০৯:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আন্তর্জাতিকভাবে দাবি জানানোয় বন্দিদের মুক্তি ঘোষণা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর দোয়ার আবেদন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমারও: তারেক রহমান মৌসুমি সবজি বাজারে ভরপুর, দাম কমে গেছে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া ও মোনাজাত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য ভর্তুকির দাবি আরব আমিরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ২৪ ব্যক্তির মুক্তি আসছে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা মনের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে দ্বন্দ্ব: তারেক রহমানের মন্তব্য বাজারে মৌসুমি সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম কমে যাচ্ছে

বিএনপির লক্ষ্য গণতান্ত্রিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করে ধরে রেখেছে। দলটি মনে করে, দেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের স্বপ্নের স্বপ্ন দেখেছেন—গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কর্তৃত্ববাদী সরকার দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে, ফলে দেশের মালিকানা এখন মূলত তাদের হাতে নেই। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে দরকার এক সার্বজনীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, যেখানে দেশের মানুষ স্বচ্ছন্দে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। বিজয়ী হলে, বিএনপি ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিক্ষিত বেকারদের জন্য এক বছরের ভাতা চালুর অঙ্গীকারও করেছে।

বিএনপি এখন তরুণ ভোটারদের দিক বেশি মনোযোগী করে প্রচারণা চালাবে বলে জানা গেছে। দলটি ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের পক্ষে হোক’ এই স্লোগান জোরদার করবে। তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য বীজ-সার ও কৃষি কার্ড, এবং চিকিৎসার জন্য বিশেষ কার্ড চালু করা। পাশাপাশি, নারীদের আর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, সমান সুযোগ ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও প্রচারিত হবে।

গত সোমবার রাতে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব পরিকল্পনা ও নীতিগুলো চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে দলের সম্ভাব্য প্রচারণার কৌশল, ভোটার আচরণ বিশ্লেষণ ও মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের জন্য দিকনির্দেশনা দেয়া হয়, যাতে ভোটের আগেই বিভিন্ন ইস্যুতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যায়। এই প্রচারণায় দলের সাতটি মূল ইস্যু—জলবায়ু ও পরিবেশ, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, কৃষি, নারী ক্ষমতায়ন, ক্রীড়া ও ধর্মীয় বিষয় সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কয়েকটি দল খুব শিগগিরই মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানা গেছে। কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে পরিবেশ ও জলবায়ু সমস্যা সমাধান, ৫০ লক্ষ পরিবারকে নতুন ফ্যামিলি কার্ড, পাঁচ বছরে পাঁচ কোটি গাছের রোপণ, এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের অঙ্গীকার।

দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) মডেল অনুসরণ করে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলার পরিকল্পনাও প্রচারনায় থাকছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনরুদ্ধার, কমিউনিটিভিত্তিক সেচ ব্যবস্থা চালু, এবং আধুনিক তিস্তা ও গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে।

অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক ভাতা চালু, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের güvenতা ও অধিকার রক্ষায় অতিরিক্ত উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষাখাতেও বড় ধরনের রূপান্তর আনা হবে, যেখানে স্কুলের পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া, শিল্প-সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং তরুণরা ক্ষুদ্রশিল্পে উদ্যোগ নিতে সরকারি সহায়তা দিয়ে উৎসাহিত করা হবে।

প্রচারনায় দলের শীর্ষ নেতারা তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা আরও বেশি সময় দিয়ে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করছেন, দুর্বলতা চিহ্নিত করছেন এবং ভোটের আগে সেগুলোর সমাধান ঘটানোর জন্য কাজ করছেন। পাশাপাশি, পোলিং এজেন্টের প্রশিক্ষণ, ব্যাকআপ এজেন্ট তৈরি ও দলের ৩১ দফা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের রূপরেখা বোর্ডবোর্ডের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রদর্শিত হচ্ছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে, দলের প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী করতে, গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মাঠ পর্যায়ে সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। সাত সদস্যবিশিষ্ট সাতটি দল গঠন করে প্রত্যেকটি দলের জন্য আলাদা নেতা নির্দিষ্ট করা হবে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে, বিএনপি তাদের নির্বাচনী প্রচার ও রাজনৈতিক কার্যক্রম আরও কার্যকর করে তুলতে চাচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বিএনপির লক্ষ্য গণতান্ত্রিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন

