগ আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ার সময় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সেই সুখরঞ্জন বালি বর্তমানে শেখ হাসিনাসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছেন। ২১ আগস্ট সকালে এই অভিযোগ তুলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। অভিযোগের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, সাবেক ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসिम, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন, পিরোজপুর-১ এর সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম আউয়াল, সাবেক প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী, রানা দাস গুপ্ত ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে।

সুখরঞ্জন বালি উল্লেখ করেন, তিনি ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ভবন থেকে নিখোঁজ হন। অভিযোগে বলা হয়, তার ভাই বিশালালীর হত্যাকাণ্ড ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনারা করে যায়। এর পরে ২০১০ সালে ট্রাইব্যুনালে তদন্তের সময় তাকে চাপ প্রয়োগ করে হত্যাকারীদের নাম প্রকাশ করতে বলানো হয়, যার মধ্যে সাঈদীর নামও ছিল। তিনি তার স্বেচ্ছায় বলতেন, সাঈদী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা তাকে শারীরিক নির্যাতন করে পাঠান চাপ প্রয়োগের জন্য।

অভিযোগে আরো বলা হয়, তৎকালীন রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় তাকে বিভিন্ন ঘটনায় ভীতি দেখানো হয়, মারধর ও নির্যাতন করা হয়। দীর্ঘ লুকানোর পর, তার সাথে যোগাযোগ করেন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী। তিনি তাকে ট্রাইব্যুনালে হত্যার প্রকৃত ঘটনা বলার জন্য আবেদন করেন। এতে রাজি হয়ে সুখরঞ্জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য প্রস্তুত হন। কিন্তু আদালত চত্বরের বাইরে পুলিশ ও সমর্থকদের হামলায় এবং তাকে ভয় দেখানোর জন্য নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের সম্মুখীন হন।

পরবর্তীতে তাকে ভারতের সীমান্তে এসে বিএসএফের হাতে তুলে দেয়া হয়। তিনি দীর্ঘ ৫ বছর ভারতের বিভিন্ন কারাগারে থাকেন। ফিরতে এসে, তার বিরুদ্ধে সাজানো মামলা, অপহরণ ও নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ পায়। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক মামলা ও ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আমাকে অপহরণ ও নির্যাতন করা হয়েছে। এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং মানবতা বিরোধী অপরাধ বলে দাবি করেন।

সুখরঞ্জন জানিয়ে যান, এই সমস্ত অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য তিনি ন্যায়বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তিনি এর বিরুদ্ধে সকল পরিকল্পিত অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের বিচার চেয়ে আছেন।