০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

নরসিংদীতে ঐতিহ্যবাহী তাঁতের শিল্প ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হচ্ছে

একসময় নরসিংদী জেলায় পাড়াগাঁও এলাকাগুলোতে সরব ছিল তাঁতশিল্পের চর্চা। সেখানে ছিল বরং এক ধরনের গর্বের বিষয়, হাতের টানা তাঁত থেকে তৈরি শাড়ি, লুঙ্গী, বিছানার চাদর, দরজার পর্দা ও গামছা। এসব কাপড় তৈরিতে ব্যবহার হত বাংলার বিখ্যাত সূতি কাপড়, যা পরে ছিল দেশের বিভিন্ন অংশে জনপ্রিয়। কিন্তু আধুনিকতার ছোয়া এসে এখন সেই ঐতিহ্যবাহী শিল্প ধীরে ধীরে ক্ষীয়মাণ হয়ে পড়েছে। এখন আর সেই ঠকঠক শব্দ আর ভাঙা গুঁড়ি গুঁড়ি কাজের আওয়াজ শোনা যায় না। পেছন ফিরে দেখা যায়, যেখানে হাতের তাঁতের জায়গা দখলে রেখেছিল পাওয়ার লুমগুলো। বিদ্যুৎ-চালিত তাঁত ও পাওয়ারলুমের প্রতিযোগিতায় হার মানতে মানতে গড়ে উঠেছে আধুনিক ইন্ডাস্ট্রি। ফলে, গ্রামীণ জনপদে এখন বুননের সেই সহজ সরলতা এবং ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে।এখন গ্রামাঞ্চলের তাঁতগুলো প্রায় একেবারেই বন্ধ। মাকুরের আওয়াজ আর আর দেখা যায় না। তাঁত শ্রমিকরা অনেকেই এখন শুধু গামছা তৈরি করে প্রতিবেশীদের জন্য বা অবসরের সময়ে। অনেকেরই তীব্র প্রতিযোগিতা আর অর্থের অভাবে নতুন সূতা পেতে কষ্ট হয়। এ গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, এক সময় তাঁদের ঘরে ঘরে তাঁত ছিল, আর তাঁতের কাপড়ের চাহিদা ছিল আকাশUAGE। তবে এখন এই শিল্পের অবস্থা খুবই উদ্বেগজনক। ইউরোপ আমেরিকা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুরনো তাঁত শিল্পের সূতী কাপড়ের ঐতিহ্য এখনও কিছুটা জীবিত থাকলেও, নরসিংদীতে তা ধীরে ধীরে অস্তিত্ব হারাচ্ছে। নানা সমস্যার জন্য বিকাশ অব্যাহত রাখতে পারছে না এই শিল্প, যেমন প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাব, সরকারি ঋণ দুর্বলতা, রং-সুতা, উপকরণের দাম ও বাজারজাতকরণে অপ্রতুলতা। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারার কারণে, দেশের অধিকাংশ তাঁতশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে।প্রাচীন সময়ে এই তাঁতশিল্পের মাধ্যমে বাংলার ঐতিহ্যবাহী কাপড় মসলিন তৈরি হত। পরে ধীরে ধীরে মোটা শাড়ী, লুঙ্গী, বিছানার চাদর ও সূতী কাপড় তৈরিতে এই কারিগররা মনোযোগী হন। এই শিল্পের গৌরবময় ইতিহাসের অন্যতম কেন্দ্র ছিল শেখেরচর বাবুরহাট, যেখানে হাজার হাজার তাঁতী তাদের তৈরী সূতী কাপড় বিক্রি করতেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকারী ক্রেতারা এখানে এসে নরসিংদীর সূতী তাঁত কাপড় কিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করতেন। তবে এখন বৈচিত্র্য ও চাহিদার অভাবে এই রেওয়াজ নেই। একসময়, মেয়েদের বিয়ের জন্য তাঁত কাপড়ের গুরুত্ব ছিল অকল্পনীয়। কিন্তু বর্তমানে সেই ধারা বলয়ে পড়েছে। নব্বইয়ের দশকে লক্ষাধিক তাঁত শ্রমিক থাকলেও, আজ হিসেব মতে শতাধিকেরও কম হস্তচালিত তাঁতশিল্প টিকে আছে। করিমপুরের রূপ মিয়া জানিয়েছেন, এক সময় তাঁদের গ্রামে প্রতিটি পরিবারে তাঁত ছিল। এখন শুধু কিছু পরিবারের মধ্যে গামছা তৈরির কাজ চালানো হয়। এই ব্যবসাও ঝুঁকির মধ্যে চলে এসেছে। তিনি বলছেন, এখনকার বাজারে এই গামছার চাহিদা কম। অপ্রচলিত হয়ে পড়েছে। এখন এই শিল্প ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে।বিসিকের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, তাঁতশিল্পের সেই প্রাচীন ধারা আধুনিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে পারলে এর পুনরুদ্ধার সম্ভব। তাঁতীদের জন্য তারা বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে এবং শেহেরচর বাবুরহাটের মতো বাজারে তাদের পণ্য প্রচারের পরিকল্পনা নিয়েছেন। স্বল্প সুদে ঋণের সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাঁত শিল্প আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে। তবে, বেশিরভাগ উদ্যোক্তা ও কারিগর এখনই এই শিল্পের ভবিষ্যত নিয়ে আশাবাদী নয়। পুরো জেলাতে এখন এই ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প সংকটে পড়ে গেছে, আর এর রক্ষাকবচ হিসেবে এখনো কেউ এগিয়ে আসেনি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