প্রকাশিতঃ ১১:৪৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করে ধরে রেখেছে। দলটি মনে করে, দেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের স্বপ্নের স্বপ্ন দেখেছেন—গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কর্তৃত্ববাদী সরকার দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে, ফলে দেশের মালিকানা এখন মূলত তাদের হাতে নেই। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে দরকার এক সার্বজনীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, যেখানে দেশের মানুষ স্বচ্ছন্দে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। বিজয়ী হলে, বিএনপি ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিক্ষিত বেকারদের জন্য এক বছরের ভাতা চালুর অঙ্গীকারও করেছে।

বিএনপি এখন তরুণ ভোটারদের দিক বেশি মনোযোগী করে প্রচারণা চালাবে বলে জানা গেছে। দলটি ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের পক্ষে হোক’ এই স্লোগান জোরদার করবে। তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য বীজ-সার ও কৃষি কার্ড, এবং চিকিৎসার জন্য বিশেষ কার্ড চালু করা। পাশাপাশি, নারীদের আর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, সমান সুযোগ ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও প্রচারিত হবে।

গত সোমবার রাতে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব পরিকল্পনা ও নীতিগুলো চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে দলের সম্ভাব্য প্রচারণার কৌশল, ভোটার আচরণ বিশ্লেষণ ও মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের জন্য দিকনির্দেশনা দেয়া হয়, যাতে ভোটের আগেই বিভিন্ন ইস্যুতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যায়। এই প্রচারণায় দলের সাতটি মূল ইস্যু—জলবায়ু ও পরিবেশ, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, কৃষি, নারী ক্ষমতায়ন, ক্রীড়া ও ধর্মীয় বিষয় সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কয়েকটি দল খুব শিগগিরই মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানা গেছে। কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে পরিবেশ ও জলবায়ু সমস্যা সমাধান, ৫০ লক্ষ পরিবারকে নতুন ফ্যামিলি কার্ড, পাঁচ বছরে পাঁচ কোটি গাছের রোপণ, এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের অঙ্গীকার।

দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) মডেল অনুসরণ করে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলার পরিকল্পনাও প্রচারনায় থাকছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনরুদ্ধার, কমিউনিটিভিত্তিক সেচ ব্যবস্থা চালু, এবং আধুনিক তিস্তা ও গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে।

অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক ভাতা চালু, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের güvenতা ও অধিকার রক্ষায় অতিরিক্ত উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষাখাতেও বড় ধরনের রূপান্তর আনা হবে, যেখানে স্কুলের পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া, শিল্প-সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং তরুণরা ক্ষুদ্রশিল্পে উদ্যোগ নিতে সরকারি সহায়তা দিয়ে উৎসাহিত করা হবে।

প্রচারনায় দলের শীর্ষ নেতারা তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা আরও বেশি সময় দিয়ে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করছেন, দুর্বলতা চিহ্নিত করছেন এবং ভোটের আগে সেগুলোর সমাধান ঘটানোর জন্য কাজ করছেন। পাশাপাশি, পোলিং এজেন্টের প্রশিক্ষণ, ব্যাকআপ এজেন্ট তৈরি ও দলের ৩১ দফা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের রূপরেখা বোর্ডবোর্ডের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রদর্শিত হচ্ছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে, দলের প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী করতে, গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মাঠ পর্যায়ে সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। সাত সদস্যবিশিষ্ট সাতটি দল গঠন করে প্রত্যেকটি দলের জন্য আলাদা নেতা নির্দিষ্ট করা হবে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে, বিএনপি তাদের নির্বাচনী প্রচার ও রাজনৈতিক কার্যক্রম আরও কার্যকর করে তুলতে চাচ্ছে।