০৭:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

তারেক রহমান: দলের শীর্ষ নেতৃত্বে তৃণমূল থেকে উদ্ভূত নতুন অধ্যায়

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নতুন যুগের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন তারেক রহমান। সাম্যের মূল্যবোধ, সৌজন্য এবং সম্পর্কের সম্মানকে ভিত্তি করে তিনি দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন। এই পরিবর্তন কেবলই রাজনৈতিক চোখে দেখা অবদান নয়, এটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক সজাগ উদ্যোগের সূচনা। তার সরাসরি উপস্থিতির মাধ্যমে উঠে এসেছে যে, রাজনীতি মানে কেবল ক্ষমতা অর্জন নয়; এটি মানুষের মান উন্নয়ন, প্রতিপক্ষের সঙ্গে সহনশীলতা ও জাতির প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতা। ১৭ বছর পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে তিনি হিংসা ও বিদ্বেষের রাজনীতি থেকে বের হয়ে ইতিবাচক ও গঠনমূলক রাজনীতির দৃঢ় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। একজন জ্ঞानी ও প্রাজ্ঞ নেতা হিসেবে তিনি দেশের সব স্তরের মানুষের নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার জন্ম ১৯৬৫ সালে, והוא বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও রাজনৈতিক উত্তপ্ত সময়ের প্রত্যক্ষ সাক্ষী এবং অংশীদার। বিপর্যয় ও প্রতিকূলতা পার করে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। ১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের নির্বাচনের আগে গৃহবন্দি এড়িয়ে তিনি প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের সামনে এসে নিজের রাজনৈতিক বক্তব্য প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি তুলে ধরেন কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা ও আন্দোলন দমন কার্যক্রম। এর কিছু দিনের মধ্যে জেনারেল এরশাদের স্বৈরাচারী সালাতে তাকে ও তার মাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি তার মাকে নিয়ে সুরক্ষিতভাবে রাজপথে সক্রিয় অংশ নেন। ১৯৮৮ সালে গাবতলী উপজেলার একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন এবং দলের তৃণমূল স্তরে সংগঠন গড়ে তুলতে সক্রিয় হয়ে উঠেন। এরপর ১৯৯১ সালের নির্বাচনের প্রচারে তিনি পাড়ি জমান দেশের প্রত্যেক জেলায়, যেখানে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করে এবং বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। দলীয় ভিত্তি শক্তিশালী করতে তিনি তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়াকে গ্রহণযোগ্য ও গণতান্ত্রিক রূপ দেন। ১৯৯৩ সালে বগুড়ায় অনুষ্ঠিত তার উদ্যোগে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন শুরু হয়, যা অন্যান্য জেলায়ও প্রসারিত হয়। ২০০১ সালে তিনি স্থানীয় সমস্যা সমাধান ও সুশাসন বিষয়ে গবেষণার জন্য ঢাকায় একটি অফিস চালু করেন, যেখানে তিনি বিভিন্ন সচেতন মহল এবং বিশ্লেষকদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করতেন। এর ফলশ্রুতিতে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। তার পরিবারের সন্তান হয়েও, তিনি কোনো মন্ত্রিত্ব বা সংসদে পদ গ্রহণ না করে দলের তৃণমূল শক্তিশালী করতে মনোযোগ দেন। এ কারণেই ২০০২ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটি তাকে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদকপদে মনোনীত করে। ২০০৫ সালে তিনি দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলনের আয়োজন করেন, যেখানে তিনি কৃষকদের ভর্তুকি, বয়স্ক ভাতা, পরিবেশ রক্ষার পদক্ষেপ এবং নারী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি নিয়ে গণপ্রচারণা চালান। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি সমাজের বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তনের সূচনা করেন। ২০০৭ সালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সামরিক শাসন জারি হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়; বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় তাকে জেল ও নির্যাতন চোটে। এরপর জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ণ করতে তাকে দেশে ফিরতে বাধা দেওয়া হয় ও নানা ধরনের মামলা দায়ের করা হয়। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা হয়, যার জন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০০৯ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নির্বাসনে থাকলেও দলের তৃণমূল ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যুক্ত থাকেন ও পুনর্গঠনমূলক কাজ চালিয়ে যান। ২০১৮ সালে তার মা, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি হলে তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তখন থেকে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘তারেক রহমানের চিন্তা ও দর্শন মূলত জিয়াউর রহমানের মতো।’ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করে তিনি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে জ্ঞানভিত্তিক ও উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে গড়ে তুলতে চান। দেশের প্রতিটি খাতের সঙ্গে তার পরিচিতি রয়েছে, এবং আরও আগ্রহ নিয়ে তিনি দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন—এটাই হচ্ছে তার নেতৃত্বের স্বাভাবিক ধারা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

