০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

দিল্লির বায়ুদূষণ: ঐতিহাসিক লালকেল্লা কালো হয়ে যাচ্ছে

নয়াদিল্লির তীব্র বায়ুদূষণের কারণে শহরের অন্যতম ঐতিহাসিক মোগল স্থাপনা, লালকেল্লার দেওয়ালে ‘কালো আবরণ’ তৈরি হয়েছে বলে একটি গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই প্রাচীন স্থাপনার দেওয়ালে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলস্বরূপ জমে থাকা ধূলিকণার স্তর বর্তমানে প্রায় ০.০৫ মিলিমিটার থেকে ০.৫ মিলিমিটার পর্যন্ত গভীরতা অর্জন করেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই কালো আবরণ লালকেল্লার সূক্ষ্ম নকশা, খোদাই এবং স্থাপত্যের অনেক অংশই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এটি এই ঐতিহাসিক স্থাপনার উপর বায়ু দূষণের প্রভাব নিয়ে করা প্রথম সম্পূর্ণ গবেষণা।

বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম দিল্লির বায়ু মানের অবনতি নিয়মিত খবরের শিরোনাম হয়, বিশেষ করে শীতকালে। সংরক্ষণবিদরা আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, দীর্ঘস্থায়ী দূষণ রাজধানীসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার ক্ষতি করছে। ২০১৮ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছিলেন, সাদা মার্বেল পাথর দিয়ে নির্মিত ১৭০০ শতকের তাজমহল বায়ু ও পানিসংক্রান্ত দূষণের কারণে হলদে এবং বাদামি রঙের হয়ে যাচ্ছে, এবং উত্তর প্রদেশ সরকারের জন্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

গবেষণাটি পিয়ার-রিভিউ করা ওপেন অ্যাক্সেস বৈজ্ঞানিক জার্নাল হেরিটেজে ২০২৪ সালের জুনে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ভারতের ও ইতালির গবেষকরা ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দিল্লির বায়ুমানের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন। তারা কেল্লার বিভিন্ন দেওয়াল থেকে কালো আবরণ সরালে রাসায়নিক গঠন পরীক্ষা করেন এবং দেখতে পান, বাতাসে থাকা ধুলিকণা ও দূষকের কারণে এই কালো স্তর গঠিত হয়েছে। এই স্তর গম্বুজ, খিলান ও সূক্ষ্ম পাথরের খোদাইসহ বিভিন্ন স্থাপত্যের অংশে ক্ষতি করছে, এমনকি দেওয়ালে ফোস্কা ও খোসা ওঠার প্রমাণও পাওয়া গেছে।

গবেষণার মতে, পিএম ২.৫ ও পিএম ১০ ধুলিকণার প্রকার সাধারণত পাথরের পৃষ্ঠে ধুলিকণার জমার প্রধান কারণ। ধীরে ধীরে এই ধুলি স্তর জমে কালো রঙ ধারণ করে, যা সঠিক সময়ে রোধ করা সম্ভব। গবেষকরা পাথরের রক্ষণাবেক্ষণে সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, কালো আবরণের সৃষ্টি মূলত একটি অপ্রতিরোধ্য প্রক্রিয়া নয়; প্রথমে এটি পাতলা স্তর হিসেবে গঠিত হয় এবং উপযুক্ত সংরক্ষণ পদ্ধতি অবলম্বন করলে এটিকে সহজেই সরানো বা কমানো সম্ভব। তারা সুপারিশ করেছেন, পাথরকে সুরক্ষিত রাখতে বিশেষ ধরনের সিল্যান্ট বা আবরণ প্রয়োগ করলে এই ধূসর প্রক্রিয়ার গতি রোধ বা কমানো যেতে পারে।

এই গবেষণাপত্র আমাদের সতর্ক করে বলছে, সময়মতো সংরক্ষণ ব্যবস্থা না নিলে আমাদের এই ঐতিহাসিক ধন-সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

