০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

তারেক রহমানের মতে, এক-এগারোর সরকার ছিল অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক confidently বলেছেন, এক-এগারো সরকার ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি জানিয়েছেন, সে সময়কার সরকার সবকিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছিল এবং বিরাজনীতিকরণে বিশ্বাসী ছিল। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় ও শেষ পর্বে তিনি এই মন্তব্য করেন। তারেক রহমানের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এক-এগারো সময়ের রাজনীতি বা সেনাসমর্থিত সরকারের ইতিহাসের মূল্যায়ন কী? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এক-এগারোর সরকার ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি সরকার।” তিনি বলেন, ওই সময় দেশ বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এগোচ্ছিল, গণতান্ত্রিক ভিত্তি ধীরে ধীরে গড়ে উঠছিল। কিন্তু তারা (এক-এগারো সরকার) সবকিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল, দেশকে অন্ধকার পথে নেওয়ার জন্য। পরে দেখা যায়, তাদেরই অন্য রূপ—‘ইন দ্য নেম অব ডেমোক্র্যাসি’ নামে এক ধরনের নতুন চেহারা।
তরেক রহমান আরও জানান, বিএনপি দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে চায় এবং ভবিষ্যতে দেশের জন্য কাজ করতে আগ্রহী। বাংলাদেশ এখন দশকের পর দশক ধরে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তার মধ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য এগিয়ে আসার প্রয়োজন রয়েছে।
অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেছেন, ঢাকা ও লন্ডনের দূরত্বে থাকলেও তার মন দেশের জন্য রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের স্বার্থে কাজ করা, দেশের মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।’’
সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বলেন, “যদি ভারতের স্বৈরাচারকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশিরা বিরাগভাজন হয়, তাহলে আমাদের করণের কোন লাভ হবে না। দেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বন্ধুপ্রতিম সম্পর্কের পরিবর্তে তারা শীতলতা বজায় রাখবে।” তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলি সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক স্থাপন করে বাংলাদেশের স্বার্থে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, “প্রথমে দেশ, তারপর অন্যরা। আমার দেশের স্বার্থই আমার অগ্রাধিকার। দেশের জন্য যা করাই প্রয়োজন, আমি সেটাই করব।”
তিনি পানির অধিকার ও সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে বলেন, “আমি আমার পানির হিস্যা চাই। এটা ন্যায্য অধিকার। পাশাপাশি, ফেলানীর হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা আমি মেনে নেব না, এটা কখনোই বরদাশ्तি করব না।”
অগণতান্ত্রিক সময়ের তুলনায় বিএনপির সময়ে সুষ্ঠু সাংবাদিকতা ও স্বাধীনতার বিষয়েও তারেক রহমান আশ্বস্ত করে বলেন, “আমরা নিশ্চিত করতে পারি, বিএনপির সময়ে সাংবাদিক সংকট বা দমন-পীড়ন ছিল না। সরকারি সময়ে অনেক সাংবাদিক হয়তো নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, কিন্তু আমাদের সময় তা ঘটবে না।” তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবেনা। তিনি বলেন, “প্রাচীন সময়ের মতোই, বিএনপির আমলেও সাংবাদিক নিপীড়ন হয়নি। আমি বলছি, এরকম ঘটনা ছিল না। স্বাধীনভাবে খবর প্রকাশের মাধ্যমে আমরা দেশের গণতান্ত্রিক চেতনা রক্ষা করেছি।”
অন্যদিকে, তিনি বলেন, “আমরা সংবাদ আইনসিদ্ধ ও মুক্ত রাখতে চাই। অপপ্রচারে সংবাদ হিসেবে প্রচার না করে, সত্যের ভিত্তিতে তথ্য প্রকাশে গুরুত্ব দিব। সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য বা মিম বা কার্টুনের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কারো ক্ষতি না হয়। সবার উচিত ডেটা যাচাই করে সত্যতা নিশ্চিত করা।” তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার সুফল যেমন যোগাযোগের সহজতা ও দ্রুততার কথা বলেন, তেমনি এর কুখ্যাত দিক, যেমন ডিনামাইটের উদাহরণ টেনে, ব্যাখ্যা করেন যে, ওই প্রযুক্তি ভাল কাজে ব্যবহৃত হলেও কখনো কখনো মানুষের ক্ষতি হয়। তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় দায়িত্ব নিয়ে তথ্য শেয়ার করতে হবে, ভুল বা মিথ্যা প্রচার এড়িয়ে চলতে হবে।” সবশেষে তিনি বলেন, “আমরা সমাজের সকলের সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। সমাজে নেতিবাচক ব্যবহার কমিয়ে কেবল গঠনমূলক বিষয়গুলো তুলে ধরা উচিত।”