নরসিংদীতে ঐতিহ্যবাহী তাঁতের শিল্প ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হচ্ছে

প্রকাশিতঃ ১০:৫০:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

একসময় নরসিংদী জেলায় পাড়াগাঁও এলাকাগুলোতে সরব ছিল তাঁতশিল্পের চর্চা। সেখানে ছিল বরং এক ধরনের গর্বের বিষয়, হাতের টানা তাঁত থেকে তৈরি শাড়ি, লুঙ্গী, বিছানার চাদর, দরজার পর্দা ও গামছা। এসব কাপড় তৈরিতে ব্যবহার হত বাংলার বিখ্যাত সূতি কাপড়, যা পরে ছিল দেশের বিভিন্ন অংশে জনপ্রিয়। কিন্তু আধুনিকতার ছোয়া এসে এখন সেই ঐতিহ্যবাহী শিল্প ধীরে ধীরে ক্ষীয়মাণ হয়ে পড়েছে। এখন আর সেই ঠকঠক শব্দ আর ভাঙা গুঁড়ি গুঁড়ি কাজের আওয়াজ শোনা যায় না। পেছন ফিরে দেখা যায়, যেখানে হাতের তাঁতের জায়গা দখলে রেখেছিল পাওয়ার লুমগুলো। বিদ্যুৎ-চালিত তাঁত ও পাওয়ারলুমের প্রতিযোগিতায় হার মানতে মানতে গড়ে উঠেছে আধুনিক ইন্ডাস্ট্রি। ফলে, গ্রামীণ জনপদে এখন বুননের সেই সহজ সরলতা এবং ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে।এখন গ্রামাঞ্চলের তাঁতগুলো প্রায় একেবারেই বন্ধ। মাকুরের আওয়াজ আর আর দেখা যায় না। তাঁত শ্রমিকরা অনেকেই এখন শুধু গামছা তৈরি করে প্রতিবেশীদের জন্য বা অবসরের সময়ে। অনেকেরই তীব্র প্রতিযোগিতা আর অর্থের অভাবে নতুন সূতা পেতে কষ্ট হয়। এ গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, এক সময় তাঁদের ঘরে ঘরে তাঁত ছিল, আর তাঁতের কাপড়ের চাহিদা ছিল আকাশUAGE। তবে এখন এই শিল্পের অবস্থা খুবই উদ্বেগজনক। ইউরোপ আমেরিকা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুরনো তাঁত শিল্পের সূতী কাপড়ের ঐতিহ্য এখনও কিছুটা জীবিত থাকলেও, নরসিংদীতে তা ধীরে ধীরে অস্তিত্ব হারাচ্ছে। নানা সমস্যার জন্য বিকাশ অব্যাহত রাখতে পারছে না এই শিল্প, যেমন প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাব, সরকারি ঋণ দুর্বলতা, রং-সুতা, উপকরণের দাম ও বাজারজাতকরণে অপ্রতুলতা। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারার কারণে, দেশের অধিকাংশ তাঁতশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে।প্রাচীন সময়ে এই তাঁতশিল্পের মাধ্যমে বাংলার ঐতিহ্যবাহী কাপড় মসলিন তৈরি হত। পরে ধীরে ধীরে মোটা শাড়ী, লুঙ্গী, বিছানার চাদর ও সূতী কাপড় তৈরিতে এই কারিগররা মনোযোগী হন। এই শিল্পের গৌরবময় ইতিহাসের অন্যতম কেন্দ্র ছিল শেখেরচর বাবুরহাট, যেখানে হাজার হাজার তাঁতী তাদের তৈরী সূতী কাপড় বিক্রি করতেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকারী ক্রেতারা এখানে এসে নরসিংদীর সূতী তাঁত কাপড় কিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করতেন। তবে এখন বৈচিত্র্য ও চাহিদার অভাবে এই রেওয়াজ নেই। একসময়, মেয়েদের বিয়ের জন্য তাঁত কাপড়ের গুরুত্ব ছিল অকল্পনীয়। কিন্তু বর্তমানে সেই ধারা বলয়ে পড়েছে। নব্বইয়ের দশকে লক্ষাধিক তাঁত শ্রমিক থাকলেও, আজ হিসেব মতে শতাধিকেরও কম হস্তচালিত তাঁতশিল্প টিকে আছে। করিমপুরের রূপ মিয়া জানিয়েছেন, এক সময় তাঁদের গ্রামে প্রতিটি পরিবারে তাঁত ছিল। এখন শুধু কিছু পরিবারের মধ্যে গামছা তৈরির কাজ চালানো হয়। এই ব্যবসাও ঝুঁকির মধ্যে চলে এসেছে। তিনি বলছেন, এখনকার বাজারে এই গামছার চাহিদা কম। অপ্রচলিত হয়ে পড়েছে। এখন এই শিল্প ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে।বিসিকের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, তাঁতশিল্পের সেই প্রাচীন ধারা আধুনিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে পারলে এর পুনরুদ্ধার সম্ভব। তাঁতীদের জন্য তারা বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে এবং শেহেরচর বাবুরহাটের মতো বাজারে তাদের পণ্য প্রচারের পরিকল্পনা নিয়েছেন। স্বল্প সুদে ঋণের সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাঁত শিল্প আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে। তবে, বেশিরভাগ উদ্যোক্তা ও কারিগর এখনই এই শিল্পের ভবিষ্যত নিয়ে আশাবাদী নয়। পুরো জেলাতে এখন এই ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প সংকটে পড়ে গেছে, আর এর রক্ষাকবচ হিসেবে এখনো কেউ এগিয়ে আসেনি।