০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

অগাস্টে ৪৫১ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪২৮ জন

গত মাস আগস্টে সারাদেশজুড়ে মোট ৪৫১টি সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের খবর জানিয়েছেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন। এসব দুর্ঘটনায় মোট ৪২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৭৯১ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেল চালকদের ওপর।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৬৮ জন নারী ও শিশু ৩৪ জন। আগস্ট মাসে মোট ১৪৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩২ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩১.৯২% এবং মোট হতাহতের ৩০.৮৪%। এর মধ্যে পথচারী হিসেবে নিহত হয়েছেন ৮৩ জন (প্রায় ১৯.৩৯%) এবং যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫২ জন (প্রায় ১২.১৪%)।

এছাড়াও, নৌ দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ১৭ জন আহত হন; ৩৭টি রেল দুর্ঘটনায় ৩১ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের দুর্ঘটনা হয়েছে, যেখানে বাস দুর্ঘটনায় ৩০ জন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি দুর্ঘটনায় ২৭ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে ২১ জন, তৃতীয়চাকার যানবাহনে ৯৭ জন, নসিমন, ভটভটি, টমটম ও মাহিন্দ্রা চালিত যানবাহনে ৩৩ জন এবং বাইসাইকেলে ৫ জন নিহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটেছে মহাসড়কগুলোতে, যেখানে ২১৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর পরে আসে আঞ্চলিক সড়ক (১৩৫টি), গ্রামীণ সড়ক (৪২টি) এবং শহরের সড়ক (৬০টি)। দুর্ঘটনার ধরণ অনুযায়ী দেখা যায়, মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে ৯০টি, নিয়ন্ত্রণ হারানো দুর্ঘটনা হয়েছে ২০৭টি, পথচারীদের চাপা বা ধাক্কা দেওয়া হয়েছে ৮৫টি, পেছন থেকে আঘাত হয়েছে ৬২টি এবং অন্য ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে সাতটি।

ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১১৯টি দুর্ঘটনায় ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, বরিশাল বিভাগে সর্বনিম্ন ১৮টি দুর্ঘটনায় ১৬ জনের প্রাণ গেছে। ঢাকায় ৩৬টি দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত হন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছয়টি দুর্ঘটনায় একজন নিহত। রাজধানী ঢাকায় এই মাসে ৩৭টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন ও আহত ৪৬ জন।

মূল কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও রাস্তাঘাট, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, শারীরিক ও মানসিক অস্বস্থতা, দীর্ঘ বেতন ও কর্মঘণ্টা, স্বল্পগতির যানবাহনের চলাচল ও তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি, এবং গণপরিবহনে চাঁদাবাজি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

ফাউন্ডেশনটি বেশ কিছু সুপারিশ করেছে, যেমন- দক্ষ চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা জোরদার করা, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা, মহাসড়কগুলোতে স্বল্পগতির যানবাহন বন্ধ রাখা এবং সার্ভিস রোড তৈরির প্রস্তাব। এছাড়া, সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ, চাঁদাবাজি বন্ধ করে গণপরিবহনের মানোন্নয়ন, রেল ও নৌপথ সংস্কার, টেকসই পরিবহন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট আইনগুলো কঠোরভাবে পালন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

অগাস্টে ৪৫১ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪২৮ জন

প্রকাশিতঃ ১০:৪৭:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গত মাস আগস্টে সারাদেশজুড়ে মোট ৪৫১টি সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের খবর জানিয়েছেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন। এসব দুর্ঘটনায় মোট ৪২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৭৯১ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেল চালকদের ওপর।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৬৮ জন নারী ও শিশু ৩৪ জন। আগস্ট মাসে মোট ১৪৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩২ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩১.৯২% এবং মোট হতাহতের ৩০.৮৪%। এর মধ্যে পথচারী হিসেবে নিহত হয়েছেন ৮৩ জন (প্রায় ১৯.৩৯%) এবং যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫২ জন (প্রায় ১২.১৪%)।

এছাড়াও, নৌ দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ১৭ জন আহত হন; ৩৭টি রেল দুর্ঘটনায় ৩১ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের দুর্ঘটনা হয়েছে, যেখানে বাস দুর্ঘটনায় ৩০ জন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি দুর্ঘটনায় ২৭ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে ২১ জন, তৃতীয়চাকার যানবাহনে ৯৭ জন, নসিমন, ভটভটি, টমটম ও মাহিন্দ্রা চালিত যানবাহনে ৩৩ জন এবং বাইসাইকেলে ৫ জন নিহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটেছে মহাসড়কগুলোতে, যেখানে ২১৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর পরে আসে আঞ্চলিক সড়ক (১৩৫টি), গ্রামীণ সড়ক (৪২টি) এবং শহরের সড়ক (৬০টি)। দুর্ঘটনার ধরণ অনুযায়ী দেখা যায়, মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে ৯০টি, নিয়ন্ত্রণ হারানো দুর্ঘটনা হয়েছে ২০৭টি, পথচারীদের চাপা বা ধাক্কা দেওয়া হয়েছে ৮৫টি, পেছন থেকে আঘাত হয়েছে ৬২টি এবং অন্য ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে সাতটি।

ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১১৯টি দুর্ঘটনায় ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, বরিশাল বিভাগে সর্বনিম্ন ১৮টি দুর্ঘটনায় ১৬ জনের প্রাণ গেছে। ঢাকায় ৩৬টি দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত হন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছয়টি দুর্ঘটনায় একজন নিহত। রাজধানী ঢাকায় এই মাসে ৩৭টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন ও আহত ৪৬ জন।

মূল কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও রাস্তাঘাট, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, শারীরিক ও মানসিক অস্বস্থতা, দীর্ঘ বেতন ও কর্মঘণ্টা, স্বল্পগতির যানবাহনের চলাচল ও তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি, এবং গণপরিবহনে চাঁদাবাজি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

ফাউন্ডেশনটি বেশ কিছু সুপারিশ করেছে, যেমন- দক্ষ চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা জোরদার করা, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা, মহাসড়কগুলোতে স্বল্পগতির যানবাহন বন্ধ রাখা এবং সার্ভিস রোড তৈরির প্রস্তাব। এছাড়া, সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ, চাঁদাবাজি বন্ধ করে গণপরিবহনের মানোন্নয়ন, রেল ও নৌপথ সংস্কার, টেকসই পরিবহন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট আইনগুলো কঠোরভাবে পালন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।