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

তারেক রহমানের মতে, এক-এগারোর সরকার ছিল অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত

প্রকাশিতঃ ১০:৪৮:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক confidently বলেছেন, এক-এগারো সরকার ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি জানিয়েছেন, সে সময়কার সরকার সবকিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছিল এবং বিরাজনীতিকরণে বিশ্বাসী ছিল। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় ও শেষ পর্বে তিনি এই মন্তব্য করেন। তারেক রহমানের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এক-এগারো সময়ের রাজনীতি বা সেনাসমর্থিত সরকারের ইতিহাসের মূল্যায়ন কী? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এক-এগারোর সরকার ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি সরকার।” তিনি বলেন, ওই সময় দেশ বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এগোচ্ছিল, গণতান্ত্রিক ভিত্তি ধীরে ধীরে গড়ে উঠছিল। কিন্তু তারা (এক-এগারো সরকার) সবকিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল, দেশকে অন্ধকার পথে নেওয়ার জন্য। পরে দেখা যায়, তাদেরই অন্য রূপ—‘ইন দ্য নেম অব ডেমোক্র্যাসি’ নামে এক ধরনের নতুন চেহারা।
তরেক রহমান আরও জানান, বিএনপি দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে চায় এবং ভবিষ্যতে দেশের জন্য কাজ করতে আগ্রহী। বাংলাদেশ এখন দশকের পর দশক ধরে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তার মধ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য এগিয়ে আসার প্রয়োজন রয়েছে।
অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেছেন, ঢাকা ও লন্ডনের দূরত্বে থাকলেও তার মন দেশের জন্য রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের স্বার্থে কাজ করা, দেশের মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।’’
সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বলেন, “যদি ভারতের স্বৈরাচারকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশিরা বিরাগভাজন হয়, তাহলে আমাদের করণের কোন লাভ হবে না। দেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বন্ধুপ্রতিম সম্পর্কের পরিবর্তে তারা শীতলতা বজায় রাখবে।” তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলি সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক স্থাপন করে বাংলাদেশের স্বার্থে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, “প্রথমে দেশ, তারপর অন্যরা। আমার দেশের স্বার্থই আমার অগ্রাধিকার। দেশের জন্য যা করাই প্রয়োজন, আমি সেটাই করব।”
তিনি পানির অধিকার ও সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে বলেন, “আমি আমার পানির হিস্যা চাই। এটা ন্যায্য অধিকার। পাশাপাশি, ফেলানীর হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা আমি মেনে নেব না, এটা কখনোই বরদাশ्तি করব না।”
অগণতান্ত্রিক সময়ের তুলনায় বিএনপির সময়ে সুষ্ঠু সাংবাদিকতা ও স্বাধীনতার বিষয়েও তারেক রহমান আশ্বস্ত করে বলেন, “আমরা নিশ্চিত করতে পারি, বিএনপির সময়ে সাংবাদিক সংকট বা দমন-পীড়ন ছিল না। সরকারি সময়ে অনেক সাংবাদিক হয়তো নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, কিন্তু আমাদের সময় তা ঘটবে না।” তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবেনা। তিনি বলেন, “প্রাচীন সময়ের মতোই, বিএনপির আমলেও সাংবাদিক নিপীড়ন হয়নি। আমি বলছি, এরকম ঘটনা ছিল না। স্বাধীনভাবে খবর প্রকাশের মাধ্যমে আমরা দেশের গণতান্ত্রিক চেতনা রক্ষা করেছি।”
অন্যদিকে, তিনি বলেন, “আমরা সংবাদ আইনসিদ্ধ ও মুক্ত রাখতে চাই। অপপ্রচারে সংবাদ হিসেবে প্রচার না করে, সত্যের ভিত্তিতে তথ্য প্রকাশে গুরুত্ব দিব। সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য বা মিম বা কার্টুনের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কারো ক্ষতি না হয়। সবার উচিত ডেটা যাচাই করে সত্যতা নিশ্চিত করা।” তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার সুফল যেমন যোগাযোগের সহজতা ও দ্রুততার কথা বলেন, তেমনি এর কুখ্যাত দিক, যেমন ডিনামাইটের উদাহরণ টেনে, ব্যাখ্যা করেন যে, ওই প্রযুক্তি ভাল কাজে ব্যবহৃত হলেও কখনো কখনো মানুষের ক্ষতি হয়। তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় দায়িত্ব নিয়ে তথ্য শেয়ার করতে হবে, ভুল বা মিথ্যা প্রচার এড়িয়ে চলতে হবে।” সবশেষে তিনি বলেন, “আমরা সমাজের সকলের সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। সমাজে নেতিবাচক ব্যবহার কমিয়ে কেবল গঠনমূলক বিষয়গুলো তুলে ধরা উচিত।”