দিল্লির বায়ুদূষণ: ঐতিহাসিক লালকেল্লা কালো হয়ে যাচ্ছে

প্রকাশিতঃ ১০:৪৭:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নয়াদিল্লির তীব্র বায়ুদূষণের কারণে শহরের অন্যতম ঐতিহাসিক মোগল স্থাপনা, লালকেল্লার দেওয়ালে ‘কালো আবরণ’ তৈরি হয়েছে বলে একটি গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই প্রাচীন স্থাপনার দেওয়ালে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলস্বরূপ জমে থাকা ধূলিকণার স্তর বর্তমানে প্রায় ০.০৫ মিলিমিটার থেকে ০.৫ মিলিমিটার পর্যন্ত গভীরতা অর্জন করেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই কালো আবরণ লালকেল্লার সূক্ষ্ম নকশা, খোদাই এবং স্থাপত্যের অনেক অংশই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এটি এই ঐতিহাসিক স্থাপনার উপর বায়ু দূষণের প্রভাব নিয়ে করা প্রথম সম্পূর্ণ গবেষণা।

বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম দিল্লির বায়ু মানের অবনতি নিয়মিত খবরের শিরোনাম হয়, বিশেষ করে শীতকালে। সংরক্ষণবিদরা আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, দীর্ঘস্থায়ী দূষণ রাজধানীসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার ক্ষতি করছে। ২০১৮ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছিলেন, সাদা মার্বেল পাথর দিয়ে নির্মিত ১৭০০ শতকের তাজমহল বায়ু ও পানিসংক্রান্ত দূষণের কারণে হলদে এবং বাদামি রঙের হয়ে যাচ্ছে, এবং উত্তর প্রদেশ সরকারের জন্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

গবেষণাটি পিয়ার-রিভিউ করা ওপেন অ্যাক্সেস বৈজ্ঞানিক জার্নাল হেরিটেজে ২০২৪ সালের জুনে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ভারতের ও ইতালির গবেষকরা ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দিল্লির বায়ুমানের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন। তারা কেল্লার বিভিন্ন দেওয়াল থেকে কালো আবরণ সরালে রাসায়নিক গঠন পরীক্ষা করেন এবং দেখতে পান, বাতাসে থাকা ধুলিকণা ও দূষকের কারণে এই কালো স্তর গঠিত হয়েছে। এই স্তর গম্বুজ, খিলান ও সূক্ষ্ম পাথরের খোদাইসহ বিভিন্ন স্থাপত্যের অংশে ক্ষতি করছে, এমনকি দেওয়ালে ফোস্কা ও খোসা ওঠার প্রমাণও পাওয়া গেছে।

গবেষণার মতে, পিএম ২.৫ ও পিএম ১০ ধুলিকণার প্রকার সাধারণত পাথরের পৃষ্ঠে ধুলিকণার জমার প্রধান কারণ। ধীরে ধীরে এই ধুলি স্তর জমে কালো রঙ ধারণ করে, যা সঠিক সময়ে রোধ করা সম্ভব। গবেষকরা পাথরের রক্ষণাবেক্ষণে সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, কালো আবরণের সৃষ্টি মূলত একটি অপ্রতিরোধ্য প্রক্রিয়া নয়; প্রথমে এটি পাতলা স্তর হিসেবে গঠিত হয় এবং উপযুক্ত সংরক্ষণ পদ্ধতি অবলম্বন করলে এটিকে সহজেই সরানো বা কমানো সম্ভব। তারা সুপারিশ করেছেন, পাথরকে সুরক্ষিত রাখতে বিশেষ ধরনের সিল্যান্ট বা আবরণ প্রয়োগ করলে এই ধূসর প্রক্রিয়ার গতি রোধ বা কমানো যেতে পারে।

এই গবেষণাপত্র আমাদের সতর্ক করে বলছে, সময়মতো সংরক্ষণ ব্যবস্থা না নিলে আমাদের এই ঐতিহাসিক ধন-সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।