০৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

মিশা সওদাগর বললেন, দেশের মানুষ কেন তারকারা ছেড়ে যাচ্ছে

বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনের অনেক জনপ্রিয় মুখ এখন বিদেশে অবস্থান করছে। কেউ স্থায়ীভাবে, আবার কারো কারো জন্যই দীর্ঘমেয়াদী ও আরও স্থিতিশীল জীবনযাত্রার জন্য এই পদক্ষেপ। এই পরিস্থিতির পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও জনপ্রিয় অভিনেতা মিশা সওদাগর সম্প্রতি এক আলোচনায় স্পষ্ট করে বলেন, দেশের মধ্যে পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ ও কর্মসংস্থান না থাকাই মূল কারণ।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মিশা সওদাগর আক্ষেপের সুরে বলেন, একসময় ঢাকা আরকরাজের চেহারা ছিল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রাণকেন্দ্র, যেখানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শুটিং হতো। কিন্তু এখন তার অঙ্গন তেমনটা নয়। তিনি উল্লেখ করেন, অমিত হাসান, মৌসুমী, ইমন, মাহিয়া মাহি কিংবা আলেকজান্ডার বো— সবাই তারা কখনোও দেশের বাইরে যাওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেননি। তবে কর্মসংস্থান ও কাজের অভাবের কারণে এখন তাদের অনেকেই প্রবাস জীবন পছন্দ করেন।

অভিনেতা আরও তুলে ধরেন, শিল্পীদের জীবনের চমকপ্রদ চেহারার আড়ালে লুকানো কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতা। বলতে গিয়ে জানান, বেশিরভাগ শিল্পীরই হাতে কাজের অভাব হলে তার গেটআপ, পোশাক, গাড়ি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান রক্ষা করতে হয়। পরিবারের দায়িত্ব ও ভাইবোনের চাহিদা সামাল দেয়াও তাদের স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু যখন রোজগার একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়, তখন পরিবারের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়াই সাধারণ বিকল্প হয়ে ওঠে। তিনি মনে করেন, প্রবাসে শ্রম দিয়ে সম্মানের সঙ্গে জীবন চালানো সম্ভব, যা অনেক শিল্পীর জন্য একমাত্র সমাধান।

সাম্প্রতিক সময়ে অমিত হাসান, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, মাহিয়া মাহি, সাজু খাধেমসহ অনেক তারকা এখন বিদেশের স্থায়ী নাগরিকত্ব বা থাকার অনুমতি নিয়েছেন। এমনকি মিশা সওদাগরের নিজস্ব পরিবারও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকছেন এবং সেখানে দীর্ঘ সময় থাকতে হয় তাকে। এর ফলে তারাও প্রয়োজনে মার্কিন মুলুকেই থাকতে বাধ্য হন। এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিয়ে বোঝানো যায়, দেশের শিল্পক্ষেত্রে শ্রম ও কর্মসংস্থান সংকট কতটা গভীর, যা অনেক তারকার জীবনযাত্রার পরিস্থিতিকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

মিশা সওদাগর বললেন, দেশের মানুষ কেন তারকারা ছেড়ে যাচ্ছে

প্রকাশিতঃ ১১:৫৫:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনের অনেক জনপ্রিয় মুখ এখন বিদেশে অবস্থান করছে। কেউ স্থায়ীভাবে, আবার কারো কারো জন্যই দীর্ঘমেয়াদী ও আরও স্থিতিশীল জীবনযাত্রার জন্য এই পদক্ষেপ। এই পরিস্থিতির পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও জনপ্রিয় অভিনেতা মিশা সওদাগর সম্প্রতি এক আলোচনায় স্পষ্ট করে বলেন, দেশের মধ্যে পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ ও কর্মসংস্থান না থাকাই মূল কারণ।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মিশা সওদাগর আক্ষেপের সুরে বলেন, একসময় ঢাকা আরকরাজের চেহারা ছিল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রাণকেন্দ্র, যেখানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শুটিং হতো। কিন্তু এখন তার অঙ্গন তেমনটা নয়। তিনি উল্লেখ করেন, অমিত হাসান, মৌসুমী, ইমন, মাহিয়া মাহি কিংবা আলেকজান্ডার বো— সবাই তারা কখনোও দেশের বাইরে যাওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেননি। তবে কর্মসংস্থান ও কাজের অভাবের কারণে এখন তাদের অনেকেই প্রবাস জীবন পছন্দ করেন।

অভিনেতা আরও তুলে ধরেন, শিল্পীদের জীবনের চমকপ্রদ চেহারার আড়ালে লুকানো কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতা। বলতে গিয়ে জানান, বেশিরভাগ শিল্পীরই হাতে কাজের অভাব হলে তার গেটআপ, পোশাক, গাড়ি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান রক্ষা করতে হয়। পরিবারের দায়িত্ব ও ভাইবোনের চাহিদা সামাল দেয়াও তাদের স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু যখন রোজগার একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়, তখন পরিবারের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়াই সাধারণ বিকল্প হয়ে ওঠে। তিনি মনে করেন, প্রবাসে শ্রম দিয়ে সম্মানের সঙ্গে জীবন চালানো সম্ভব, যা অনেক শিল্পীর জন্য একমাত্র সমাধান।

সাম্প্রতিক সময়ে অমিত হাসান, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, মাহিয়া মাহি, সাজু খাধেমসহ অনেক তারকা এখন বিদেশের স্থায়ী নাগরিকত্ব বা থাকার অনুমতি নিয়েছেন। এমনকি মিশা সওদাগরের নিজস্ব পরিবারও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকছেন এবং সেখানে দীর্ঘ সময় থাকতে হয় তাকে। এর ফলে তারাও প্রয়োজনে মার্কিন মুলুকেই থাকতে বাধ্য হন। এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিয়ে বোঝানো যায়, দেশের শিল্পক্ষেত্রে শ্রম ও কর্মসংস্থান সংকট কতটা গভীর, যা অনেক তারকার জীবনযাত্রার পরিস্থিতিকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে।