১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি ৪০ শতাংশের বেশি কমেছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্য রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের রপ্তানি সেখানে প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, এবং গত চার মাসের মধ্যে এই পতন মোটে প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা এক বিশাল ঝটকা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদসংস্থা বিবিসি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ অগাস্ট থেকে শুরু হওয়া নতুন শুল্ক কাঠামোর পুরো প্রভাব সেপ্টেম্বর মাসে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। এই শুল্কের সঙ্গে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত জরিমানা আরোপও রয়েছে। দিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (জিটিআরআই) সহ-প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, শুল্ক বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাজারে পরিণত হয়েছে।

জিটিআরআইয়ের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, শ্রমনির্ভর খাতগুলোর মধ্যে বস্ত্র, রত্ন ও গহনা, প্রকৌশলজাত পণ্য ও রাসায়নিক খাতগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব খাতে রপ্তানি আয় ব্যাপক হারে কমে গেছে। মে মাসে ভারতের এই বাজারে রপ্তানি ছিল ৮.৮ বিলিয়ন ডলার, যা সেপ্টেম্বর নাগাদ কমে ৫.৫ বিলিয়ন ডলার দাঁড়িয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ৩৭.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। পর পর চার মাস ধরে রপ্তানি কমতে থাকায় ভারতের বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়ে গেছে। সেপ্টেম্বরে এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩২.১৫ বিলিয়ন ডলার, যা গত ১৩ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি কিছুটা হলেও ভারসাম্য রক্ষা করেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

বিনা বিরতিতে চলমান এই পরিস্থিতির মধ্যে, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনা আবার শুরু হয়েছে। আগামী মাসের মধ্যে একটি প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। এতে একটি ভারতীয় প্রতিনিধি দল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে।

বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনা বন্ধ করবে। ওয়াশিংটনের মনে করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে ইউক্রেনের যুদ্ধের উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি সম্পর্ক উন্নত করতে আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রশাসন এই সহযোগিতা আরও গভীর করার আগ্রহ দেখিয়েছে।

তবে কৃষি ও দুগ্ধ খাতের বাজার প্রবেশাধিকার নিয়ে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ভারতের কৃষি খাতকে সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে দেখে আসলেও, নয়াদিল্লি খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষকের জীবনযাত্রা এবং অভ্যন্তরীণ বাজার রক্ষা করার স্বার্থে এই খাতকে সুরক্ষা দিয়ে আসছে।

প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র ছিল ভারতের অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার। ২০২৪ সালে দুই দেশের পারস্পরিক বাণিজ্য ছিল ১৯০ বিলিয়ন ডলার। ট্রাম্প ও মোদি দুজনই এই অঙ্ক ৫০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক শুল্কযুদ্ধ এই লক্ষ্য অর্জনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি ৪০ শতাংশের বেশি কমেছে

প্রকাশিতঃ ১০:৪৮:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্য রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের রপ্তানি সেখানে প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, এবং গত চার মাসের মধ্যে এই পতন মোটে প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা এক বিশাল ঝটকা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদসংস্থা বিবিসি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ অগাস্ট থেকে শুরু হওয়া নতুন শুল্ক কাঠামোর পুরো প্রভাব সেপ্টেম্বর মাসে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। এই শুল্কের সঙ্গে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত জরিমানা আরোপও রয়েছে। দিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (জিটিআরআই) সহ-প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, শুল্ক বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাজারে পরিণত হয়েছে।

জিটিআরআইয়ের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, শ্রমনির্ভর খাতগুলোর মধ্যে বস্ত্র, রত্ন ও গহনা, প্রকৌশলজাত পণ্য ও রাসায়নিক খাতগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব খাতে রপ্তানি আয় ব্যাপক হারে কমে গেছে। মে মাসে ভারতের এই বাজারে রপ্তানি ছিল ৮.৮ বিলিয়ন ডলার, যা সেপ্টেম্বর নাগাদ কমে ৫.৫ বিলিয়ন ডলার দাঁড়িয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ৩৭.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। পর পর চার মাস ধরে রপ্তানি কমতে থাকায় ভারতের বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়ে গেছে। সেপ্টেম্বরে এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩২.১৫ বিলিয়ন ডলার, যা গত ১৩ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি কিছুটা হলেও ভারসাম্য রক্ষা করেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

বিনা বিরতিতে চলমান এই পরিস্থিতির মধ্যে, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনা আবার শুরু হয়েছে। আগামী মাসের মধ্যে একটি প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। এতে একটি ভারতীয় প্রতিনিধি দল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে।

বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনা বন্ধ করবে। ওয়াশিংটনের মনে করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে ইউক্রেনের যুদ্ধের উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি সম্পর্ক উন্নত করতে আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রশাসন এই সহযোগিতা আরও গভীর করার আগ্রহ দেখিয়েছে।

তবে কৃষি ও দুগ্ধ খাতের বাজার প্রবেশাধিকার নিয়ে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ভারতের কৃষি খাতকে সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে দেখে আসলেও, নয়াদিল্লি খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষকের জীবনযাত্রা এবং অভ্যন্তরীণ বাজার রক্ষা করার স্বার্থে এই খাতকে সুরক্ষা দিয়ে আসছে।

প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র ছিল ভারতের অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার। ২০২৪ সালে দুই দেশের পারস্পরিক বাণিজ্য ছিল ১৯০ বিলিয়ন ডলার। ট্রাম্প ও মোদি দুজনই এই অঙ্ক ৫০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক শুল্কযুদ্ধ এই লক্ষ্য অর্জনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।