০৫:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
২৩ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ: বাংলাদেশের অর্থনীতি ঝুঁকিতে নূরুল ইসলাম মনি ত্রয়োদশ সংসদের চীফ হুইপ নিযুক্ত ডুবোচর ও বর্জ্যে ইলিশহীন পায়রা, সংকটে ১৪,৬৮৯ জেলে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: এজাহারভুক্ত আরও এক আসামি গ্রেফতার মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

স্মারণ ও বিশ্লেষণে দাবি: নির্বাচন পরিকল্পনায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন

বিতর্কিত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পেছনে থাকা অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার কমিশন তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পরিকল্পনা ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকেই শুরু হয়েছিল। এই পরিকল্পনা ছিল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে; এর বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন এবং গোয়েন্দা সংস্থার কিছু অংশকে দেশের স্বার্থে ব্যবহার করা হয়।

সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তদন্ত কমিশন তাদের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর সংবাদ সম্মেলনে তারা পরিকল্পনার মূল বিষয়বস্তু ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন। এ সময় কমিশনের সভাপতি সাবেক হাইকোর্ট বিচারপতি শামীম হাসনাইন, অন্যান্য সদস্যরা, এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও ষড়যন্ত্রের সূচনা হয়েছিল, যেখানে কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগদান ছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে সময়ের অভাবে তাদের নাম ও ভূমিকা সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।

তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং অন্য নিকটবর্তী আসনগুলোতে নিয়ন্ত্রিতভাবে নির্বাচন আয়োজন করা হয়। তথ্য অনুযায়ী, এই ভোটের ফলাফল ছিল সম্পূর্ণ সাজানো ও পরিকল্পিত। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখার জন্য এই কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আন্তর্জাতিক সমালোচনার পর, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ একটি বুঝে-শুনে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করে। এর ফলে বিরোধী দলগুলো, বিশেষ করে বিএনপি, অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিতে পড়ে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৮ সালে ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে রাতের বেলায় ভোটের সিল মারার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ জয় নিশ্চিত করা হয়। নির্বাচন পরিচালনা ও ফলাফলের এই প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের মধ্যে অসততা ও প্রতারণা ছিল স্পষ্ট। তবে ২০২৪ সালে বিরোধী দলগুলোর নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ‘ডামি’ প্রতিযোগিতা চালিয়ে আনার ষড়যন্ত্র করা হয়।

কমিশন জানায়, এই তিনটি নির্বাচন ছিল কেন্দ্রীয় উচ্চ পর্যায়ের সুপারিশ ও পরিকল্পনা অনুযায়ী, যার বাস্তবায়নে দেশের প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন এবং গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশ নিয়োজিত ছিল। বিশেষ এক সেল গঠন করে, যা ‘নির্বাচন সেল’ নামে পরিচিত হয়। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নির্বাচন ব্যবস্থা মূলত প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, যেখানে নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক দায়িত্ব কমে আসে।

তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই কমিশনের গঠন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলো দেশের ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন কৌশলে ভোটাধিকারের অপব্যবহার, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লঙ্ঘনসহ নানা অভিযোগের বিষয়ে এই প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ অধ্যায়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

২৩ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

স্মারণ ও বিশ্লেষণে দাবি: নির্বাচন পরিকল্পনায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

বিতর্কিত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পেছনে থাকা অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার কমিশন তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পরিকল্পনা ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকেই শুরু হয়েছিল। এই পরিকল্পনা ছিল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে; এর বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন এবং গোয়েন্দা সংস্থার কিছু অংশকে দেশের স্বার্থে ব্যবহার করা হয়।

সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তদন্ত কমিশন তাদের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর সংবাদ সম্মেলনে তারা পরিকল্পনার মূল বিষয়বস্তু ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন। এ সময় কমিশনের সভাপতি সাবেক হাইকোর্ট বিচারপতি শামীম হাসনাইন, অন্যান্য সদস্যরা, এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও ষড়যন্ত্রের সূচনা হয়েছিল, যেখানে কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগদান ছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে সময়ের অভাবে তাদের নাম ও ভূমিকা সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।

তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং অন্য নিকটবর্তী আসনগুলোতে নিয়ন্ত্রিতভাবে নির্বাচন আয়োজন করা হয়। তথ্য অনুযায়ী, এই ভোটের ফলাফল ছিল সম্পূর্ণ সাজানো ও পরিকল্পিত। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখার জন্য এই কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আন্তর্জাতিক সমালোচনার পর, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ একটি বুঝে-শুনে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করে। এর ফলে বিরোধী দলগুলো, বিশেষ করে বিএনপি, অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিতে পড়ে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৮ সালে ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে রাতের বেলায় ভোটের সিল মারার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ জয় নিশ্চিত করা হয়। নির্বাচন পরিচালনা ও ফলাফলের এই প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের মধ্যে অসততা ও প্রতারণা ছিল স্পষ্ট। তবে ২০২৪ সালে বিরোধী দলগুলোর নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ‘ডামি’ প্রতিযোগিতা চালিয়ে আনার ষড়যন্ত্র করা হয়।

কমিশন জানায়, এই তিনটি নির্বাচন ছিল কেন্দ্রীয় উচ্চ পর্যায়ের সুপারিশ ও পরিকল্পনা অনুযায়ী, যার বাস্তবায়নে দেশের প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন এবং গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশ নিয়োজিত ছিল। বিশেষ এক সেল গঠন করে, যা ‘নির্বাচন সেল’ নামে পরিচিত হয়। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নির্বাচন ব্যবস্থা মূলত প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, যেখানে নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক দায়িত্ব কমে আসে।

তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই কমিশনের গঠন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলো দেশের ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন কৌশলে ভোটাধিকারের অপব্যবহার, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লঙ্ঘনসহ নানা অভিযোগের বিষয়ে এই প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ অধ্যায়।