তারেক রহমান: দলের শীর্ষ নেতৃত্বে তৃণমূল থেকে উদ্ভূত নতুন অধ্যায়

প্রকাশিতঃ ১১:৪৯:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নতুন যুগের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন তারেক রহমান। সাম্যের মূল্যবোধ, সৌজন্য এবং সম্পর্কের সম্মানকে ভিত্তি করে তিনি দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন। এই পরিবর্তন কেবলই রাজনৈতিক চোখে দেখা অবদান নয়, এটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক সজাগ উদ্যোগের সূচনা। তার সরাসরি উপস্থিতির মাধ্যমে উঠে এসেছে যে, রাজনীতি মানে কেবল ক্ষমতা অর্জন নয়; এটি মানুষের মান উন্নয়ন, প্রতিপক্ষের সঙ্গে সহনশীলতা ও জাতির প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতা। ১৭ বছর পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে তিনি হিংসা ও বিদ্বেষের রাজনীতি থেকে বের হয়ে ইতিবাচক ও গঠনমূলক রাজনীতির দৃঢ় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। একজন জ্ঞानी ও প্রাজ্ঞ নেতা হিসেবে তিনি দেশের সব স্তরের মানুষের নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার জন্ম ১৯৬৫ সালে, והוא বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও রাজনৈতিক উত্তপ্ত সময়ের প্রত্যক্ষ সাক্ষী এবং অংশীদার। বিপর্যয় ও প্রতিকূলতা পার করে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। ১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের নির্বাচনের আগে গৃহবন্দি এড়িয়ে তিনি প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের সামনে এসে নিজের রাজনৈতিক বক্তব্য প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি তুলে ধরেন কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা ও আন্দোলন দমন কার্যক্রম। এর কিছু দিনের মধ্যে জেনারেল এরশাদের স্বৈরাচারী সালাতে তাকে ও তার মাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি তার মাকে নিয়ে সুরক্ষিতভাবে রাজপথে সক্রিয় অংশ নেন। ১৯৮৮ সালে গাবতলী উপজেলার একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন এবং দলের তৃণমূল স্তরে সংগঠন গড়ে তুলতে সক্রিয় হয়ে উঠেন। এরপর ১৯৯১ সালের নির্বাচনের প্রচারে তিনি পাড়ি জমান দেশের প্রত্যেক জেলায়, যেখানে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করে এবং বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। দলীয় ভিত্তি শক্তিশালী করতে তিনি তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়াকে গ্রহণযোগ্য ও গণতান্ত্রিক রূপ দেন। ১৯৯৩ সালে বগুড়ায় অনুষ্ঠিত তার উদ্যোগে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন শুরু হয়, যা অন্যান্য জেলায়ও প্রসারিত হয়। ২০০১ সালে তিনি স্থানীয় সমস্যা সমাধান ও সুশাসন বিষয়ে গবেষণার জন্য ঢাকায় একটি অফিস চালু করেন, যেখানে তিনি বিভিন্ন সচেতন মহল এবং বিশ্লেষকদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করতেন। এর ফলশ্রুতিতে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। তার পরিবারের সন্তান হয়েও, তিনি কোনো মন্ত্রিত্ব বা সংসদে পদ গ্রহণ না করে দলের তৃণমূল শক্তিশালী করতে মনোযোগ দেন। এ কারণেই ২০০২ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটি তাকে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদকপদে মনোনীত করে। ২০০৫ সালে তিনি দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলনের আয়োজন করেন, যেখানে তিনি কৃষকদের ভর্তুকি, বয়স্ক ভাতা, পরিবেশ রক্ষার পদক্ষেপ এবং নারী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি নিয়ে গণপ্রচারণা চালান। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি সমাজের বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তনের সূচনা করেন। ২০০৭ সালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সামরিক শাসন জারি হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়; বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় তাকে জেল ও নির্যাতন চোটে। এরপর জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ণ করতে তাকে দেশে ফিরতে বাধা দেওয়া হয় ও নানা ধরনের মামলা দায়ের করা হয়। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা হয়, যার জন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০০৯ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নির্বাসনে থাকলেও দলের তৃণমূল ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যুক্ত থাকেন ও পুনর্গঠনমূলক কাজ চালিয়ে যান। ২০১৮ সালে তার মা, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি হলে তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তখন থেকে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘তারেক রহমানের চিন্তা ও দর্শন মূলত জিয়াউর রহমানের মতো।’ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করে তিনি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে জ্ঞানভিত্তিক ও উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে গড়ে তুলতে চান। দেশের প্রতিটি খাতের সঙ্গে তার পরিচিতি রয়েছে, এবং আরও আগ্রহ নিয়ে তিনি দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন—এটাই হচ্ছে তার নেতৃত্বের স্বাভাবিক ধারা।