১২:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় সামরিক পরীক্ষা সফল

ভারত তার সমুদ্রসীমায় পারমাণবিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন আইএনএস আরিঘাট থেকে সফলভাবে পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী কে-৪ ব্যালিস্টিক মিসাইল। এই মিসাইলের পাল্লা ৩,৫০০ কিলোमीटर, যা সরাসরি লক্ষ্যে লক্ষ্য করে আঘাত হানতে সক্ষম। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে টাইমস অব ইন্ডিয়া এর প্রতিবেদনে।

বিশাখাপত্তনম উপকূলে অবস্থিত এই পরীক্ষা চালানো হয়েছিল, যদিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, এই সলিড-ফুয়েল চালিত কে-৪ মিসাইলটি প্রায় দুই টন ওজনের পরমাণু অস্ত্র বহন করতে পারে। এই মিসাইলের মাধ্যমে ভারতের ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে পরমাণু হামলা চালানোর মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে আরও मजबूत করা হয়।

বর্তমানে ভারতের কাছে দুটি পরমাণু সাবমেরিন রয়েছে—আইএনএস অরিহন্ত এবং আইএনএস আরিঘাট। তবে অরিহন্ত কেবল ৭৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লার মিসাইল বহন করতে সক্ষম, আর আরিঘাটের এই নতুন সক্ষমতা ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিধর দেশের সঙ্গে তুলনা করার মতো অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ভারতের ভবিষ্যতের লক্ষ্য হলো ২০২৬ সালের মধ্যে আরও বড় এবং শক্তিশালী একটি সাবমেরিন—আইএনএস অরিধাম—নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা।

তালিকার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়ার তুলনায় ভারতের এই সাবমেরিনগুলো আকারে ছোট হলেও, কো-৪ মিসাইলের মোতায়েন ভারতীয় প্রতিরক্ষা কাঠামোকে আরও সুরক্ষিত করবে। ভারতের ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতির অংশ হিসেবে, যেখানে আগে পরমাণু হামলা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এই সাবমেরিনগুলো সর্বোত্তম ও নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়। সমুদ্রের গভীর থেকে শত্রুর বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা ভারতীয় পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বিশ্বজনপ্রিয় ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় সামরিক পরীক্ষা সফল

প্রকাশিতঃ ১১:৫৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

ভারত তার সমুদ্রসীমায় পারমাণবিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন আইএনএস আরিঘাট থেকে সফলভাবে পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী কে-৪ ব্যালিস্টিক মিসাইল। এই মিসাইলের পাল্লা ৩,৫০০ কিলোमीटर, যা সরাসরি লক্ষ্যে লক্ষ্য করে আঘাত হানতে সক্ষম। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে টাইমস অব ইন্ডিয়া এর প্রতিবেদনে।

বিশাখাপত্তনম উপকূলে অবস্থিত এই পরীক্ষা চালানো হয়েছিল, যদিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, এই সলিড-ফুয়েল চালিত কে-৪ মিসাইলটি প্রায় দুই টন ওজনের পরমাণু অস্ত্র বহন করতে পারে। এই মিসাইলের মাধ্যমে ভারতের ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে পরমাণু হামলা চালানোর মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে আরও मजबूत করা হয়।

বর্তমানে ভারতের কাছে দুটি পরমাণু সাবমেরিন রয়েছে—আইএনএস অরিহন্ত এবং আইএনএস আরিঘাট। তবে অরিহন্ত কেবল ৭৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লার মিসাইল বহন করতে সক্ষম, আর আরিঘাটের এই নতুন সক্ষমতা ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিধর দেশের সঙ্গে তুলনা করার মতো অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ভারতের ভবিষ্যতের লক্ষ্য হলো ২০২৬ সালের মধ্যে আরও বড় এবং শক্তিশালী একটি সাবমেরিন—আইএনএস অরিধাম—নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা।

তালিকার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়ার তুলনায় ভারতের এই সাবমেরিনগুলো আকারে ছোট হলেও, কো-৪ মিসাইলের মোতায়েন ভারতীয় প্রতিরক্ষা কাঠামোকে আরও সুরক্ষিত করবে। ভারতের ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতির অংশ হিসেবে, যেখানে আগে পরমাণু হামলা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এই সাবমেরিনগুলো সর্বোত্তম ও নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়। সমুদ্রের গভীর থেকে শত্রুর বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা ভারতীয় পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বিশ্বজনপ্রিয় ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।