০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় পৌঁছেছেন স্মারণ ও বিশ্লেষণে দাবি: নির্বাচন পরিকল্পনায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন মатарবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকা- ৯ ঘণ্টা চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে দ্বিগুণেরও বেশি বাজেটে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন সংস্কারের নামে পুরোনো আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের পুনর্বাসন: টিআইবির অভিযোগ

এলপিজি অটোগ্যাসের ১০ শতাংশ সরবরাহের দাবি: জরুরি সংবাদ সম্মেলন

দেশে এলপিজি অটোগ্যাসের সংকটের কারণে বেশ কিছু গ্যাস স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি গুরুতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেড় লাখেরও বেশি গাড়ি চালক এবং মালিকের উপর, যারা জ্বালানি না পেয়ে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আজ শনিবার ঢাকায় রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন ও কনভার্শন ওয়ার্কশপের মালিক ও নেতৃবৃন্দ জরুরি একটি দাবি তুলেছেন। তারা জানিয়েছেন, দেশে মোট ব্যবহৃত এলপিজির অন্তত ১০ শতাংশ—অর্থাৎ ১৫ হাজার মেট্রিক টন—অটোগ্যাস স্টেশনগুলোতে অবিলম্বে সরবরাহের ব্যবস্থা করা জরুরি। যদি এ দাবি না মানা হয়, তবে পরিবেশের জন্য উপকারী ও সাশ্রয়ী এই বিকল্প জ্বালানি খাতটি অচিরেই ধ্বংসের মুখোমুখি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মালিক পক্ষ অভিযোগ করেন, বর্তমানে গ্যাস সংগ্রহের জন্য চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে যান, যার ফলে যানবাহনের সেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক যান রাস্তায় নামানো সম্ভব হচ্ছে না। এসোসিয়েশন সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই শিল্পকে রক্ষার জন্য এখনই কোনও ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে অনেক মালিক এলপিজি কিট খুলে অন্য জ্বালানিতে চলে যাবেন, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হবে। এছাড়াও, এতে বহু স্টেশন ও কর্মচারী আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়ে কর্মহীন হয়ে পড়বেন। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তারা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে কিছু স্পষ্ট দাবি पेश করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে—তড়িৎ এলপিজি আমদানির প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করে তুলতে হবে, যারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরবরাহ কমাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি, এলপিজি সিলিন্ডার ও অটোগ্যাস স্টেশনগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারের নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছে বিনা নজরদারিতে থাকা অসাধু ব্যবসায়ীরা, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর শাস্তির আবেদন জানানো হয়েছে।

বর্তমানে আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে; যারা নতুন করে এলপিজি আমদানি করতে আগ্রহী, তাদের আবেদন দ্রুত অনুমোদন করতে বলা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, এই সংকটের সময়ে অটোগ্যাস স্টেশন মালিকেদের জন্য নীতিগত সুরক্ষা ও বিশেষ সহায়তা না দিলে, এই বৃহৎ বিনিয়োগটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মূলত, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানোর লক্ষ্যে তারা এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। এখন দেখার বিষয়, সরকার ও বিইআরসি কী ধরনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে এই দাবিগুলোর প্রেক্ষিতে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

এলপিজি অটোগ্যাসের ১০ শতাংশ সরবরাহের দাবি: জরুরি সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিতঃ ১১:৫০:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

দেশে এলপিজি অটোগ্যাসের সংকটের কারণে বেশ কিছু গ্যাস স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি গুরুতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেড় লাখেরও বেশি গাড়ি চালক এবং মালিকের উপর, যারা জ্বালানি না পেয়ে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আজ শনিবার ঢাকায় রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন ও কনভার্শন ওয়ার্কশপের মালিক ও নেতৃবৃন্দ জরুরি একটি দাবি তুলেছেন। তারা জানিয়েছেন, দেশে মোট ব্যবহৃত এলপিজির অন্তত ১০ শতাংশ—অর্থাৎ ১৫ হাজার মেট্রিক টন—অটোগ্যাস স্টেশনগুলোতে অবিলম্বে সরবরাহের ব্যবস্থা করা জরুরি। যদি এ দাবি না মানা হয়, তবে পরিবেশের জন্য উপকারী ও সাশ্রয়ী এই বিকল্প জ্বালানি খাতটি অচিরেই ধ্বংসের মুখোমুখি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মালিক পক্ষ অভিযোগ করেন, বর্তমানে গ্যাস সংগ্রহের জন্য চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে যান, যার ফলে যানবাহনের সেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক যান রাস্তায় নামানো সম্ভব হচ্ছে না। এসোসিয়েশন সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই শিল্পকে রক্ষার জন্য এখনই কোনও ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে অনেক মালিক এলপিজি কিট খুলে অন্য জ্বালানিতে চলে যাবেন, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হবে। এছাড়াও, এতে বহু স্টেশন ও কর্মচারী আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়ে কর্মহীন হয়ে পড়বেন। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তারা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে কিছু স্পষ্ট দাবি पेश করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে—তড়িৎ এলপিজি আমদানির প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করে তুলতে হবে, যারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরবরাহ কমাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি, এলপিজি সিলিন্ডার ও অটোগ্যাস স্টেশনগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারের নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছে বিনা নজরদারিতে থাকা অসাধু ব্যবসায়ীরা, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর শাস্তির আবেদন জানানো হয়েছে।

বর্তমানে আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে; যারা নতুন করে এলপিজি আমদানি করতে আগ্রহী, তাদের আবেদন দ্রুত অনুমোদন করতে বলা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, এই সংকটের সময়ে অটোগ্যাস স্টেশন মালিকেদের জন্য নীতিগত সুরক্ষা ও বিশেষ সহায়তা না দিলে, এই বৃহৎ বিনিয়োগটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মূলত, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানোর লক্ষ্যে তারা এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। এখন দেখার বিষয়, সরকার ও বিইআরসি কী ধরনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে এই দাবিগুলোর প্রেক্ষিতে।