০২:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনার দাবি নাহিদ ইসলামের

নির্বাচিত নাগরিক ও জুলাই আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলাম স্পষ্টভাবে বলেছেন, আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে দ্রুত সময়ে বিচারসূত্রে আনা দরকার। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সরকারের উচ্চপদস্থ তিনজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য ও জেরার পর এই পর্যবেক্ষণে এসেছেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচার করার এখতিয়ার শুধু ট্রাইব্যুনালের কাছেই আছে, আমরা একা নই, আমরা তাদের কাছে আবেদন জানাবো। বর্তমানে সরকারের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। শেখ হাসিনা, দলীয় প্রধান হিসেবে রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখতে জনগণের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িয়েছিলেন। জনগণ তাদের প্রতিরোধ করে ক্ষমতার অপসারণ ঘটিয়েছে। ফলে, এই অপরাধটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং দল হিসেবে দ্রুত বিচারের অবকাশ রয়েছে।’

আজ (রোববার) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর ৪৭তম সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপন শেষে তার জেরা সম্পন্ন হয়। এই ট্রাইব্যুনাল তিন সদস্যের প্রধান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বে পরিচালিত হন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এইচ. তামিম শুনানি পরিচালনা করেন। অন্যান্য প্রসিকিউটররাও এই সময় উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, পলাতক থাকাকালীন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমির হোসেন। অন্যদিকে, গ্রেফতার হয়ে সরকারী সাক্ষী হিসেবে অংশ নেওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে জামিনে ছিলেন আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ।

গুরুত্বপূর্ণভাবে, মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। এরই অংশ হিসেবে, মামলার তদন্তে স্বীকার করে নেওয়ার জন্য সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুনের আবেদনে অনুমোদন দেন আদালত। এরপর, মামলার ৩৬তম সাক্ষী হিসেবে পুলিশ কর্মকর্তা চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়।

অপরাধের এই মামলার বাইরেও, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আর দুটি মামলা চলমান রয়েছে যেখানে গুম-খুনের মামলা ও শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে।

জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনকালে আওয়ামী লীগ, এর ক্যাডার ও সরকারের অনুসারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিল বলে একের পর এক অভিযোগ উঠেছে। এসব অপরাধের বিচারের জন্য দুটি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে প্রক্রিয়া চলছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনার দাবি নাহিদ ইসলামের

প্রকাশিতঃ ১০:৪৭:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নির্বাচিত নাগরিক ও জুলাই আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলাম স্পষ্টভাবে বলেছেন, আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে দ্রুত সময়ে বিচারসূত্রে আনা দরকার। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সরকারের উচ্চপদস্থ তিনজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য ও জেরার পর এই পর্যবেক্ষণে এসেছেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচার করার এখতিয়ার শুধু ট্রাইব্যুনালের কাছেই আছে, আমরা একা নই, আমরা তাদের কাছে আবেদন জানাবো। বর্তমানে সরকারের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। শেখ হাসিনা, দলীয় প্রধান হিসেবে রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখতে জনগণের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িয়েছিলেন। জনগণ তাদের প্রতিরোধ করে ক্ষমতার অপসারণ ঘটিয়েছে। ফলে, এই অপরাধটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং দল হিসেবে দ্রুত বিচারের অবকাশ রয়েছে।’

আজ (রোববার) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর ৪৭তম সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপন শেষে তার জেরা সম্পন্ন হয়। এই ট্রাইব্যুনাল তিন সদস্যের প্রধান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বে পরিচালিত হন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এইচ. তামিম শুনানি পরিচালনা করেন। অন্যান্য প্রসিকিউটররাও এই সময় উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, পলাতক থাকাকালীন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমির হোসেন। অন্যদিকে, গ্রেফতার হয়ে সরকারী সাক্ষী হিসেবে অংশ নেওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে জামিনে ছিলেন আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ।

গুরুত্বপূর্ণভাবে, মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। এরই অংশ হিসেবে, মামলার তদন্তে স্বীকার করে নেওয়ার জন্য সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুনের আবেদনে অনুমোদন দেন আদালত। এরপর, মামলার ৩৬তম সাক্ষী হিসেবে পুলিশ কর্মকর্তা চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়।

অপরাধের এই মামলার বাইরেও, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আর দুটি মামলা চলমান রয়েছে যেখানে গুম-খুনের মামলা ও শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে।

জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনকালে আওয়ামী লীগ, এর ক্যাডার ও সরকারের অনুসারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিল বলে একের পর এক অভিযোগ উঠেছে। এসব অপরাধের বিচারের জন্য দুটি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে প্রক্রিয়া চলছে।